somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগার সিডির দোকান মৃত প্রায়

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৫:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ক’দিন ধরেই খুব ধকল যাচ্ছে। কী শরীর কিংবা মনে। কিছুই ভাল লাগছেনা। তার উপর আবার শুরু হয়েছে পরীক্ষা। ব্লগেও খুব বেশী একটা আসা হয় না। নেটে বসলে প্রথম আলো কিংবা বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর এ ঢুঁ মেরে আসি। কিন্তু সেখানেও গতানুতিক খবর :( । হয়, পদ্মাসেতু, না হয় হরতাল, আর ধর্ষণের খবর তো আছেই। এসব খবর অনেকটা হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মতো হয়ে গেছে। খেয়েধেয়ে বলি আর ভাল লাগে না, এবার একটু চেঞ্জ করা যায় না..। মন ভাল করতে, পরিবারের সদস্যদের কাছে ফোন দেই। কিন্তু অপরপাশ থেকে তাদেরও নীরবতা। মনে মনে বলি- ফোন দিয়ে মনে হয় ভুলই করলাম। রবী ঠাকুরের ফটিক গল্পে পড়েছিলাম-তের চৌদ্দ বছরের ছেলেদের মতো এমন বালাই আর নেই। অর্থাৎ তাদেরকে নাকি কেউ সহ্য করতে পারে না X(( । কিন্তু ১৩/১৪ বছর তো সেই কবেই ফেলে এসেছি। তারপরও কেন..। নাহ্ রবী ঠাকুর আরও ক’বছর বাড়িয়েও লিখতে পারতেন... B-) । সেদিন বসে বসে ভাবছি..আমরা যতই বড় হচ্ছি, ততই আমাদের গন্ডিটা ছোট হয়ে আসছে। ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে শুরু করে সবকিছুতেই..। ছোট্ট থাকতে যেখানে ইচ্ছে সেখানে যেতে পারতাম। অন্য পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের মনোমালিন্য থাকলেও, তাতে আমার কিছু যায় আসতোনা। আমি দিব্যি ওইসব পরিবারে হানা দিয়েছি..হয় সেই পরিবারের ছোট্ট ছেলে কিংবা মেয়েটির সাথে কুতকুত, লুড, কিংবা টিভি দেখতে। ইশ্ কতই যে সৌন্দর্যে ভরা ছিল সেই দিনগুলি..।
এতটাই যান্ত্রিক হয়েছি আমরা যে. সহোদর ভাইবোনদের সাথেও বছরে একবার দেখা করার সুযোগ হয়ে উঠে না। হয়তোবা ফোন দিয়ে আমি খোঁজ খবরটা নেই। কিন্তু তারা যান্ত্রিকতা মেইনটেন করে চলেছেন। হা হা হা, ভালোই, ক্ষতি কী..?
সেদিন মাকে ফোন দিলাম। কিছুক্ষণ কথা বলে যা বুঝলাম, তিনিও একাকীত্বে ভুগছেন। অনেকটা আমার মতোই। তার ছেলেমেয়ে থেকেও প্রয়োজনে কাছে পান না, আর আমারতো ছেলেমেয়ে নেই (থুক্কু, আমিতো বিয়াই করি নাইক্কা), তারপরও যাযাবর হয়ে উঠতে পারিনি।
ইদানিং মনে হচ্ছে, সব মানুষই নিজকে নিয়ে ব্যস্ত। ব্যস্ত থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরও একাকীত্ব ঘুচাতে, একটু মনের কথা বলতে, খুনসুটি করতে মানুষকে মানুষের সাথে মেলামেশা করা উচিত, সেটিও অনেকে করছে না। অধিকাংশই কেমন জানি ঘরকুনো হয়ে পড়ছে। অবশ্য আমি নিজেও ইদানিং অনেকটাই ঘরকুনো, অন্যদের আর কী বলব।

তবু আনমনে গেয়ে উঠি-
আমার বেলা যে যায় সাঁঝ বেলাতে
তোমার সুরে সুরে, সুর মেলাতে...।
২২টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই ভুলে গেছে সবাই, শুধু জুলাই ভোলেনি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮


জুলাই কোটা আন্দোলনের প্রায় দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত দুই বছরে দেশে অনেক কিছু বদলেছে। সমাজের অনেক কুৎসিত দিক নতুন করে সামনে এসেছে। অনেক মানুষকে নতুন করে চেনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৬



হঠাৎ বৃষ্টি নামছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন আজ।
আমি শ্বশুরবাড়ির বারান্দায় বসে আছি এক মগ কফি হাতে নিয়ে সামনে ভেজা আকাশ। বাতাসে কেমন কাঁচা মাটির গন্ধ। এই গন্ধটা অদ্ভুতভাবে মানুষকে অতীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এ ডিসেকশন অব এ স্করপিয়ন

লিখেছেন আদম_, ২৯ শে মে, ২০২৬ রাত ১০:৪২



একজন বৃ্শ্চিক জাতক গান ভালোবাসে- গান সব রাশির জাতকরাই ভালোবাসে, তবে বৃশ্চিকের চয়েসটা ভিন্ন। বৃশ্চিক ভালোবাসে কোয়ালিটি, জেনুইনটি, অথেনটিসিটি। আউল-ফাউল জিনিস বৃশ্চিককে গেলানো যাবেনা- বৃশ্চিক গলার্ধকরণ করেনা খেলোয়ার জাহান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাতের আঁধারে কাঁদিছে যাঁহারা তাঁহাদের খোঁজ পিছে

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:৪১

বিত্তবানের সুখের সায়রে দুঃখের তরী মিছে।
তাঁরা, যাঁহাদের কাছে শত সুখ আছে তাঁহাদের দাম দিছে।
রাতের আঁধারে কাঁদিছে যাঁহারা তাঁহাদের খোঁজ পিছে।
তাঁরা, যাঁহাদের ঠোঁট হাসিতে মাতিছে তাঁহাদের খোঁজ নিছে।
— শ্রাবণ আহমেদ ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফামস স্ট্যাচু অফ দ্যা টাউন মিউজিসিয়ান অফ ব্রেমেন

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ৩০ শে মে, ২০২৬ রাত ১:৫৬



দুই বছর আগে গিয়েছিলাম, জার্মানির ব্রেমেন শহরে। সেখানে গিয়ে দেখা হয়েছিল ছোটবেলায় গল্পে শোনা চরিত্র গুলোর সাথে। গল্পের সেই চরিত্রগুলোকে কেউ সাজিয়ে রেখেছে এভাবে এই শহরে, যাওয়ার আগে জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×