
কলম ঘুরাইতে পারবা?
মানে কি?
মানে হইলো একটু আধটু লেখালেখি আর কি!
খাইছে!! বিয়ার লগে কলম ঘুরানের কি সম্পর্ক!!
সম্পর্ক আছে।
তাইলে আমি ফেল! কলম ঘুরাইতে আমি পারতাম না মইরা গেলেও!
আর তাইলে কিছুই করনের নাই। আমারে বিয়া করনের কপাল কইরা আসো নাই তুমি। মইরাই যাও বরং আল্লাহর নাম নিয়া!
মনে দাগা দিয়া এমন কথা তুমি কইতে পারলা!! এতোদিনের পিরীত তোমার লগে!!
পিরীতের মা’য় মরছে। আমার বাজানের এইটা একটা আউশও কবার পারো। কলম ঘুরাইতে পারে একটু আধটু এমন পোলার লগে একমাত্র মাইয়ার বিয়া দিবেন তিনি।
ক্যামনে কি!! আমি নাদান পোলা!! সিধাসাদা এক্কেরে!! চাক্কা ঘুরাইয়া খাই! ছাগলনাইয়া টু গাইবান্ধা, ঘোড়াশাল টু ভেড়ামারা- বিস্বাদমুখে স্টিয়ারিং ধইরা বইসা থাকি! হেই আমি ঘুরামু কলম!! পাগলে পাইছে তোমারে!!
হ। পাগলেই পাইছে। নাইলে তোমার লাহান উষ্টা-কপাইল্যা ফকিরের লগে আমার লাহান রাইজকইন্যার পিরীত হয়!
হুনতে তিতা লাগতেছে মেলা, তয় কতা কইলাম সইত্য! সইত্য কতারে আমি আবার দাম দেই।
তোমার দামের মুখে পিছা মারি আমি!
জান গো, জান, যা-ই কও, সোজা রাস্তা ছাড়ো! লও, আমরা ফুইট্টা যাই। তোমার বাজান কিছুতেই বুঝতো না গরীবেরও মন আছে! তোমার বাজান ট্যাকার ওপর আইট মাইরা বইসা থাইকা কোন মতেই মাইন্যা নিতো না আমাগো দুইজনের অমর প্রেমডারে। যেই প্রেমে কোন ছলনা নাই! যেই প্রেমে আমরা দুইজনেই জান কোরবানি করতে রেডি! বাড়ি গাড়ি থাকলে মাইনষ্যে আন্ধা হইয়া যায়, সম্পদের গরমে হেরা ধরারে সরা জ্ঞান করে। হেরা জানে না পিরীতের ভিতরে কোন জাইত-পাইতের কারবার নাই। পিরীতের ভিতরে কোন ধনী-গরীবের ভেদাভেদ নাই। হেরা জানে না পিরীত কোন দুনিয়াবি জিনিস না। বই পুস্তকে বড়ো বড়ো কইরা লেখা আছে, “প্রেমের অনির্বাণ শিখা যুগ যুগ জ্বলে, স্বর্গ থিকা আসে প্রেম স্বর্গে যায় চলে!!” তোমার আমার কতা মিছা হইবার পারে কিন্তু বই পুস্তকে লিখা কতা তো আর মিছা না!
অই! চুপ মূর্খ! আমার লগে সিনেমার ডায়ালগ মারো! আমার বাজানরে লইয়া উল্টা পাল্টা কতা কও! জুতা মাইরা লম্বা কইরা দিমু মুখ!!
দ্যাও জান। তাই দ্যাও! তোমার জুতায়ও আমার সুখ গো জান!
ভ্যাকর ভ্যাকর কম! শোনো, ফুটাফুটির মইধ্যে আমি নাই! বড়লোকের একমাত্র মাইয়া আমি! আমার বিয়া হইবো রাজকীয় হালতে। ঢাক ঢোল পিডাইয়া। আর আমার বাজানের দিলের খবর তুমি জানো কচুটা! আম্মার ইন্তেকালের পর থেইক্যা আমার বাজান রাইতদিন বাংলা সিনেমা দেখে! শবনম-সুজাতা-সুচান্দা থেইকা বর্ষা-মাহি-পরীমনি তক বেবাক হের দিলে সাইট্টা আছে আঠার লাহান! ছবি দেখতে দেখতেই ক্যাদার লাহান নরম কইরা ফালাইছে দিল। নরম দিলের কারণেই তোমার লাহান জাইতগুষ্টিসুদ্ধা ফকিরের লগে হুরপরীর লাহান একমাত্র মাইয়ার বিয়া দিতে হের আপত্তি থাকবো না। বাজানের রগ আমি চিনি ভালা। তয় কলম ঘুরাবার জাননই লাগবো পোলারে! পেডে দুই চাইর অক্ষর বিদ্যা থাকনের প্রমাণ আর কি!
কলম ছাড়া আর অন্য কিছু ঘুরাইলে কি চলে না গো জান!! তোমার লাইগা আমি দুনিয়াডারে ঘুরাইতে পারি!!
এতো মিডা কতার কাম নাই! ঘুরান লাগবো কলমই। বাজার-সদাইয়ের টোকাটুকিতে ঘুরাইলে কইলাম চলতো না। ঘুরান লাগবো ভদ্র-ভাদ্র কোন জায়গায়!
