
৬ দফার থেকে বড় আর কোন দফা বাংলায় কেহ কোনদিন চাহেনি, এত বড় আন্দোলনও আর হয়নি; ৬ দফা পাকিস্তান ভেংগে দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছিল, স্বাধীনতা এনেছিল; তারপর নিজেই বিলীন হয়ে গেছে, হাও্য়া হয়ে গেছে; বিলীন হওয়ার কারণ, সে ছিল 'সেকেন্ডারী বিষয়'; তাই, এই বিশাল আন্দোলনকে পেছনে ফেলে মানুষ, তাদের জীবনের 'প্রাইমারী বিষয়ে' ফিরে এসেছিল, বেঁচে থাকার যুদ্ধে।
৬ দফায় চাওয়া হয়েছিল, আরো বেশী বেশী স্বায়ত্ব শাসন, নিজেদের মুদ্রা, নিজেদের বাহিনী; স্বায়ত্ব শাসন চেয়ে, পেয়ে গেছি স্বাধীনতা: পিন্টু, ফালু, জয়নাল হাজারীরা পার্লামেন্টভবনে খেয়ে দেয়ে, পায়খানা করে করে জাতির ১৪ গোস্ঠীকে উদ্ধার করেছে। নিজেদের বাহিনী এমন শক্তিশালী হয়েছিল যে, ৬ দফার রচয়িতার দফা রফা করে দিয়েছিল; আর মুদ্রা? এই মুদ্রা পেতে বাংগালী মেয়েও বিক্রয় হচ্ছে ভারতে , পাকিস্তানে; দুপুরের খর-তাপে ৭০ বছরের মহিলা রাস্তায় দাঁড়ায়ে ভিক্ষা চাচ্ছে!
৬ দফার প্রাইমারী বিষয় হওয়ার দরকার ছিল ফ্রি শিক্ষা, চাকুরী সৃস্টি, বাংগালীকে কল-কারখানা বানানোর ক্যাপিটেল দেয়া, ফ্রি চিকিৎসা দেয়ার; কিন্তু চাওয়া হয়েছিল, আরো স্বায়ত্ব শাসন, যাতে করে রাজনীতিবিদেরা আরো সুযোগ পায়; যাক উনারা সেটাই পেয়েছে, সব দখল করে নিয়ে টাকশালের ভেতরে ঘুমাচ্ছে, আর মানুষ ট্রলারে চড়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছে!
এবার রামপাল নিয়ে শুরু হয়েছে, এবারের বিষয় 'স্হান'; স্হান বদলাও, কিন্তু হাজার কোটীর লাভ তোমরা খাও; আমরা বনের গোলক পাতা এনে ঘরের ছাল দেবো, মধু খুজবো, আর তোমরা বিলিয়ন ডলার আয় করে, প্যারিসে ঈদ করো; আমরা শুধু চাই, একটু নড়ে চড়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাও, মালিক হোক ভারত, পাকিস্তান কিংবা চীন; আমরা মালিক হতে চাই না, মালিক তোমরা থাক, শুধু নড়েচড়ে বসো।
এগুলো আন্দোলন নয়, এগুলো ছাত্র রাজনীতির মগজের প্রোডাক্ট! আন্দোলন করতে হবে মৌলিক অধিকারের জন্য, মালিকানার জন্য, আমি মালিক হলে আমি ঠিক করবো কোথায় বিদ্যুত কেন্দ্র হবে, আর কোথায় এটোমিক পাওয়ার স্টেশন হবে, কোথায় সোনালী, রূপালী, তামালী ব্যাংক হবে! প্রাইমারী বিষয়ে আন্দোলন কর, বাদ দাও সেকেন্ডারী বিষয়।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



