গ্লোবেল ওয়ার্মিং বাংলাদেশকে কঠিনভাবে আঘাত করবে ২০৫০ সালের পর; আপনাকে নোয়াখালী, ভোলা, বা পটুয়াখালীতে গিয়ে দেখতে হবে না, কোন কোন এলাকা ডুবে গেছে, আপনি যদি খবর পান যে, মালদ্বীপ ডুবে গেছে, তাতেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আমাদের দেশের চারভাগের এক ভাগ পানির নীচে চলে গেছে; অবশ্য তার আগেই দক্ষিণানচলের লোকজন হাঁডি পাতিল নিয়ে, বাসে করে পদ্মাসেতু পার হয়ে ঢাকায় চলে আসবে।
আপনাদের যদি কারো মনে থাকে, ২০০৯ সালেও একবার পশ্চিম বলেছিল যে, ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটা ফান্ড গঠন করে, ক্ষতিগ্রস্ত দেশের লোকদের ক্ষতিপুরণ দেয়া হবে; এ কথা শোনার পর, আমাদের ব্যুরোক্রেটরা দিনরাত আমাদের ক্ষতির ইতিহাস টাইপ করে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সব দেশের সন্মেলনে পাঠাচ্ছিল; প্রধানমন্ত্রী প্লেইন থেকে প্লেইনে মাস চারেক ছিলেন, আর সেক্রেটারীরা ডলার গোণার মেশিন কিনছিল জাপান থেকে।
এবার প্যারিস সন্মেলনে ওবামা মোটামুটি সিরিয়াস ছিল, এবার নিয়ম বদলে গেছে, টাকা মোটামুটি সবাইকে ফান্ডে রাখতে হবে। মাথাপিছু ক্ষতিপুরণ পেলে, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশী ক্ষতিপুরণ পাবার কথা; কিন্তু তার আগে অনেক শর্ত মানতে হবে।
বাংলাদেশ টাকা পাবে কি, না পাবে, দেশের মানুষকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে হবে, সায়েন্স ও টেকনোলোজী প্রয়োগ করে। আগামী কয়েক বছরের মাঝে, মানুষ হাজারো সমাধান নিয়ে আসবে, সেগুলো প্রয়োগ করার মত অবস্হানে থাকলে, আমরা পথ খুঁজে পাবো; অনেক বাংগালীও হয়তো সমাধান বের করতে পারবেন।
সবচেয়ে সহজ হবে, মানুষকে উচ্চ শিক্ষা ও কারিগরী শিক্ষা দিলে, বেশীর ভাগ মানুষকে অন্য দেশগুলো নিয়ে যাবে। আর যদি 'সস্তা শ্রমিক' উৎপাদন চালু রাখে, সবাই ঢাকা এসে গণভবনে রান্নাবান্না শুরু করবে, কিংবা সিলেট গিয়ে মন্ত্রী নাহিদ ও মুহিত সাহেবের বাড়ীতে উঠবে মালের আশায়।
২০৫০ সাল আসার আগেই হয়তো চীন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের উপর ক্ষেপে, পশ্চিমের দেশগুলো জলবায়ু ফান্ডের টাকা তুলে নিতে পারে; এখন, বিশ্বের সবচেয়ে বেশী ইন্ডাা্টরিয়েল পলুশান করছে চীন, তারপরে পশ্চিম; কিন্তু ২০৫০ আসতে আসতে অনেক কিছু বদলে যাবে, বাংলাদেশের নামও পলুশনে যোগ হবে, বাংলাদেশ 'রি-সাইকেলিং' করে না, এবং সবচেয়ে বেশী পুরানো গাড়ী চালায়; ফলে, টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা সময়ের সাথে কমেও আসতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




