'রোম যখন পুড়ছে নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন'। পৃথিবীর কত মানুষ বাঁশি বাজায়, বাজিয়েছে, ভবিষ্যতেও বাজাবে। বাঁশি বাজানোর সময় কতকিছুই হতে পারে, বাঁশির আওয়াজে কি কোথাও কর্ণপাত করা যায়? তখন হয়তো দু'একটা বাড়িঘর বা গোটাকয়েক শহর পুড়েও যেতে পারে। এর সাথে বাঁশি বাদকের কী সম্পর্ক। কোন সম্পর্ক নেই, কিন্তু রোমান সম্রাট নিরো বাঁশি বাজিয়ে ইতিহাস হয়ে গেলেন (খ্রিষ্টপূর্ব ৬৪)। তিনি ইতিহাস হয়ে গেলেন, কারণ দেশের ক্ষমতাসীন সম্রাট হয়েও রোম শহর পুড়ে যাচ্ছে তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে তিনি বাঁশি বাজিয়েই যাচ্ছিলেন। কারণ 'রোম শহর একদিনে গড়ে ওঠে নি।' তিলে তিলে গড়ে ওঠেছিল পাহাড়ের ওপরের প্রাচীন শহরটি। বিধ্বংসী আগুনে ১৪টি রোমান শহর পুড়ে ছাই হয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর ৭টি। সম্রাট নিরো একটি অনুষ্ঠানে বীণা বাজাচ্ছিলেন, বাঁশি নয়। কারণ তখনও বাঁশির পয়দা হয়নি। যা হোক, সম্রাট যে ওই অগ্নিকাণ্ডে চিন্তিত ছিলেন না, সেটিই আক্ষেপের বিষয়। লোককথায় প্রচলিত আছে যে, রোম পুড়িয়ে সম্রাট নিরো নাকি প্রাসাদ বানাতে চেয়েছিলেন।
গতকাল পদ্মার লঞ্চডুবিতে (শিবগঞ্জের পাঠুরিয়া) আজ সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৬৭তে দাঁড়িয়েছে। এপর্যন্ত প্রায় ১০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে রাজনৈকি সহিংসতার ফলে। ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে ওঠছে; রপ্তানি স্থগিত; যাতায়াত বন্ধ থাকায় কৃষকের ফসল মাঠেই পঁচতেছে। এদিকে আমাদের রাজনীতিকেরা যাদেরকে জনগণ নিজেদের অভিভাবক মনে করে, তারা টেলিফোনে ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত আছেন। আমরা যারা শহরে বাস করছি, তারা তাজা খবর (ব্রেকিং নিউজ) পেয়ে তৃপ্ত হচ্ছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



