somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোহিঙ্গা ইস্যু , মানবতার মরন

২১ শে মে, ২০১৫ রাত ১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ ,পরিচয়-
২০১২ সালের হিসাবমতে,প্রায় ৮,০০,০০০ রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করতো।বর্তমান মিয়ানমারের রোহিং (আরাকানের পুরনো নাম) এলাকায় এ জনগোষ্ঠীর বসবাস। ইতিহাস ও ভূগোল বলছে, রাখাইন প্রদেশের উত্তর অংশে বাঙালি, পার্সিয়ান, তুর্কি, মোগল, আরবীয় ও পাঠানরা বঙ্গোপসাগরের উপকূল বরাবর বসতি স্থাপন করেছে । তাদের কথ্য ভাষায় চট্টগ্রামের স্থানীয় উচ্চারণের প্রভাব রয়েছে। উর্দু, হিন্দি, আরবি শব্দও রয়েছে। রাখাইনে দুটি সম্প্রদায়ের বসবাস ‘মগ’ ও ‘রোহিঙ্গা’। মগরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। মগের মুল্লুক কথাটি বাংলাদেশে পরিচিত। দস্যুবৃত্তির কারণেই এমন নাম হয়েছে ‘মগ’দের। এক সময় তাদের দৌরাত্ম্য ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। মোগলরা তাদের তাড়া করে জঙ্গলে ফেরত পাঠায়। বুঝা গেল মুসলিমদের কল্যাণে রোহিঙ্গারা ইসলামের পথে আসলেও মগরা এখনো যাযাবর রয়ে গেছে । মুসলিমরা মগদের জঙ্গলে প্রেরন করার পরে এখনো জানোয়ার এর স্বভাব তাদের চরিত্র থেকে যায়নি ।

২,ইতিহাসের খলনায়ক ব্রিটিশদের মানবতা-
এক সময়ে ব্রিটিশদের দখলে আসে এ ভূখণ্ড। তখন বড় ধরনের ভুল করে তারা এবং এটা ইচ্ছাকৃত কিনা, সে প্রশ্ন জ্বলন্ত। আমাদের 'প্রাক্তন প্রভুরা' মিয়ানমারের ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ ধরনের কত যে গোলমাল করে গেছে ব্রিটিশরা! এ যেন ঠিক কাশ্মীর , ফিলিস্তিনের মত কাহিনি, যেখানে এই ব্রিটিশদের জন্যই মুসলিমরা আজো নির্যাতিত ।

৩, বাংলাদেশের অবদান-
আমাদের স্বভাব হল হুজুগে কথায় বিশ্বাস করা, রোহিঙ্গা নির্যাতন আজ শুরু হইনি । প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা নির্যাতনের স্বীকার হয়ে তাদের ১৯৭৮ সালে মায়ানমার সেনাবাহিনীর 'নাগামান' ('ড্রাগন রাজা';) অভিযানের ফলে প্রায় দুই লক্ষ (২০০,০০০) এবং ১৯৯১-৯২ সালে একটি নতুন দাঙ্গায় প্রায় আড়াই লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। তার মানে ৫৫ ভাগ রোহিঙ্গার আশ্রয় দুনিয়ার আর কেও দেয়নি......... বাংলার জনগণরাই দিয়েছে। আগে সবকিছু জানুন এরপরে বাংলাদেশকে নিয়ে প্রশ্ন করবেন। যেই দেশে দারিদ্র্ সীমার নীচে ৩২ ভাগ জনগন বাস করে সেই দেশ যদি একাই ৫৫ ভাগ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে পারে তবে তাকেই কেন প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা হচ্ছে??
৪, কেন দুনিয়ার সবাই নিরব রোহিঙ্গা ইস্যুতে ?
দুনিয়ায় কি আর সব দেশ মরে গেছে? সব মুসলিমরা কি মরে গেছে? ব্রিটিশ জানোয়াররা আসবেই না। যেমন তারা ফিলিস্তিন , কাস্মির,১৯৭১ এর যুদ্ধ তৈরি করে দিয়েছে।। এই রোহিঙ্গা ইস্যু সেই তাদের অবদান। মালয়সিয়া, ইন্দোনেশিয়া তে কি সব মুনাফিক রা বাস করে? মিডিয়ার বলি আজ বাংলাদেশ। কিন্তু ৭০০০ রোহিঙ্গা কে আশ্রয় দিবে মালয়সিয়া সেটা ফলাও করে প্রচার করা হয়, আর ৪.৫ লাখ রোহিঙ্গা যে আমরা আশ্রয় দিলাম তার জন্য জাতিসংঘ কয় টাঁকা বাংলাদেশ কে দিছে? মালয়সিয়া তে বাঙ্গালি মুসলিমদের অত্যাচারের কাহিনি নাই বললাম । আমাদের দেশেও অনেক বদমাইশ কে দেখি আমাদের কেই দায়ী করে। কেন তোরা ব্রিটেন , আমেরিকা রে বলতে পারস না আমরা ৫৫ ভাগ রোহিঙ্গা নিছি... তোরাও নে যেভাবে ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব তিমুর কে হেল্প করছস । তুর্কি রা সবসময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ছিল কামাল আতাতুরক ছাড়া । এরদেগান আজকের দিনের ২য় বায়জিদ , যে তার ভাইদের হেল্প করতে যুদ্ধ জাহাজসহ তাদেরকে আশ্রয় প্রদানে সাহসিকতা দেখিয়েছে যেখানে সুন্নি মুসলিম খ্যাত সৌদি আরব আংগুল চুষছে বসে বসে ।
কুরআনের একটি আয়াত মনে পড়ছে -- মুখে মুসলিম বলে পার পাওয়া যাবে না । বাংলাদেশের মত রাষ্ট্র যদি ৪.৫ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে পারে তবে দুনিয়ার সব থেকে ধনী সৌদি , কুয়েতিরা মাত্র ৮০০০ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে পারে না । তাদেরকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে যেসব মুসলিম ’ভাইয়েরা’ সাহায্যের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আন্দোলন শুরু করেছেন, সেসব ’ভাইয়েরা’ ইসলামের মানবতার শিক্ষাটাই বোধ হয় ভুলে বসে আছেন। তারা ভুলে গেছেন রোহিঙ্গারা স্রেফ মানুষ,তাদের ধর্ম পরিচয় আমাদের জানার দরকার নেই। একথাও সত্য আজ যদি রোহিঙ্গারা হিন্দু, বৌদ্ধ বা খৃষ্টান হতো তাহলে আমাদের ঈমানী ’ভাইদের’ অনেকেই ঈমানের পরীক্ষায় মানবিকতা বিষয়ে ফেল করতেন। নন মুসলিমদের মানবতার কথা না হয় নাই বললাম আর,কারন ব্রিটিশ ,আমেরিকান দের সভ্যতাই গড়ে উঠছে অমানবিকতার মোড়কে।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×