মুক্তিযুদ্ধের পর, বাংলাদেশ বাহিনীতে সবচেয়ে নামকরা জেনারেল ছিল জেনারেল জিয়া; তৃতীয় বিশ্বের নামকরা জেনারেলদের নাম পশ্চিমের সিআইএ, মিআইএ'দের খাতায় আপনাআপনিই সংযুক্ত হয়ে যায়; জিয়ার বেলায় নীতি বদলায়নি, উনার নামও ওদের খাতায় উঠেছিল। পশ্চিম এক সময় শেখ সাহেবের নাম খাতা থেকে মুছে ওখানে জে: জিয়ার নাম লিখেছিল; জিয়া প্রেসিডেন্ট হলেন। জিয়া জানতেন, জিয়া কি করেছেন, উনি কাউকে কিছু বলতেন না; ফলে, কেহ বলতে পারবে না যে, জিয়া এটা বলে গেছে, সেটা বলে গেছে; জিয়া কিছুই বলে যায়নি।
জিয়াকে যারা ঘনিস্টভাবে জানেন, সেই রকম ৫ জন অফিসার এখনো জীবিত আছেন, তাঁরা হলেন: মেজর রফিক, ক্যাপটেন ওলি, ক্যাপটেন হামিদ, ক্যাপটেন এনাম ও লেফ: খালিদ; এ ছাড়া 'জেড-ফোর্সের' কিছু সৈনিক এখনো জীবিত আছেন। তাঁরা নিশ্চয় জে: জিয়াকে সবার চেয়ে ভালোভাবে বুঝতেন, উনারাই জানতেন জিয়া কি করেছিলেন; কিভাবে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন, কেন হয়েছিলেন।
জে: জিয়া জানতেন যে, তিনি ভয়ানক অন্যায় কাজ করেছেন; কোন মুক্তিযোদ্ধা মনেপ্রাণে উনার সাথে নেই; এবং সেজন্যই তিনি পাকিস্তান ফেরত অমুক্তিযোদ্ধা জেনারেল এরশাদকে সেনাপতি করেছিলেন। তিনি যদি সৎ হতেন, ঠিক থাকতেন, তিনি অনেক মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের থেকে একজনকে নিজের সেনাপতি নিযুক্ত করতেন।
জিয়ার পতন ঘটায়েছে উনার সবচেয়ে কাছের লোক, ক্যাপ্টেন মাহফুজ; এই ক্যাপটেন যুদ্ধের সময় জিয়ার সাথে ছায়ার মতো থাকতেন; জিয়া শুধু এই লোকের সাথে বসে চা খেতেন, কথা বলতেন। এই ক্যাপ্টেন মাহফুজের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দরে নৌ-যান আক্রমণ করা হয়েছিল; মুক্তিযুদ্ধে উনি সারাক্ষণ ফ্রন্টে ছিলেন।
মফিজ মিয়ারা লিখেছিলেন, ও ভবিষ্যতে লিখবে , "কিছু বিপদগামী সৈনিক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান ও জেনারেল জিয়াকে হত্যা করেন"; এগুলো বিপদগামী সৈনিক ছিলেন না, এগুলো ছিলেন জিয়ার ঘনিস্ট লোকজন, নামকরা অফিসার, যাঁরা ভেবেছিলেন যে, জিয়া জাতিকে ভুল পথে নিয়ে গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০১৫ সকাল ৮:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



