খালেদা জিয়ার অফিসে অবস্হান, অবরোধ, হরতাল, বোমাবাজি সবকিছু বিএনপি'র বিপক্ষে গেছে; আওয়ামী লীগের সরকারের পতন ঘটাতে গিয়ে নিজের পতন ঠেকানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে। ৯১ দিনের তান্ডবের জন্য মুল্য দিতে হবে, বিচার হবে; মানূষ প্রাণ হারায়েছে, পংগু হয়েছে; সম্পদ বিনস্ট হয়েছে; ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা পথে বসেছে; সবকিছুর হিসাব শুরু হয়েছে।
বিএনপি লুটপাট'এর ভাবনা ছেড়ে দিয়ে কি কোনদিন সুস্হ রাজনীতির কথা ভাবতে পারবে?
অবরোধের পর, ঠিক শ্বশুর বাড়ী যাওয়ার মনোভাব নিয়ে নির্বাচনে গেছে খালেদা জিয়া; ডাকাতদের নমিনেশন দিয়ে মুখে হাড্ডি নিয়ে শ্বশুর বাড়ী থেকে ফেরত এসেছে। এখন পরবর্তী হিসাব নিকাশ শুরু হবে।
পার্টি অবরোধ ও হরতালের ফলাফল বিশ্লষণ করেনি; মানুষ করেছে; আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ নিয়ে হাড্ডি ধরায়ে দিয়েছে।
মেয়র ইলেকশানের আগে, সংবাদ সন্মলনে খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছে যে, উনি শেখ হাসিনাকে নিরাপদে পদ থেকে অবতরণে সাহায্য করবে; অর্থাৎ, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন যত দোষ করেছে, সেগুলো থেকে মুক্তি দেবেন; এ ধরণের ভাবনাকে, আসলে মুরগীর রাজনৈতিক ভাবনা ছাড়া কি বলা যেতে পারে?
আজকে খালেদা জিয়া বলছে যে, সঠিক নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না; কিন্তু সেই সঠিক নির্বাচনটা কার অধীনে হলে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে? খালেদা জিয়া এদেশে ৩৩ বছর, সবাই সবকিছু দেখেছে! শেখ হাসিনা ৩৪ বছর রাজনীতি করে, এবারের নির্বাচন প্রসব করেছেন।
বিএনপি তৈরি করেছিলেন জেনারেল জিয়া, জেনারেল জিয়ার মডেল-পিতা ছিলেন আইয়ুব খান, জেনারেলরা গণতন্ত্র প্রসব করেন না, উনারা যা প্রসব করেন উহার নাম 'ডিক্টেটরশীপ'; আপনারা কি নাম দিয়ে তা গলাধকরণ করবেন, সেটা আপনাদের নামকরণের দক্ষতা মাত্র।
খালেদা জিয়া সেই ডিক্টেটরশীপকে 'ন্যাশানেল বিজনেস পার্টনারশীপে' পরিণত করেছিলেন, সেখানে ফালু মালু, পিন্টু মিন্টু, আমান কামান সবার এন্টারপ্রাইজ চালু হয়েছিল।
তারেক এসে উহাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীতে পরিণত করেছিল, এবার দাউদ ইব্রাহিম, উলফা, সবার জন্য ব্যবসা উন্মুক্ত করেছিলেন।
এখন বিএনপি'কে আরেক রূপান্তরের মাঝ দিয়ে যেতে হবে; সেটা হয়তো নতুন কোন এডভেনচার, বা রাজনীতি হতে পারে; যদি সেটা রাজনীতি হয়, প্রথম পদক্ষেপ হতে হবে, খালেদা জিয়া-মুক্ত বিএনপি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


