
দেশে এসেছি। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুরে এলাম। তারপর রিকশা। রিকশায় চড়তে আমার বেশ মজা লাগে। চারপাশ দেখতে দেখতে এগিয়ে যাওয়া যায়। কাছেই কোথাও যাবো বলে গাড়ি পাঠাতে বলিনি বা উবার নিইনি। গাড়ির মধ্যে বসে থাকাটা আমি তেমন একটা পছন্দ করি না। এর চেয়ে রিকশায় বসে ধুলোবালিতে স্নান করা ভালো।
রেলস্টেশন থেকে কিছুদূর যেতেই বহুল আকাঙ্ক্ষার (!) জ্যাম। আমার রিকশার চারপাশে আরো বহু গাড়ি, রিকশা, মোটরসাইকেল। চারপাশ প্রত্যক্ষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমার পাশে তাকালাম। দেখলাম, ফুটফুটে এক মেয়ে তার মায়ের সাথে রিকশায়। বয়স ততটা নয়। ৪ বছর মতো হবে। মায়াবী চেহারা। আদর করতে ইচ্ছে হলো।
মেয়েটা চারপাশে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। আর রাস্তার পাশের একটি গাছের দিকে আঙুল তুলে বলছে, "ওয়ান, টু, থ্রি, এক, দুই, তিন, চার "। মনে হলো, সদ্য গোনা শিখেছে। মিষ্টি গলার এমন সংখ্যা পাঠ শুনতে শুনতেই জ্যাম কেটে গেল। তারপর যে যার গন্তব্যে।
বাড়িতে এসে ওর কথাটা মনে পড়লো। বাড়িতেও এমন এক বাবু আছেন যে। যিনি আমার সাথেই থাকতে পছন্দ করেন। তখনই চিন্তায় ডুবে গেলাম। গভীর এক চিন্তায়। যে চিন্তা আমরা সবাই করি কিন্তু এর রেমেডি জানা নেই। ঢাকার বাসযোগ্যতা।
এই বাবুরা বেড়ে উঠছে এক দূষিত শহরে। আমরা বড়রা কি করছি এক্ষেত্রে? স্রেফ নিজের কাজটা করে খালাস। যেভাবেই হোক, সেটা যতই পরিবেশের ক্ষতি করুক। আমার কি ! এমন এক মনোভাব। তবে সামনে গভীর এক অন্ধকার দেখতে পেলাম। যে অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে চমৎকার যত ভবিষ্যৎ !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

