
১৯৭২ সালে যে মেয়েটির বয়স ছিল ৬ থেকে ১০ বছর, তাকে সারা বছর ২০ টাকার বিনিময়ে স্কুলে রাখা যেত; ১৯৭৩ হতে পারতো ১৯৭২ সাল থেকে ভালো; ১৯৮২ সালে মেয়েটি স্কুল শেষ করতে পারতো। সেই সময়ের ৯০ ভাগ মেয়ে একদিনের জন্যও স্কুলে যেতে পারেনি; আজ সেই মেয়েটির বয়স হয়েছে ৫২ থেকে ৫৬ বছর; উনার স্বামীর বয়স ৬০ বছরের উপরে; এই বয়সের গ্রামের মহিলারা আজ ৯০% দরিদ্র। ১৯৭২ সালে এদের পড়তে দেয়নি, আজ তাদের ১০ টাকায় চাউল দেবে।
মুহিত, সাইফুর রহমান, কিবরিয়া, মুহিতদের গলাকাটা অর্থনীতির ফলে গ্রামের 'একান্নবত্তী পরিবার' প্রথা বিলুপ্ত হয়ে হয়ে গেছে; গ্রাম থেকে দরিদ্ররা শহরে চলে গেছে, সেখানে বস্তিতে বিয়ে করেছে; ওদের মা-বাবা গ্রামে রয়ে গেছে; এসব পরিত্যক্ত বৃদ্ধ মা-বাবার কোন আয় নেই।
৬০ বছরের বুড়োদের কিছু না দেয়ার চেয়ে ১০ টাকায় কেজি চঊল একটা আশার আলো; আওয়ামী লীগ গরু মেরে জুতা হলেও দেয়ার কথা বলে; কিন্তু দেয়া হয়ে উঠে না; মাঝখান থেকে চিল-কাউয়া বেশীর ভাগ নিয়ে যায়। এবার আধা বিলিয়ন ডলারের ভর্তুকি দিয়ে ৫০ লাখ লোককে চাউল দেয়ার কথা; কিন্তু চাউলগুলো নিশ্চয় আসবে গড়ে ২ কোটী টাকা খরচ করে যেসব চেয়ারম্যান হয়েছে তাদের হাত দিয়ে; তারা প্রথমে তুলে নেবে ২ কোটী, তারপর নেবে ২ কোটীর উপর লাভ, তারপর যদি কিছু থাকে দিতে হবে ক্যাডারদের।
মানুষকে স্বাধীনতার সুফলের ভাগ দেয়ার চেস্টা করেননি শেখ সাহেব, উনি বলতেন, বলতেন, খালি কথা বলতেন। দরিদ্র বানানোর মেশিন বসায়েছিল জিয়াুর রহমান ১৯৭৬ সালে; ৬ দফা-ওয়ালারাও জিয়ার মেশিনকে পছন্দ করেছেন; ভুলে গেছেন নিজেদের ৬ দফা আর বাকশাল; জিয়ার প্রশাসন চালিয়ে যাচ্ছেন জিয়াকে দোষ দিতে দিতে।
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, আরবে আদম বিক্রয়, বিদেশীদের হাতে সেল ফোন, বিদ্যুত, দেশীদের হাতে ব্যাংক ইনস্যুরেন্স দিয়ে মামা-ভাগেনারা যে অর্থনীতি চালাচ্ছেন, তাতে আগামী ৪৬ বছর অবধি ১০ টাকায় চাউল দিতে পারবে; আওয়ামী লীগের ধারণা, কিছু লোক জন্মেছে শুধু চাউল খেয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




