somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুরু হল কাঁঠাল-প্রশস্তি

২৬ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অন্যান্য ফলের তুলনায় কাঁঠাল নিয়ে কথাবার্তা খুবই কম! অথচ কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল!
কাঁঠালের এই অবমাননা সহ্য করা কঠিন! কিন্তু এ ব্যাপারে কি-ই বা করতে পারে আমার মতো একজন নগণ্য মানুষ! কিছু করার মতো সুযোগইবা কোথায়!

সম্পূর্ণ কাকতালীয়ভাবে একটা সুযোগ সৃষ্টি হল কয়েকদিন আগে।
মুঠোফোনে খবর পেলাম আমার দূর সম্পর্কের এক কাকা হাসপাতালে।
বিত্তবান সেই কাকা যে গুরুতর কোন অসুখে আক্রান্ত, তা নয়। বাম পা’টা মচকেছে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে। কিন্তু বিত্তবান কাকার এই সামান্য শারিরীক সমস্যাই আত্মীয় স্বজনদের ভাবিয়ে তুলেছে ভীষণ! বেসরকারী হাসপাতালের সুসজ্জিত কক্ষে ভিড় জমাচ্ছে সকলে। শুনলাম, হাতে তাদের বিভিন্ন রকম ফল।

যতদূর জানি, এসমস্ত ফলের তালিকায় আপেল, আঙ্গুর, কমলা, নাশপাতি, বেদানা থাকে সাধারণত, থাকে আম, লিচুর মতো রাজসিক ফলও! কিন্তু কাঁঠাল থাকে না সচরাচর!
আমি সেই সুযোগটাই কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। ঠিক করলাম, অবস্থান নেবো জাতীয় ফলের পক্ষে!
রাস্তার ধারের এক অস্থায়ী দোকান থেকে তুলে নিলাম একটা কাঁঠাল। নির্দ্বিধায়।
বিসম আকৃতির সেই রসালো ফল নিয়ে হাজির হলাম হাসপাতালে কাকার কক্ষে!

কাকার কক্ষে তখন অনেক লোকের ভিড়।
কাকা-ভাস্তের সরস সম্পর্কের সূত্রে ভিড় ঠেলে বিছানার কাছাকাছি পৌঁছলাম। বিছানা সংলগ্ন টেবিলের উপর আত্মীয় স্বজনদের আনা বিজাতীয় ফলগুলোকে সরিয়ে জাতীয় ফল কাঁঠালকে রাখলাম সশব্দে!
কাঁঠালের সশব্দ উপস্থিতিতে কি বিব্রত হল সবাই?
চোখগুলোতে কি ফুটে উঠল বিরক্তির চিহ্ন?
কাকার মুখের দিকে তাকালাম। চাপা একটা অস্বস্তির অবস্থান সেখানে!
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অপ্রস্তুত হলাম আমি! মর্মাহতও হলাম!
না! কাঁঠাল দেখে কাকার অন্তত উচিত হয়নি অস্বস্তিতে পড়া!

কাকার এই অস্বস্তিকে স্বস্তিতে পরিণত করব আমি! হ্যাঁ, করবই! প্রতিজ্ঞা করলাম!
সে কারণেই আরেকটা কাঁঠাল নিয়ে বাসায় ফিরলাম অল্প কিছুদিনের মধ্যেই। কাঁঠালের রসালো কোষে রসনা পরিতৃপ্ত করার পর সংগ্রহ করলাম আঁটিগুলো।
তারপর সেই আঁটিগুলো ভাল করে ধুয়ে রোদে শুকালাম বেশ কয়েকদিন।



শুকনো আঁটিগুলো শক্ত সাদা খোসায় আবৃত। খোসাগুলো অনাবৃত করার পরবর্তী পর্যায়ে কয়েকজন সহৃদয় বিবেকবান মানুষের সহযোগিতার ভিত্তিতে শুরু করলাম কাজ।