ভদ্র-ভাদ্র জায়গা আমি আবার পাইতাম কই! আমি চাক্কা ঘুরাইন্যা মানুষ!!
অই! কতা কম! আইজ থন লাইগা যাও কামে! ঠিক একমাস পরে দেখা করবা আমার বাজানের লগে। বাদবাকি ভ্যাজাল সামলামু আমি! অক্কে?
অক্কে জান!! উমমমমমম্মা!
একমাস পর। আলিশান বৈঠকখানায় হবু জামাই বসে আছে হবু শ্বশুরের সামনে।
তা বাজান কি কাম যেন করো তুমি??
আমি চাক্কা ঘুরাইয়া খাই খালুজান!
চাক্কা ঘুরান খারাপ না। রহমান, নাদিম, রাজ্জাক, উজ্জ্বল, ফারুক- কেডা না চাক্কা ঘুরাইছে কও!
জ্বি কতা সইত্য!
চাক্কা ঘুরাইছে বইল্যা হেরা যে শেষতক বড়লোকের মাইয়াগুলারে কব্জা করতে পারে নাই তা তো না!
জ্বি কতা সইত্য!
কতা আমি সইত্যই কই গো বাজান। তয় হেরা কইলাম চাক্কার লগে লগে কলম ঘুরাইয়াও খেল দেখাইছে জব্বর সময় সুযোগ মতো!!
জ্বি কতা সইত্য!
তুমি তো বাজান আইছো আমার একমাত্র মাইয়াডারে কব্জা করনের সৎ উদ্দেশ্য লইয়া- ঠিক কতা?
জ্বি কতা সইত্য!
তা, কলম ঘুরাবার পারোনি? নাকি চাক্কা ঘুরাইয়াই মাথা ফাঁক্কা!
জ্বি না খালুজান মাথা ফাঁক্কা না! কলমও ঘুরাই সময় সুযোগ মতো!
তা, বাজার-সদাইয়ের টোকাটুকিতে ঘুরাও, নাকি ভদ্র-ভাদ্র কোন জায়গায়?
ভদ্র-ভাদ্র জায়গায় ঘুরাই খালুজান!
কও কি! তা, কোনখানে ঘুরাও? কোন পেপার পত্রিকায় নি?
না না খালুজান! পেপার পত্রিকার বেইল নাই অখন! অচল মাল অখন পড়ে না মাইনষ্যে!
কও কি! তাইলে চল মাল কোনডা? মাইনষ্যে অখন কোনডা পড়ে তাইলে?
মাইনষ্যে পড়ে ব্লগ!
কও কি!
জ্বি খালুজান!
তুমি কি বাজান ব্লগে কলম ঘুরাও নি?
জ্বি খালুজান!
ইয়া আল্লাহ! তুমি তাইলে ব্লগার!!
ক্যান খালুজান!! কোন সমিস্যা!!
আরে না না!! কি যে কও!! তুমি তো বাজান একখান মহান মানুষ! তোমার লিগা তো স্পেশাল ব্যবস্থা করন লাগে! খাঁড়াও! আমি একটু আইতাছি অন্দর থন!
অন্দর। তবে বৈঠকখানা থেকে খুব বেশি নয় দূরত্ব। অন্দরের কথাবার্তা বৈঠকখানায় বসা হবু জামাইয়ের কান অবধি পৌঁছাচ্ছে বেশ সহজেই। হবু জামাই ঠিক বুঝতে পারছেন না, ব্লগে কলম ঘুরিয়ে তিনি কোন ভুল করে ফেলেছেন কিনা!!
আম্মাজান(ফিসফিস)
জ্বি আব্বাজান, বলেন!
তুমি তো একখান জব্বর কাম করছো গো আম্মাজান!
ক্যান আব্বা, কি হইছে??
ঘরের মইধ্যে আস্তা একখান ব্লগার ধইরা আনছো!
ব্লগার!! হেইডা আবার কি??
আছে গো আম্মা! হেইডা তোমার বুঝনের কাম নাই! তোমারে যা কই, মন দিয়া শোনো, কাম কিন্তুক সারন লাগবো চামে!
ঠিক আছে আব্বাজান।
চাপাতি আছে না ঘরে??
জ্বি, আছে!
স্পেশাল চাপাতি তো??
হ স্পেশালই!
বৈঠকখানা। হবু জামাই কম্পমান। এসব কি হচ্ছে? এসব কথাবার্তার মানে কি??
হবু শ্বশুরের প্রবেশ।
বাজান তোমার জন্য স্পেশাল চাপাতির ব্যবস্থা হইছে।
চাপাতি!!! চাপাতি ক্যান গো খালুজান??
ক্যান আবার!! চা খামু। আমার আবার স্পেশাল চা-পাতি ছাড়া চা খাইয়া পোষায় না! আমার পছন্দ ইস্পাহানী, তোমার??
হবু জামাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হবু শ্বশুরের কথায়।
তারপর?
তারপর মহাসমারোহে বিয়ে হয়ে গেলো আমাদের।
বিয়ের পর কে আর কলম ঘুরায় বলুন!!
ব্লগ? কি আশ্চর্য!! কিসের আবার ব্লগ!! চা-পাতিও আমার ভীষণ অপছন্দ! বড়লোকের জামাই বোঝেনই তো!!
আমি এখন কফি খাই- ব্ল্যাক- উইদাউট মিল্ক এন্ড সুগার!!
ছবি: সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




