চীন বাংলাদেশে প্রায় ২০০টি কলকারখানা খুলবে, চীনের পরিবেশগত সমস্যাকে কমানোর জন্য কিছু কলকারখানা সস্তা শ্রমের দেশে নেয়ার প্রচেস্টা চলছে; অথচ, আজও আমেরিকা ও ইউরোপ চীনে বিনিয়োগ করছে, কম মুল্যে তাদের নিজস্ব প্রোডাক্ট উৎপাদন করার জন্য।
চীনে উৎপাদন সস্তা, কিন্তু শ্রম সস্তা নয়; চীনে কোন দিন 'সস্তা শ্রমিক' ছিল না, এমনকি বিপ্লবের পরপরও না; চীন মানুষের জীবনের মান বাড়ানোর জন্য শ্রমের সঠিক মুল্য নির্ধারণ করে, অর্থনীতির সঠিক তত্ব ব্যবহার করে।
চীন উৎপাদন ব্যবস্হা সস্তা করেছে টেকনোলোজী, মানুষের দক্ষতা, বেশী ঘন্টা ও উৎপাদনের অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় খরচ কমায়ে; চীনের মানুষকে বেশী সময় কাজ করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়; কিন্তু তাদের সেই সময়ের জন্য সঠিকভাবে বেতন ও সামাজিক সুবিধা দেয়া হয়েছে।
চীনের শ্রমিকদের ছেলেমেয়েরা আজ আমেরিকা ও কানাডায় পড়ছে, সেখানে থেকেও যাচ্ছে; আমেরিকান আইটি'তে ভারতের পরেই চীনারা; এগুলো সস্তা শ্রমের কাজ নয়।
বাংলাদেশের একজন গার্মেন্টস শ্রমিক যেই পরিমাণ আয় করে, সেই টাকায় কোথায়ও বাসবাসযোগ্য একটি বাসা নিয়ে, পরিবার নিয়ে থাকতে পারবে না; এটাই 'সস্তা' শ্রমিকে প্রথম লক্ষণ; সস্তা শ্রমিক তার 'খাওয়া' থেকে টাকা বাঁচাতে চায় সস্তা কিছু খেয়ে, কম খেয়ে; অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে যায় না, টাকা বাঁচানোর জন্য; সস্তা শ্রমিক তার বাচ্চার পড়ার খরচ যোগাতে পারে না; ফলে, এক সময় বাচচা স্কুলে না গেলে সামান্য সময়ের জন্য মন খারাপ করে; কিন্তু দেখে যে, তাতে একটা খরচ কমে গেছে। এগুলোই সস্তা শ্রমিকের নমুনা বাংলাদেশে।
স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর, শ্রমিকদের এই অবস্হা হয়েছে শিক্ষা ও দক্ষতার অভাবে। আগে বাংলাদেশ বিদেশী সরকারের লোকজন বাংলাদেশে এলে, বাংলাদেশ সরকার সাহায্য চাইতো; এখন 'সস্তা শ্রমের' কথা বলে বিনিয়োগ করতে বলে ড: আতিয়ার ও মুহিত।
বাংলাদেশে যেসব ব্যবসায়ীর কাছে ৩০০/৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশী ডলার আছে, তারা সবাই বিদেশে কোন না কোন ব্যবসা করছে; বাংলাদেশের অনেক রিয়েলস্টেট কোম্পানী আমেরিকায় রিয়েলস্টেটে ডলার বিনিয়োগ করেছে।
বাংলাদেশের টাকায় যদি আমেরিকায় বাংগালীরা ব্যবসা করে থাকে, সরকার তাদের বাংলায় ব্যবসা করতে বলে না কেন?
বাংগালী ব্যবসায়ীরা অবশ্যই জানে বাংলাদেশে শ্রম সস্তা; তারা আরো জানে যে, সরকারের লোকেরা তাদের লাভটুকু হজম করে ফেলবে; যাদের পরিবারের লোক সরকারে আছে, প্রশাসনে আছে, তারা ব্যবসা করেছে, বিনিয়োগ করে, বা বিনিয়োগ না করেই।
পৃথিবীর বর্তমান সভ্যতার সময়, বাংগালীদের অশিক্ষিত করে রেখে সস্তা শ্রমিকে পরিণত করা বড় ধরণের অপরাধ। মানুষ আজও পড়ালেখার খরচের অভাবে পড়তে না পেরে, নিজের পরিবারের দারিদ্রতাকে কপাল হিসেবে মেনে নিচ্ছ, এটা ভুল; পড়ালেখা করানোর দায়িত্ব সরকারের; পরিবার পারলে ভালো; পরিবার না পারলে, সেই ভার সরকারের।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



