
বিহ্বল কণ্ঠে বললাম, কী দেবো তোমাকে বলো তো প্রতিদানে? আমি যে নিঃস্ব, নিঃসম্বল আপাদমস্তক!
আমাদের একটা মেয়ে হবে, দেখো! মেয়ের নাম দেবো প্রজ্ঞা পারমিতা! প্রতিস্বর ভেসে এল স্বপ্নসংলগ্ন সুবর্ণদ্বীপ থেকে!
আমি বাস্তব বিচ্যুত হলাম মুহূর্তের কুহকে, বললাম দৃষ্টি অপাপবিদ্ধ ভবিষ্যতে নিবদ্ধ করে, প্রীতিলতার মতো মুক্তিসংগ্রামী হবে আমাদের রাজকন্যা!
মেয়েটির মুখ রক্তশূন্য হলো সহসা! সভয়ে সে বলল, কখনো না! আমার মেয়েকে আমি কখনোই যেতে দেবো না মৃত্যুর মুখে!
কিন্তু সবাইকে যে মরতে হয় একদিন, মানুষের জন্মমুহূর্ত থেকেই শুরু হয় মৃত্যুর ক্ষণগণনা!
মেয়েটি চোখ বন্ধ করল, বিমর্ষ কণ্ঠে বলল, মৃত্যুর কথা বরং থাক! জীবনের আলোচনা হোক!
বাইরে তখন বৃষ্টি হচ্ছে!
শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টিতে স্নান সেরে নিচ্ছে পৃথিবী!
একটা নির্মাণাধীন বাড়ির চারতলার খোলা ছাদে শ্রাবণধারায় সিক্ত হচ্ছে একটা পুরুষ দোয়েল!
সাদা-কালোর মিশ্রণে রাঙানো সুঠাম বুক; ডানা, ছিপছিপে পুচ্ছ!
কী চঞ্চল চালচলন তার!
কী দুরন্ত দুর্বার তার স্নানের ভঙ্গি!
কী দুধধবল বক্ষদেশ! নিষ্কলুষ এই রঙের প্রলেপ লেজের পাশ ঘেঁষে চলে গেছে বহুদূর!
আর তার পিঠ কী চকচকে কালো!
যেন কাজল দেয়া! ঠোঁট থেকে ডানা, গলা-বুক স্পর্শ করে লেজের ডগা হয়ে এই কাজল কালো রঙ নেমে গেছে পায়ে!
একটু দূরে ছাদের এককোণে অস্থায়ী জলাধারের নিচে আকাশের সামান্য আড়ালে গম্ভীর মুখে দাঁড়ানো মেয়ে দোয়েলটি!
শ্রাবণধারা প্রবেশের সুযোগ তেমন নেই জলাধারের নিচের আপাত শুষ্ক স্থানটিতে!
পুরুষ দোয়েলের চাইতে আকারে কিছুটা ছোট হলেও বাস্তবজ্ঞান বেশ বড়সড়ই মেয়ে দোয়েলটির!
হুট করে নতুন জলে ভেজার ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক সে!
মেয়ে দোয়েলটির শরীরে কিন্তু কাজলের ছোঁয়া নেই!
কাজলের পরিবর্তে ধূসর কালো রঙে আবৃত তার স্নিগ্ধ দেহ!
দেখেই বোঝা যাচ্ছে বেশ শান্ত স্বভাবের সে!
মহাকাল নির্ধারিত বিশেষ কোনো মুহূর্তের ইশারায় শ্রাবণধারায় স্নান সেরে নেবার দ্বিধাটুকু কি কাটিয়ে উঠতে পারবে মেয়ে দোয়েলটি?
স্নানের সুতীব্র উত্তেজনায় আপ্লুত পুরুষ দোয়েলটি তাকাল মেয়ে দোয়েলটির দিকে!
লেজ নাচাল অবোধ্য মুদ্রায় বেশ কয়েকবার!
ব্যাস! মেয়ে দোয়েলটি বার দুয়েক ডানা ঝাপটে ছুড়ে ফেলল যুগসিদ্ধ জড়তার আদিম আবরণ!
দ্বিধা বিচূর্ণ করে নেমে এল জলে!
যৌথ স্নানের বুননে তৈরি হলো কাব্যিক নকশিকাঁথা!
আমি দেখলাম বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতির অপূর্ব লীলা দীর্ঘক্ষণ!
মেয়েটির বন্ধ দু-চোখে স্বপ্নের সন্তরণ তখনো!
গল্পটা এখানে শেষ করলে কেমন হয়?
যতিবিহীন কোনো আকস্মিক সংকটে নিপতিত হয় কি পাঠকের ভাবনা?
হলে হোক! যে গল্পের ভবিষ্যৎ জাগতিক সত্যির নিকটবর্তী নয়, তার কাছে প্রত্যাশা যত বাড়বে, প্রত্যাশাভঙ্গের আঘাতের তীব্রতাও যে বেশি হবে তত!
ছবি: সংগৃহীত

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


