
সেই প্রজেক্ট হচ্ছে, জাতির প্রতিটি নাগরিককে শিক্ষিত করে দারিদ্রতার বিমোচন।
১৯৬৯ সাল থেকে শুরু করে, ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ অবধি যাঁরা শেখ সাহেবের পেছনে শক্তি হিসেবে ছিলেন, যাঁরা লুংগি পরে, খালি গায়ে পল্টন, লালদীঘিতে এসে শেখ সাহেবকে বড় করেছিলেন, নিজদিগকে শক্তি হিসেবে অনুভব করেছিলেন, তাঁরা হয়তো সেদিন জানতেন না যে, তাঁদের সামনে এক ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ অপেক্ষা করছে; তাঁরা সেই যুদ্ধও করেছেন, জয়ী হয়েছেন; কিন্তু এঁদের বিরাট অংশ জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পারেননি; এবং এঁদের বড় অংশ সময়ের সাথে দারিদ্রতায় ক্লিস্ট হয়ে বিদায় নিয়েছেন; এঁদের ছেলেমেয়েরা আজ পরিবার পরিজন ফেলে আরবের মরুভুমিতে, মালয়েশিয়ার বনে কাজ করে সামান্য আয়ের চেস্টা করছে, দেশে বস্তিতে থেকে গার্মেন্টস এ কাজ করে, জাতির জন্য ২৫ বিলিয়ন হার্ড কারেন্সী আয় করেছেন; এদের আয়-করা হার্ড কারেন্সীতে পদ্মাসেতু হচ্ছে, টাকায় পদ্মাসেতু হচ্ছে না পুরোটা।
আমাদের সরকারগুলো দারিদ্রতা বিমোচনের নামে বিদেশীদের কাছে হাত পেতে, টাকা এনে, সেই টাকার সামান্য অংশ ৯০ দিনের চাকুরী, ১২০ দিনের চাকুরী দিয়ে দারিদ্রতা কমানোর চেস্টা করেছে; এগুলো সামান্য ক্ষুধা নিবারণ, এগুলো দারিদ্রতা বিমোচন নয়।
অশিক্ষিত মানুষ আরব, মালয়েশিয়া থেকে ফিরে এসে, আবারো দারিদ্রতার মাঝে হারিয়ে গেছে, আবারো হারিয়ে যাবে; তাদের নতুন জেনারেশনকে আবারও আরব, মালয়েশিয়াতে যেতে হচ্ছে; আবারো গার্মেন্টস এ কাজ করতে হচ্ছে; সরকার নিজেই এদের জন্য বিদেশে কাজ খুঁজছে, সস্তা শ্রমের নামে বিদেশী বিনিয়োগ খুঁজছে।
দারিদ্রতা বিমোচনের একমাত্র উপায় হলো শিক্ষা; এবং আমাদের দেশে শিক্ষায় মাথাপিছু খরচ পশ্চিমের তুলনায় কানাকড়ি ছিল সব সময়, এবং এখনও সেই স্তরে থাকার কথা ছিল; কিন্তু সরকারের ভুল নীতির জন্য, আজ শিক্ষা, মাথাপিছু আয়ের তুলনায়,পশ্চিম থেকে অনেক অনেক বেশী।
দেশে মানুষ বেড়ে গেছে, সেটাও অশিক্ষার ফল; আমাদের দেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বাস করছেন ১১৮০ জন মানুষ, ভারতে ৩৮০, বার্মায় ৮৪ জন মাত্র। শিক্ষিত জন সংখ্যা জাতির জন্য শক্তি, অশিক্ষিত মানুষ জাতির জন্য বোঝা।
আজকে যাদের বয়স ১৬ বছরের নীচে, তাদের সবাইকে শিক্ষিত না করে তুললে, আজকের ভয়ংকর প্রতিযোগী বিশ্বে এরা পদক্লিস্ট হয়ে যাবে। আজ আট বছরের মেয়ে স্কুলে না গিয়ে, স্বাস্হ্যবান অন্য পরিবারের শিক্ষিত বউয়ের হয়ে চা বানাচ্ছে, খাবার তৈরি করছে, কাপড় ধুয়ে দিচ্ছে, এটা জীবন নয়; শেখ সাহেবের অনুসারীরা এই জীবন থেকে মুক্তির জন্য যুদ্ধ অবধি করেছিলেন।
আগামী ১৬ বছরের মাঝে জাতির সবাইকে শিক্ষিত করে তোলার মতো সম্পদ আমাদের সম্পদ আছে ; যেসব পরিবার নিজে পারছে না, তাদের সন্তানদের শিক্ষার ভার আমাদেরকে নিতে হবে; এটা পদ্মা থেকে অনেক বড় প্রজেক্ট, আজ ৪৫ বছর অপেক্ষা করছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




