বাংলাদেশে দরিদ্ররা ভোট বিক্রয় করে, বা করতে বাধ্য হয়; ফলে, রাজনীতিবিদরা তাদের ব্যাপারে এখন আর মাথা ঘামায় না; ভোট কেনার টাকা এখন ক্যান্ডিডেটদের কাছে আছে; শতকরা ২০ ভাগ ভোট যদি বিক্রয় হয়, তা'হলে পুরো ভোটেই অকেজো হয়ে যাওয়ার কথা; ভোট বিক্রেতারাও গণতন্ত্রকে মোটামুটি অকেজো করতে সাহায্য করছে।
গণতণ্ত্র আসলে দরকার ছিলো দরিদ্রদের জন্য, তাদের জন্য সুযোগ সৃস্টি করার জন্য; তারা যদি ১০০/২০০ টাকার বিনিময়ে নিজের অধিকার বিক্রয় করে দেয়, তখন ভয়ানক সমস্যার সৃস্টি হয়। মধ্যবিত্তরা মোটামুটি শিক্ষিত, এবং তাদের জীবনের সবকিছুই সরকারের উপর নির্ভরশীল; চাকুরী, পড়ালেখা, সম্পত্তি, সমাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার; সরকারের দুর্নীতিতে তারা সহজেই আক্রান্ত হয়; এই কারণে, তারা সহজেই সরকার বিরোধী হয়ে যায়, তাদের সুর, কার্যকলাপ বিরোধীদলের সাথে মিশে যায়; কিন্তু বাংলাদেশে বিরোধী দল বলতে কিছু ছিল না, কোন কালে ; ওরা পার্লামেন্টে যায় না, কারো জন্য 'বিল' আনে না ওরা; ওরা সময় কাটায় গাড়ি ভেংগে ও পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে; ফলে, মধ্যবিত্তের জন্য ২ পথই বন্ধ হয়ে যায়।
আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল মুসলিম লীগের বিকল্প হিসেবে; মুসলিম লীগ ছিল জমিদারদের দল। মওলানা ভাসানীর হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগ দরিদ্রদের দল হতে পারতো; কিন্তু ভাসানীই দলে টিকতে পারেনি; উনাকে বের করে, দলটাকে দখল করে নিয়েছিল ব্যবসায়ীরা।
১৯৭০ সালের ভোটের সময়, শেখের বক্তব্য ও ৬ দফা গরীবদের মাঝে আশার সন্চার করে; আবার, শেখের প্রতি মওলানার পরোক্ষ সমর্থনও মানুষকে আশাবাদী করে তুলেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর, শেখের সেই বক্তব্যের বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ১৯৭৫ সালে এসে, শেখ বুঝেছিলেন যে, দেশের ভোটারের ৭৫ ভাগই গরীব, তাদের জন্য কিছু না করলে দেশ কোথায়ও যাচ্ছে না।
আজকের আওয়ামী লীগ পশ্চিমের ক্যাপিটেলিজমে বিশ্বাস করে; তারা জানে যে, সীমিত সম্পদের দেশে ক্যাপিটেলিজম গড়তে হলে অনেক অন্যায় হবে, অনেক অশ্রু ঝরবে, সেগুলোকে না দেখার ভান করেই নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




