১৬ই ডিসেম্বর বিজয় চিনিয়ে নেয়ার পর, পুরো জাতি শেখ সাহেবের জন্য উৎকন্ঠিত হয়ে পড়েন; জাতি জানতো না, শেখ সাহেব কি জীবিত আছেন, নাকি নেই; কারণ, পাকিস্তানীদের বিশ্বাস করার অবস্হা ছিল না। যাক, সব উৎকন্ঠার অবসান হলো, যখন তিনি পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন পৌঁছেন।
ভারত হয়ে তিনি ১০ই জানুয়ারী দেশের মাটিতে পা রাখলেন; সেদিন তিনি এত বড় বিজয়ী ছিলেন যে, কেহ লিখে তা প্রকাশ করতে পারবে না; সাড়ে ৭ কোটীর মাঝে, কমপক্ষে ৬ কোটী মানুষ দ্বিতীয় বিজয়ের উৎসবে মেতে উঠলেন।
দেশে আসার ৩ দিনের মাথায় তিনি সরকারের ভার গ্রহন করলেন; এটা ভয়ংকর ভুল ছিল; কারণ, মানুষ উনাকে দেখতে চেয়েছিলেন, মানুষ উনার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলেন; মানুষ ৯ মাসের দু:খ, বেদনা, স্বজন হারানোর শোক, বিজয়ের গাঁথা উনার সাথে শেয়ার করতে চেয়েছিলেন; মানুষ জানতে চেয়েছিলেন, ৯ মাস উনি কেমন ছিলেন! তিনি সরকারের জোয়াল কাঁধে নিয়ে, ঢাকা শহরের এক অফিসে আটকা পড়লেন; মানুষের ৯ মাসের গাঁথা উনার জানা হলো না, মানুষ উনার ৯ মাসের কস্টের কথা উনার থেকে শুনতে পারলেন না; যে সময়ে সেতু রচনা হওয়ার কথা, সেই সময়টুকু বয়ে গেলো, মানুষের নিজের কস্ট বুকে নিয়ে নিজের ঘরে একা হলেন।
উনি ফিরে আসার পর, দরকার ছিলো একটি বিজয়ের ভাষন দেয়ার, যেখানে মানুষের বীরত্বকে সবার উপরে স্হান দিয়ে, বিজয়কে মানুষের বিজয় হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ নিতে পারতেন, মানুষের অবদানকে ইতিহাসের পাতায় স্হান করে দিতে পারতেন; সেখানেই তৈরি হতো মানুষ ও উনার মাঝে আজীবনের সেতু।
মানুষকে তিনি রোডম্যাপ দেখাননি সেদিন; মানুষকে দেশ গড়ার জন্য ডাক দেননি; মানুষ জানতো না, এত বড় বিজয়ের পর তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কি!
উনার দরকার ছিলো সর্ব প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে শান্তনা দেয়া, তারপর যুদ্ধে শহীদদের পরিবারের সাথে কথা বলার; তারপর মানুষের সাথে বিজয়কে উদযাপন করা। তিনি কোনটাই করেননি, তিনি সরকারের জোয়াল কাঁধে নিয়ে টানার শুরু করলেন; সামান্য ছুটিও নিলেন না; অথচ দেশে তখন পুরো সরকার ছিলো, এবং সরকার ইতিমধ্যে কাজ করছিল বিনা সমস্যায়।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৯:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



