ফেলানী তার বিয়ের টাকাটুকু আয় করতে, পরিবারের জীবিকার জন্য আয় করতে ভারত গিয়ে ছিল; আসার পথে, তার ভিসা ছিল না, তারকাঁটা বেয়ে আসতে গিয়ে জানোয়ার-বিএসএফ'এর গুলিতে প্রাণ হারায়েছে। কোকোর মেয়েরা মালয়েশিয়াতে পড়ছে, তারেকের মেয়ে লন্ডনে পড়ছে, জয়ের মেয়ে আমেরিাকয় পড়ছে, দিলিপ বড়ুয়ার মেয়েরা কানাডায় পড়ছে; ফেলানীরও অধিকার ছিল পড়ার, কমপক্ষে বাংলাদেশে, এবং জাতির সেই সম্পদ ছিলো; এরশাদ, খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা ফেলানীর সেই অধিকার হরণ করেছে।
আমাদের সম্পদ ছিলো না পদ্মাসেতু করার জন্য ৪২ বছর; যখন বিশ্ব ব্যাংক টাকা দেয়নি, অন্যেরাও ভয়ে বিনিয়োগ করতে আসেনি, টাকা তখন ঠিকই বেরিয়ে এসেছে; ফেলানীর পড়ার টাকাও ছিল; কোকো, তারেক, জয়েরা তাদের অধিকারের চেয়ে বেশী নেয়াতে ফেলনীদের জন্য কিছু থাকছে না; ওদের মেয়েরা বিদেশে পড়তে যাওয়াতে ফেলানী দেশেও পড়তে পারেনি, দেশে বিয়ের টাকাটাও আয় করতে পারেনি, তাকে ভারত যেতে হয়েছিল।
ফেলানীর মৃত্যুর পর, আরও হাজার ফেলানী তারকাঁটার উপর দিয়ে ভারতে গেছে, এদের একাংশ হয়তো ফেরত এষেছে; হয়তো আরো হাজার ফেলানী ভারত যাবে। আমরা এক ফেলানী নিয়ে এত ব্যথা পাচ্ছি, অথচ আগামী ১০ বছরে জাতির সাথে বাস করবে আরো ৩১ লাখ ফেলানী, যারা কোনদিন স্কুল শেষ করতে পারবে না, যাদের বিয়েতে ৫ জন লোকও হবে না, বাসর রাত কাটবে বস্তিতে।
দেশ ফেলানী উৎপাদন করছে, যখন সেই দেশের দেশের মেয়েরা মালয়েশিয়া, লন্ডন, আমেরিকা, কানাডায় পড়ছে; এসব অসমতার অবসান হওয়ার দরকার; ফেলানীর বিচার বিচার করে জাতি মগজ হারাচ্ছে; কিন্তু লাখ লাখ ফেলানীর অধিকার হরণ হচ্ছে প্রতিদিন, সেইদিকে খেয়াল নেই।
ফেলানীকে পড়ায়ে ড: কামালের ময়ের মতো আইনবিদ করার মতো সম্পদ আমাদের সব সময় ছিলো, আজও আছে; যেভাবে পদ্মার টাকা লুকায়ে রাখা হয়েছিল, সেইভাবে ফেলানীদের পড়ার টাকা লুকায়ে রেখেছে সরকারগুলো ৪৪ বছর।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




