somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য পোষ্টঃ প্রেমের দেবতার কাছে একজন হৃদয়ভাঙ্গা প্রেমিকের চিঠি

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মহা প্রেমিক দেবতা,

পত্রের প্রথমেই আমার আদাব গ্রহণ করবেন। আশা করি ভালাই আছেন। আমি মোটেও ভালা নাই।

এইখানে বেসামাল ঠাণ্ডা পরছে। লেপের নিচে একা থাকতে থাকতে পুরাই পেরেসান। বিয়া করবার মুন চায়। /:) নানা একদিন কইছিলো আমার বয়সে তিনি নাকি দুই বাচ্চার বাপ হইছিল। চিন্তা করেন একবার আমি এই বয়সে লেপের নিচে শুইয়া শুইয়া ...............। তাগোই কি সব আমাগো কি সখ আল্লাদ কিচ্ছু নাই। যাই হোক আমি আজকে আপনারে বিয়ার জন্য ডিস্টার্ব করবার আসি নাই। আমি আসছি আমার গার্লফ্রেন্ডরে নিয়া কিছু আরজি পেশ করবার।

বিয়া যেহেতু করবারই পারলাম না তাই বউয়ের ঝাড়ি গার্লফ্রেন্ডরে দিয়া মিটাই। দুধের সাধ ঘোলে মিটানো টাইপ একটা ব্যাপার। বিজ্ঞান যতো আগাইছে বাঙ্গালীর প্রেমও ততো আগাইছে। এখন দুই বন্ধু আলাপ করে এমনে,
১ম বন্ধুঃ কিরে, তুই না কইছিলি এই মাইয়ার লগে মাসখানেক প্রেম কইরা আমারে দিবি। এহন দুই মাস হইয়া গেলো দেস না ক্যান?

২য় বন্ধুঃ আর কইছ না মাইয়া বহুত চালু। আর কয়দিন লাগবো দিতাছি সবুর কর। সবুরে মেওয়া ফলে।

মাইয়ারা যে খুব একটা পিছাইয়া আছে তা কিন্তু না। দুই মাইয়ার কথোপকথন,
১ম জনঃ আর বলিস না, ওর সাথে না সেদিন সিনেপ্লেক্সে গেছি। ওর এক কাজিন ছিলো যা হ্যান্ডসাম। আর ওর গার্লফ্রেন্ডটা না চরম খ্যাত। ছেলেটার ফেবুর আইডি আছে নে তুই পটা।

২য় জনঃ আরে আগে কইবি না। আইডি দে। এখন ই মুলা ঝুলাইয়া দি।

আমার আর আমার হ্যাতের প্রেম এমন না। তার সাথে আমার দীর্ঘ সাত বছরের রিলেসন। প্রথম প্রথম অনেক সুখেই দিনানিপাত করছি। তাকে দেখলে মনে হতো আমি সপ্তম আকাশে আপনাগো লগে ( দেবতাগো লগে ) নান্নার বিরিয়ানি খাইতেছি। ঘুমানোর আগে তার মুখের ভয়েস না শুনলে ঘুমবাবু আসার প্রশ্নই উঠেনা। তার ভয়েস শোনার পর মনে হইতো ১০ এম জি ট্রিপটিন ট্যাবলেট পানি দিয়া খাইয়া ফালাইছি। কিন্তু এখন যতই দিন যাচ্ছে আমার উপর তার অধিকারের মাত্রা ( নাকি নির্যাতনের মাত্রা) দিন দিন বেরেই যাচ্ছে। এখন অলটাইম টেনশনে থাকি কখন কি হয়, কখন কি শুনতে হয়। তার কিছু অধিকারের মাত্রা (নির্যাতনের মাত্রা) আমি আপনার লগে শেয়ার করতাছি আশায় আছি শুধরাইয়া দিবেন।

১) তারিখ মনে রাখাঃ তার জন্মদিন, আমাগো পোরথম দেখা, কে কবে আই লাভ ইউ কইছি, তার পোষা টিয়া কবে কথা কইছে আরো কতশত যে তারিখ এক আপনি ই জানেন। আপণেই কন কতো ঝামেলায় থাকি এতো কিছু কি মনে থাকে।

২) শপিং; কোন বান্ধবী নতুন কি কিনছে, কিসের সাথে কি ম্যাচ কইরা পরা লাগবে, কি যে ভয়াবহ অবস্থা। একদিন জুতা কিনতে যাইয়া ৪ ঘণ্টা ঘুইরা কানের দুল কিনছে। বাসায় ফেরার সময় কয়, "ওহো জুতা কিনতে না বের হইলাম। ইস মনেই পরল না। কালকে একটু সময় কইরো তো। বের হব। আমি ..........

৩) ঝগড়াঃ আর ঝগড়া যদি একবার শুরু হয় তাইলে সে তো একজন পুরাই ইতিহাসবিদ হইয়া যায়। আমি কবে কি করছিলাম, কবে অন্য একটা মাইয়ার দিকে চাইছিলাম। সব দেহি তারিখ, সময় সহ তার মুখস্থ। আমি চিন্তা করি কোন মাইয়ার দিকে চাইছি। সেই চিন্তায় থাকতে থাকতে এদিকে আমার সব শেষ............। পোরথম পোরথম জবাব দেয়ার চেষ্টা করতাম এখন ভাবি চুপচাপ থাকাই শ্রেও।

৪) অন্য মেয়ে দেখাঃ ভুলেও যদি তার সামনে বা ফোনে অন্য কোনও মেয়ের প্রশংসা করছি তাইলেই হইছে। আর একটা ট্রয় নগরী ধ্বংস হইয়া যাইবো।

আর বেশি কইলাম না। আপনার তো অনেক ক্ষমতা আপনে চাইলেই অন্য কোনও মেয়ে দিতে পারেন। কিন্তু হাজার হোক আমার প্রথম প্রেমিকা যত কিছুই করুক তাকে ভোলা তো আমার কোনভাবেই সম্ভব না। কারণ তাকে তো আমি খুউব ভালবাসি। আশা করি তাকে একটু ঠিকঠাক কইরা দিবেন।


ইতি
একজন হৃদয়ভাঙ্গা প্রেমিক



বি দ্রঃ সব চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তবে কাহারো সাথে বা কাহারো গার্লফ্রেন্ডের সাথে মিলে গেলে কর্তিপক্ষ দায়ি নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:২১
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×