
প্রকৃতি যে রীতিনীতি অসুসরণ করে, সেই রীতিনীতি অনুসারে, সবার বাঁচার ও সুন্দর জীবন যাপান করার মত সম্পদ প্রকৃতির কাছে ছিল ও আছে; এবং এসব সম্পদের কোন মালিকানা ছিল না এক সময়; প্রতিটি প্রাণী এই সম্পদ নিয়েছে প্রয়োজন মতো; মানুষ ব্যতিত, অন্য কোন প্রাণী নিজের প্রয়োজনের বাইরে কোন সম্পদ দখল করে রাখেনি। সভ্যতা বড় হওয়ার সাথে সথে, প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে নতুন সম্পদ উৎপন্ন করার দরকার হয়েছে; সেটা উৎপাদনে ও ব্যবহারে প্রকৃতির নিয়ম অনুসরণ করার দরকার আছে; প্রকৃতির নিয়ম না মানলে, স্বয়ং প্রকৃতি নিজেই অস্হিতিশীল হয়ে যাবে, তখন প্রকৃতি বর্তমান জীবনচক্রকে ধরে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।
'অন্যের থেকে ভালো থাকার' ইচ্ছা মানুষকে অন্যের প্রাপ্য থেকে কিছুটা সম্পদ দখলে উৎসাহিত করে; 'সবাই ভালো থাকবো' মনোভাব প্রকৃতির নিয়মের মাঝে পড়ে, যা আসলে সমাজতান্ত্রিক।
মানুষ সামন্তবাদ, রাজতন্ত্র, ক্যাপিটেলিজম ও সমাজতণ্ত্র দেখেছেন; সামন্তবাদ ও রাজতন্ত্র মোটামুটি বিলুপ্ত হয়েছে; অন্যের সম্পদ দখল করে ভালো থাকাই রাজতন্ত্রের মুলমন্ত্র ছিল; মানব সমাজের সবচেয়ে কস্টকর সময় ছিল রাজতন্ত্র। ইউরোপের জ্ঞানচর্চা, রেনেসাঁ বিশ্বের নির্যাতীত মানুষকে রাজতন্ত্র থেকে মুক্ত করার পথ বের করে; দু:খের বিষয়, সেই পথ ছিল বিশাল, এবং সীমাহীন; এবং সেই পথই মানুষকে ক্যাপিটেলিজমে নিয়ে যায়; কারণ, জ্ঞানচর্চায় প্রতিটি মানুষের সমান প্রবেশ ছিল না; সেটা এখন স্পস্ট।
এশিয়ার বাংলাদেশ এলাকায় জ্ঞানচর্চা এসেছে খুবই দেরীতে ও খুবই ধীরে, এবং রেনেসাঁর মত মানবিক প্রকৃতি নিয়ে আসতে পারেনি; কারণ, মানব সভ্যতার উপর স্হান, কাল, কালচার ও মানুষের সামাজিক অবস্হান বড় ধরণের ফ্যাক্টর হয়ে আছে; তদুপরি, জ্ঞানচর্চার অভাব, মানুষকে ভুল জ্ঞানচর্চার দিকে নিয়ে যায় সব সময়; কারণ, মানুষের জানার ইচ্ছা থেমে থাকে না। আজ যখন ৪০% বাংগালী নিজের নামটা লিখতে পারে না, জাতীয় সংগীতটা পড়তে পারে না; আবার, তাদেরই কিছু ভাই আমেরিকা ও ইউরোপে শিক্ষক হিসেবে কাজ করছে ও বিশ্বের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ভাষায় কথা বলছে, চিন্তা করছে। এই অসমতা মানুষের জীবনে বিরাট সমস্যা হয়ে গেছে বাংলাদেশে।
বাংলাদেশের জন্মলগ্নে, প্রায় মানুষই দরিদ্র ছিলেন; ধনী ছিলেন ঢাকার নবারেরা, একে খান, রণদা শাহা ও ব্যাংকার আখতারুজ্জমান; বাকী সবাই মোটামুটি কাছাকাছি ছিলেন; আজ ৪৫ বছর পর, কয়েক লাখ মানুষ বেশ বড় সম্পদের মালিক; নবাবরা, রণদা সাহা ও একে খানরা সামানুপাতিভাবে বাড়েনি, বরং হারিয়ে গেছে।
কয়েক লাখ মানুষ বড় সম্পদের মালিক না হয়ে, ১৭ কোটী যদি বড় সম্পদের মালিক হতো, তা'হলে প্রকৃতির নিয়ম ঠিক থাকতো; অথবা, ১৯৭২ সালের জানুয়ারীর অবস্হানের সাথে সামানুপাতিক হতো, তা'হলেও ভালো হতো।
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল একটি আশা নিয়ে, 'সবাই মিলে ভালো থাকার আশায়'; না'হলে, মানুষ পাকিস্তানের নাগরিক হয়েই থেকে যেতো। 'সবাই মিলে ভালো থাকার' কোন তত্ব বিশ্বে আছে কিনা? অবশ্যই আছে, সেটা প্রকৃতির তত্ব, সেটাই সমাজতন্ত্র; সমাজতন্ত্র সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিশ্বের ২য় শক্তিতে পরিণত করেছিল; চীনকে বর্তমান অবস্হানে আসতে সাহায্য করেছে; আমেরিকার পতন ঠেকাতে বার্নি সেন্ডারস সমাজতণ্ত্রের পক্ষে কথা বলছে; জার্মানী উচ্চ শিক্ষাকে ফ্রি করে দিয়ে, বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী টেকনোলোজী জাতি হিসেবে সুস্হ জীবন যাপন করছে; কানাডায় সবাই শিক্ষা ও চিকিৎসা পাচ্ছে।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১০:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



