আওয়ামী লীগ বাংগালী পেটি-বুর্জোয়া পাটি হিসেবে গড়ে উঠেছে পাকী আমলে; আজ আওয়ামী লীগ ফুলে ফলে ভরে উঠেছে; ৬০% এমপি বড় থেকে মাঝারি ব্যবসায়ী; ৩০০ জনের মাঝ হয়তো ৫ জন ব্যবসায়ী নন; এটাই আলীগ, এটাই হওয়ার ক্থা ছিল। কিন্তু '৭২-'৭৪ সালের অসফল প্রশাসন চালিয়ে, শেখ সাহেব ১৮০ ডিগ্রী মোড় নিতে তৈরি হন; তাঁর ভাবনায় এসেছিল, কারা রেসকোর্স, পল্টন, লালদীঘি, পলোগ্রাউন্ডে উনাকে ৬ দফা নিয়ে সাপোর্ট করেছিলে; কারা উনাকে ১৯৭০ সালে, ৬ দফার জন্য ভোট দিয়েছিলেন, কারা পাকী বাহিনীর ১ বছরের হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন! একে খান, জহিরুল ইসলাম, এম আর সিদ্দিকীদর বাড়ীতে গিয়ে পাকী মিলিটারীরা খেয়েদেয়ে স্যালুট দিয়ে চল গেছে; তারপর, সাধারণ কেরানীর বা কৃষকের মেয়েটাকে 'মুক্তির' বোন বলে তুলে নিয়ে গেছে, যেটি আর ফিরে আসেনি।
শেখ সাহেব অবশেষে উনার ভুল থেকে বের হওয়ার চেস্টা করছিলেন; উনি যেই ২২ পরিবারের বিপক্ষে কথা বলেছেন, তাদের থেকে কঠিন ও নির্দয় ক্যাপিটেলিস্ট মনের মানুষ উনি নিজের দলের ভেতরে ও বাহিরে দেখেছিলেন; রাশিয়ার ও চীনের সাফল্য উনার কাছে ধরা পড়েছিল; ক্রমেই উনি সেইদিকে ঝুকে পড়েছিলেন; তিনি পাকী শিল্পপতিদের ফেলে যাওয়া কল-কারখানা ও সম্পত্তি 'জাতীয়করণ' করে, সবার জন্য ব্যবহার করার কথা ভেবেছিলেন; উনি অনুভব করেছিলেন যে, কিছু বাংগালী এগুলো দখল করার চেস্টা করছে; তিনি সেইগুলো রক্ষা করার জন্য নতুন আইন কানুনের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন।
৬ দফা উনার ভাবনা ছিল, ৬ দফা ছিল বাংগালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অর্থনীতি গড়ার মুলনীতি; এবার তিনি সামাজিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন; কিন্তু কোল্ডওয়ারের সেই যুগে আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপ এটি সহ্য করার পজিশনে ছিলো না; এটা ছিল তাদের জন্য বড় চ্যালেন্জ। তাদের আগেই, আমেরিকার বন্ধু পাকিস্তানও চাচ্ছিল বাংলাদেশকে নিজেদের বলয়ে ধরে রাখতে; এবার ক্যাপিটেলিস্ট মন ও পাকীদের অপরাধী মন বাংলাদেশের বিপক্ষে সমবেতভাবে ষড়যন্ত্র করলো ও পরিকল্পনা করলো শেখ সাহেবকে সরায়ে দিতে।
যারা মিসর ও পাকী মিলিটারীকে ভালোভাবে জানে, তারা জানে এই ২টি দেশ কারা চালায়; তাদের মিলিটারী কি ধরণের। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর, পাকিস্তান থেকে যেই বাহিনী ফিরে এসেছিল, তারা মনে প্রাণে আইয়ুবের সন্তান ছিলো; বেংগল রেজিমেন্টের যেই অংশ মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন, তাদের অফিসারেরাও শেখ সাহেবের উপর সন্তুস্ট ছিলো না; তাদের ক্ষোভ, উচ্চ আকাংখা ইত্যাদিকে মুলধন করে আমেরিকান ব্লক শেখ হত্যায় নেমেছিলো; এর আগেও, সিআইএ পরিক্ল্পনা মাফিক, অপারেশনের লোকজনের মানসিকতাকে কাজে লাগায়ে ইন্দোনেশিয়ায়, আলজেরিয়ায়, মিশরে, পাকিস্তানে, চিলিতে নিজেদের বলয় সৃস্টি করেছিল; বাংলাদেশে তাদের পরিকল্পনাকে কাজে লাগাতে বেগ পেতে হয়েছিল বলে মনে হয়নি।
সিআইএ তার অপারেশনে প্রত্যেককেই নিজের এজেন্ডা পুরণে সাহায্য করে; এতে সিআইএ'র এজেন্ডা সুন্দরভাবে ফিট করা থাকে। কিছু অফিসার মনে করেছে যে উনি আইয়ুব হচ্ছেন, কেহ মনে করেছেন উনি জাতিকে রক্ষা করছেন, কেঃ মনে করেছেন যে, উনি ধর্মকে রক্ষা করছেন; সবাই খুশী, সবার এজেন্ডা পুরণ হচ্ছে, সাথে ২ পয়সাও হাতে আসছে; সিআইএ এসব ব্যাপারে দরাজ হস্তে টাকা খরচ করে, ও অপারেশনের লোকদের বেশ দাম দেয়।
শেখ সাহেব কোন অফিসার বা সৈনিকের ক্ষতি করার কথা ভাবেননি; যারা উনার বিপক্ষে প্রপাগান্ডা চালায়েছে, তারা পশ্চিমের পালিত ২ পয়সার তোতা পাখী ছিল
আজ বাংলাদেশ আমেরিকান ব্লকে আছে, আজ অনেক বাংগালী পায়ে হেঁটেও আমেরিকা আসছে; ক্রীত দাস হয়ে আরবে কাজ করছে; বিশ্বের সবার থেকে 'সস্তা' শ্রমিক হিসেব জাতিকে পরিচয় করায়ে দিয়ে, সবাইকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে বলছে ড: আতিয়ার ও মুহিত; কিন্তু বিশ্বের 'সস্তা' শ্রমিক কি করে গড়ে ১৫ হাজার টাকার ঘর ভাড়া দিয়ে, ১০ লাখ টাকার ইউনিভার্সিটিতে ছেলেমেয়েদের পড়াতে পাঠাবে, আর কিডনী ফিডনী আক্রাণ্ত হলে কি করে ২০ লাখ খরচ করে বাঁচবে? নাকি তারা 'সস্তা' শ্রমিক হিসেবে মৃত্যুদন্ড মাথায় নিয়ে বসে আছে আমেরিকান ব্লকে?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


