somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ বাঁচুক, মানুষের মতো

২৭ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জীবনের চেয়ে মৃত্যুর আদর এবং কদর অনেক বেশি আমাদের এই দেশে! জীবদ্দশায় যাঁদের খোঁজখবর নেবার প্রয়োজন বোধ করি না আমরা, মৃত্যুর পর কী অদ্ভুতভাবেই ভীষণ আপন হয়ে ওঠে তাঁরা, হয়ে ওঠে ভীষণ কাছের মানুষ! ভাগ্য সব! ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে অন্তত কারো কারো ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর সহানুভূতি, সম্মান, সমাদরের লেখচিত্র স্পর্শ করে অপ্রত্যাশিত উচ্চতা!

সোহাগী জাহান তনুর কথা ধরা যাক। মৃত্যু পরবর্তী ভাগ্য দৃশ্যত সুপ্রসন্ন তাঁর। এবং সুপ্রসন্ন হওয়াটাই ন্যায়সঙ্গত। এবং সুপ্রসন্ন হওয়াটাই উচিত সবদিক বিবেচনায়। এমন বর্বরোচিত ঘটনায় নড়ে ওঠা উচিত প্রতিটি মানুষের বিবেকের দরজার কড়া। সজোরে। কেঁপে ওঠা উচিত সভ্য সমাজের ভিত। প্রচণ্ড আঘাতে। এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সামান্য সময় চোখ রাখলেই দেখা যাচ্ছে, ঠিক যেমনটি হওয়া উচিত সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায়, তেমনটিই হচ্ছে স্বতঃস্ফুর্তভাবে।

কিন্তু সমাজ যদি সত্যি সভ্য হতো! যদি সদা সক্রিয় থাকতো মানুষের বিবেক! জাগ্রত যদি থাকতো সংবেদনশীল অনুভূতি অকৃত্রিম সারল্যে! সর্বস্তরে যদি থাকতো মনুষ্যত্বের অনুশীলন, যদি থাকতো নৈতিকতার নির্মল চর্চা, তাহলে কি ঘটতে পারা সম্ভব ছিলো সোহাগী জাহান তনুর মতো মানুষের সম্ভ্রমলুণ্ঠিত নির্মম অপমৃত্যু?

জীবদ্দশায় যে মানুষ পায় না মানুষের মতো বাঁচার মর্যাদাটুকু, মৃত্যুর পর তার প্রতি অতলান্ত সহানুভূতি, হৃদয়মন্থিত আবেগের স্ফুরণ, সহস্র স্তুতি আমাকে কেন যেন হতাশায় ক্রমনিমজ্জন থেকে উদ্ধার করে না! হয়তো আমি একজন আজন্ম নৈরাশ্যে আবরিত মানুষ! হয়তো নেতিবাচকতার বিষাদী বলয় আমাকে সবসময় ঘিরে থাকে!

ঘিরে থাকে, ঘিরে থাকে এবং ঘিরে থাকে যখন জানি, বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় সোহাগী জাহান তনুর ঘটনা কোন বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত নব্যসৃষ্ট ঘটনা নয়! যখন একটি সমীক্ষার ফলাফলে জানি, গত বছর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১৩ জন খুন হয়েছেন এবং ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৬ জন (সূত্র: প্রথম আলো, ২৪ মার্চ, ২০১৬), যখন জানি, বৃহত্তর নৃগোষ্ঠীকে যদি আনা হয় এ ধরনের সমীক্ষার আওতায়, তবে খুন ধর্ষণের সংখ্যা জন্ম দিতো অভাবিত আতঙ্কের! বেদনাদায়ক উচ্চারণে ভাগ্যের কথাই বলতে হচ্ছে আবার। ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলতে হচ্ছে, সোহাগী জাহান তনুর মতো দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি বরণ করেছেন অনেকেই, তফাৎ এই শুধু ভাগ্য তাদের সুযোগ দেয়নি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার!

সোহাগী জাহান তনু যে অকল্পনীয় অন্যায়, যে অপরিমেয় নৃশংসতা, যে অপরিসীম বর্বরতার শিকার হয়েছেন, তার শৈথিল্যহীন বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রত্যাশা করি, প্রত্যাশা করি অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তস্থাপনকারী সর্বোচ্চ শাস্তি। এবং আশা করি সেটা হবে অবশ্যই। তবে সোহাগী জাহান তনুর অপমৃত্যুর ঘটনার সন্তোষজনক পরিসমাপ্তির মাধ্যমেও সম্ভবত এ ধরনের অমানবিক, বিবেকহীন, পৈশাচিক ঘটনার যবনিকাপাত হবে না বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায়।

মৃত্যু পরবর্তী প্রতিবাদী কার্যাবলীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অবশ্যই আছে সমাজে, তবে উত্তম হতো মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষার পরিবর্তে জীবনেই যদি শোধ করা যেতো তনুদের জীবনের ঋণ, যদি তনুরা বাঁচতো তনুময় হয়ে!!

কামনা করি, জীবন থাকতে সম্মান, সহানুভূতি, যথাযোগ্য মর্যাদা লাভ করুক সোহাগী জাহান তনুরা। বেঁচে থাকতেই তাঁরা হয়ে উঠুক আমাদের অতি আপন, ভীষণ কাছের মানুষ।
কামনা করি, লাঞ্ছনা, সম্ভ্রমহানি, অপমান, গ্লানি, অকালপ্রয়ান, অপমৃত্যু তাঁদের স্পর্শ না করুক।
চিরকাল বাঁচুক তাঁরা মানুষের মতো মাথা উঁচু করে।



ছবি: সংগৃহীত



সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:২৫
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মন কথনিকা-৬৩৮৯-৯০=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

মন কথনিকা-৬৩৮৯
সকাল সকাল উঠে দেখি, চোখের মাঝে ঘুমের পাহাড়
চোখ মেললেই ঘুমরা ছড়ায়, চোখের মাঝে ক্লান্তির বাহার
রাত বারোটায় ঘুমোতে যাই, ফযর বেলা উঠে পড়ি
পাঁচ ঘন্টা ঘুম মাত্র ঘুমাই, না ঘুমিয়ে ক্লান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×