শুরুতেই কাঁঠালের আঁটিগুলো সেদ্ধ করলাম অনেকক্ষণ। সেদ্ধ আঁটিগুলোর উপর খয়েরী রংয়ের পাতলা আবরণ তুলে নিলেই মাখন রংয়ের শাঁস। শাঁসগুলো শিলনোড়ায় মিহি করে বেটে নিলাম আমরা। সেই বাটার পরিমান হল দুই কাপ।
প্রথমে এক কাপ ঘি কড়াইয়ে ঢেলে গরম করলাম। গরম ঘিয়ের ভেতর কাঁঠালের শাঁস বাটা ফেলে মাঝারি আঁচে নাড়লাম কিছুক্ষণ। এরপর এক কাপ নারকেল বাটা যোগ করে মিশ্রণটি জ্বাল দিলাম মিনিট বিশেক। তারপর মিশ্রণের সাথে এক কাপ চিনি এবং এক কাপ দুধের ক্ষীর মিশিয়ে আরো কিছুক্ষণ নাড়লাম।

মিশ্রণের প্রতিটি উপাদান পরস্পরের সাথে ভালভাবে সম্পৃক্ত হবার পর এলাচ-গুড়ো যুক্ত করে নামালাম একটি পরিষ্কার পাত্রে। পাত্রে নামানোর পর মিশ্রণের উপর ছড়িয়ে দিলাম কয়েক চামচ পেস্তা বাদাম, কাজু বাদাম কুচি এবং কিসমিস। তারপর পছন্দমতো টুকরো করে টুকটুকে লাল চেরিফল দিয়ে সাজিয়ে নিলাম নতুন স্বাদের এই খাবারটিকে।



এরপর সেই খাবার নিয়ে উপস্থিত হলাম কাকার বাড়িতে। হাতে ভিন্ন ধরনের খাবার দেখে কাকা আবার অস্বস্তিতে পড়লেন!
বারবার আশ্বাস প্রদানের পর খাবার মুখে তুললেন কাকা। খেতে খেতে চেহারায় ফিরল স্বস্তি।
তারপর?
তারপর আর কি! সবকিছু খুলে বলতেই শুরু হল কাঁঠাল-প্রশস্তি!


সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:২৫
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০১



বাঙ্গালীদের খাদ্যাভাস বদলে গেছে।
অদ্ভুত সব খাবার মানুষ এখন খায়। আগ্রহ নিয়েই খায়। ইউটিউব দেখে মানুষের চিন্তা চেতনা এবং ব্যবহার বদলে গেছে। বাংলাদেশে খাবারের ব্যবসায় লস নাই। মানুষজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানে না.....অপ্‌সরাপু মেইড মাই ডে!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১২

গানঃ কেউ জানে না
গানের লিংক - https://on.soundcloud.com/t6S1rpHbzq62HoSW98



হয়নি বলা হয়নি বলা...
সবচে' আপন যে জন ছিলো
সবচে' দূরের মানুষ সেও।
হঠাৎ কোথা হারিয়ে গেলো!
একটা অজান সূর।
কোন সুদূরে কোন অপারে
কোন সে অচিনপুর!


==========
কবিতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুভ জন্মদিন আফীক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৩


তোর সাত বছর
কোন দিক দিয়ে গেলো
মনেই পড়ছে না;
জানিস কি অদ্ভুত সময়?
সময়ের উষ্ণভাজে
বেঁচে থাকাটাই ১ বিস্ময়!
শুভ জন্মদিনের
শুভেচ্ছাটা আরও খুশি
যেনো রঙিন ক্ষণ;
শত কষ্টের মাঝে মানুষ
হওয়াটা আনন্দাশ্রু;
মানুষের মত মানুষ হও
শুভ জন্মদিন- শুভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের স্বাস্থ্য ভালো?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১




ব্লগ কেমন আছে? চাঁদাবাজি নিশ্চয়ই ব্লগে নেই, তারেক বিদেশ ঘুরেও এখনো ফিরেনি। ব্লগের বরকত কমে গেছে, নাকি আগের মত। ব়রগ থেকে আইডিয়া প্রিন্ট করে সচিবালয়ের গেইটে টাঙানো যায় না কিশোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×