somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছবি ব্লগ-জার্মানদের সাথে পাব্লিক ভিউতে ফুটবল ম্যাচ দেখা

০৯ ই জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪। সারা বিশ্বে এ নিয়ে চলছে উন্মাদনা আর তার ব্যাতিক্রম ও নেই জার্মানিতে । পড়াশুনা আর কাজের ফাকে একটু আকটু খেলা দেখা হলেও জার্মানির খেলা দেখা মিস হয় না । আর কলিগদের একেক জনের ছুটির দিন একেক দিন হওয়াতে সবাই এক সাথে বসে খেলা দেখাও হয় না। কিন্তু হঠাত করে গত ২৬ জুন জার্মান - ইউএস এ এর খেলার দিন সৌভাগ্যক্রমে ২ একজন ছাড়া আমাদের সবারই ছুটি থাকায় খেলাটা সবাই একসাথে দেখার একটা প্ল্যান হয়ে গেল। আর তাই বাসায় বসে টিভিতে দেখার চেয়ে একসাথে বড় স্ক্রিনে অনেকের সাথে দেখার মজাই আলাদা তাইতো প্ল্যান হল ২০ কিলোমিটার দূরে খেলা বড় স্ক্রিনে খেলা দেখতে যাব। খেলা শুরু হবে বিকাল ৬টায় কিন্তু পরে গেলে জায়গা পাওয়া যাবে না তাই আমদের প্ল্যান আমরা বিকাল ৪.৩০ এর মধ্যেই সেখানে পৌছতে হবে। তাই আমাদের যাত্রা শুরু হবে বিকাল ৪ টায়। যেহেতু যেতে ১৫ মিনিটের বেশি লাগবে না আর রাস্তা থেকে আমাদের বসকে সাথে করে নিয়ে যেতে হবে কারন খেলার পর তার নাকি গাড়ি চালানোর মুড নাও থাকতে পারে। তাই ৪ টাই বেস্ট টাইম। সব মিলিয়ে আমরা যাত্রি ৭ জন ২ টা গাড়িতে আরামসে জায়গা হয়ে যাবে। পরিকল্পনা মতই হল সবকিছু। ৪.৩০ এর পৌছে গেলাম আমাদের নির্ধারিত গন্ত্যব্য স্থল Villa Junghans Schramberg , এটি একটা হোটেল এন্ড রেস্ট্রুরেন্ট , তারা বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার আয়োজক। শুরুতেই কয়েকটি ধাপের সিড়ি পেডিয়ে পাহাড়ের উপর উঠেগেলাম ।



এখানে দেখি সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে। বুঝতে পারলাম টিকেট কাটতে হবে।



২ ইউরো দিয়ে টিকেট কেটে সামনে এগুতেই সারি সারি চেয়ার সাজানো । প্রচন্ড রোদ থাকা স্বত্বেও সামনের দিকের চেয়ারগুলু ইতিমধ্যে ফিলাপ হয়ে গেছে।


টিকেট কেটে ঢুকার পরেই তার পাশে দেখতে পেলাম আর একটা কাউন্টার , যেখান থেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে টোকেন কিনে নিতে হবে খেলা দেখার সময় কিছু খেতে চাইলে বা ড্রিঙ্কস কেনার জন্য এই ব্যবস্তা। ১০ বা ২০ ইউরো এর টোকেন। বুদ্ধিটা ভালই। আগ্রিম ১০/২০ ইউরো এর টোকেন কিনে নিয়ে তার পর যাই কেনের তার সম পরিমান টাকা তাঁরা এই টোকেন থেকে কেটে নেবে। আপনি যদি আপনার কেনা টোকেনের ১০/২০ ইউরো খরচ করতে না পারেন তা হলে প্রব্লেম নাই। যাবার সময় আপনার বাকি টাকা ফেরত দেবে।


ডিঙ্কস আর খাবারের জায়গা আলাদা, এটা হচ্ছে ড্রিঙ্কস স্টেশন। দাম একটু বেশি, মিনারেল ওয়াটার, কোলা থেকে শুরু করে বিয়ার, ওয়াইন সবই আছে


ফুটবল খেলা দেখা হবে কিন্তু সেখানে আড্ডা আর ড্রিঙ্কসের ব্যবস্তা থাকবে না তাতো হতে পারে না। তাইতো সারি সারি চেয়ারে পরে বড় বড় ছাতার নিচে গোল টেবিলের চারআসে চেয়ার সাজানো আছে আড্ডা আর খাবার দাবারের জন্য।


খেলার শুরু হতে এখনও ঘন্টা খানেকের মত সময় রয়েছে আর এরই মাঝে আড্ডা আর হাল্কা নাস্তা চলছে


খেলা শুরু হতে আর কিছুটা টাইম আছে তার আগে ফটোসেশন না হলে কি হয়। আর যাই হোক সবাই যার যার ফেসবুকে স্ট্যাটাস আর গুড উইশতো দিতে হবে জার্মান টিমকে।




অবশেষে খেলা শুরু হচ্ছে...জার্মান জাতীয় সংগীত শুরুর সাথে সাথেই সবাই দাঁড়িয়ে গেল আর সাথে সাথে গাইতে শুরু করল , অনেকে আবার কাধে কাধ রেখে গাইছে.।।


খেলা চলছে হাফ টাইমের কাছাকাছি কিন্তু কোন গোল হয় নি এখনো যখনি কোন গোলের চান্স মিস হয় তখনই চারপাস থেকে আফসোসের উচ্চারন আসতে থাকে,আর সাথে সাথে হাত তালিতো আছেই,কিছু কিছু পাব্লিক আবার উঠে দাঁড়িয়েও যাচ্চে।


হাফ টাইম পেরিয়ে ৫৪ মিনিটে শেষ এখনো কোন গোল হল না, ৫৪ মিনিটে মুলার যখন অবশেষে সেই প্রতাশিত গোলটি করল তার পরের কিছু মুহুর্ত


খেলার বাকি সময়টা কেটে গেল গোলের সম্ভবনা তৈরির মাধ্যমে ।আর দেখতে দেখতে ৯০ মিনিটও শেষ হয়ে গেল। আর জার্মানও জিতল ১-০ গোলে। এবার ফেরার পালা।।তাই আস্তে আস্তে বেরিয়ে যাচ্ছে সবাই



জার্মানিতে রাস্তায় সাধারনত বিনা প্রয়োজনে কেউ হর্ন বাজায় না । আর এটা অভদ্রততা ও আইনত দন্ডনীয় অপরাধ । কিন্তু খেলা শেষে এই নিয়মটা সিথীল হয়ে যায় । সবাই হর্ন বাজিয়ে আর পতাকা উড়িয়ে আনন্দ করতে করতে বাসায় ফিরছে। সারা রাস্তা জুড়েই এমন চিত্র দেখা যায় । অনেকেই বলে যে জার্মানিতে এক সাথে হর্ন বাজানো আর আনন্দ করে ফেরার এই চিত্র নাকি চার বছর পর পর শুধু বিশ্বকাপের সময় দেখা যায়।



গতকাল আবহাওয়া খারাপ থাকায় আর এক্সাম থাকায় ব্রাজিলের সাথের খেলাটা হোস্টেলে বসেই দেখতে হয়েছে, কিন্তু ফাইনার দেখব আবার পাব্লিক ভিউতে গিয়ে আশা রাখছি। ধন্যবাদ ধৈর্য ধরে লেখাটা পড়ার জন্য।


সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×