আধুনিক সমাজ ব্যবস্হায়, রাস্ট্র চালনায় সরকারী দল ও বিরোধী দলের মাঝে সংলাপ হয় পার্লামেন্টে; বিএনপি ও আওয়ামী লীগ যখন সরকার ও বিরোধী দলে অবস্হান করছিল, তাদের মাঝে পার্লামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী সংলাপ ইত্যাদি ঘটেনি; কারণ, বিরোধী দল হিসেবে, আও্য়ামী লীগ ও বিএনপি সব সময় 'পার্লামেন্ট ত্যাগ করেছে'; এখন বিএনপি বিরোধী দলে নেই; ফলে, সংলাপ করতে চাইলেও হবে না। আর সংলাপ হয়, যখন প্রতিপক্ষগুলো মোটামুটি সমান বলের অধিকারী হয়; অসম বলের মাঝে যা হয়, উহাকে বলা হয় সন্ধি।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এখন যেভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত, এখানে সংলাপের কিছু নেই; কারণ, এরা পরস্পরকে পরাজিত করে আসছে 'ষড়যন্ত্রের' মাধ্যমে, সেই চেস্টা এখনো থামেনি; এই ২ দলের মাঝে রাজনৈতিক প্রতিযোগীতা ছিল না, ছিল ষড়যন্ত্রের প্রতিযোগীতা; আওয়ামী লীগ নিশ্চয় সংলাপ করে বলবে না যে, "ঠিক আছে, শেখ সাহেবকে মারার কারণে, আওয়ামী লীগকে এই এই সুযোগ দিতে হবে; অথবা, শেখ হাসিনার উপর একবার গ্রেনেড মেরেছ, আর মারতে পারবে না; অথবা ঠিক আছে, শেখকে মেরেছে, শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরেছ, কিন্তু জনতার দিকে চেয়ে, আমরা সব ভুলে জনতার স্বার্থে রাজনীতি করবো"। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র মাঝে যে সমস্যা বিরাজ করছে, সেগুলো সংলাপের বিষয় নয়, সেগুলো 'সন্ধির' বিষয়।
উপরে উপরে, সংলাপের ক্থা বলে বিএনপি নিজকে রাজনীতির গুরু হিসেবে ও রাজনীতিতে বিশ্বাসী দল হিসেবে চালিয়ে যেতে চাচ্ছে; তারা ভালো করে জানে যে, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এসব কিছুতে বিশ্বাস করে না; এদের দুইজন ৩৪/৩৩ বছর করে বাংলাদেশ চালিয়ে এসেছে, এ ব্যাপারে এরা পাকা, এরা জানে লাথি মেরে কিভাবে কাঁঠাল পাকাতে হয়।
বিএনপি ও আও্য়ামী লীগ যে ধরণের পদ্ধতি অনুসরণ করে দেশ চালায়, সেখানে তাদের মাঝে বিরাট মিল আছে; ওদের রাজনীতি একই ফল দেয়; তারা পরস্পরের সম্পুরক; ফলে, তাদের মাঝে সন্ধি হবে, সেটা ড: এমাজুদ্দিন, মওদুদ, রিপন বা মির্জার কথায় হবে না; এই ধরণের সন্ধি ইত্যাদি তারা সম্পন্ন করে থাকে তাদের বিদেশী গুরুদের মাধ্যমে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




