somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নেতৃত্বের অদক্ষতার কারণে ১৯৭১ সালে অনেক বেশী প্রাণহানী ঘটেছে

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তাজুদ্দিন সাহেব পালিয়ে গেলেন; শেখ ফজলুল হক মনি, ৪ খলীফা, সিরাজুল আলম খান সবাই পালিয়ে গেলেন; রোকেয়া হলে ছাত্রীরা রয়ে গেলো কিভাবে, জগন্নাথ হলে ছাত্ররা রয়ে গেলো কিভাবে? পাকীরা প্রস্ততি নিচ্ছে, চট্টগ্রাম পোর্ট ওরা দখলে নিয়েছে, চট্টগ্রাম পোর্টের দায়িত্ব থেেকে ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে সরানো হলো, আওয়ামী লীগের কেহ এগুলো মনিটরিং'এর দায়িত্বে ছিলো? ৪ খলীফা পালানোর আগে ইউনিভার্সিটি হল খালি করা হয়েছিল? সন্ধ্যার পর, কেন মানুষ ব্যারিকেডে ছিলো?

এখন সবকিছু মিলিয়ে দেখলে বুঝা যাবে যে, অসহযোগ আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, জনতা ও ছাত্রদের মাঝে পুরোপুরি সমন্ময় ছিলো না; এত বড় আন্দোলনে সবকিছু কড়াগন্ডায় মিলায়ে সমন্ময় করা কঠিন; কিন্তু আন্দোলনের মুল কমান্ডকে আরো অনেক দক্ষ হওয়ার দরকার ছিলো, এবং পাকী সরকারের গতিবিধির উপর নজর রাখার জন্য একটা কমান্ড সেল থাকার দরকার ছিলো; তা'হলে ২৫শে মার্চের রাতে এত বেশী প্রাণহানী হতো না।

এর পরবর্তী আরেকটা পদক্ষেপের দরকার ছিলো, সেটা হলো, গ্রামবাসীদের থেকে রাজাকার বাহিনীতে যোগদানে নিরুৎসাহিত করার ব্যাপারে। জামাত ও ছাত্রসংঘ গ্রামের অপড়াধী ও বেকুব ধরনের লোকজনকে রাজাকার বাহিনীতে নেয়ার প্রচেস্টা চালানোর পর, আওয়ামী লীগ থেকে গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ করলে, মানুষ এই ব্যাপারে চিন্তা করার সুযোগ পেতো। রাজাকার বাহিনীতে ছাত্র সংঘের কমবুদ্ধিমান সদস্য ও গ্রামের বেকুব ও দুস্টদের নেয়া হয়েছে, এরা অস্ত্র পেয়ে হত্যা ও লুন্ঠনে মেটে উঠে; প্রথমেই যদি ধারনা দেয়া যেতো যে, পাকীরা পরাজিত হবেই হবে, এবং রাজাকাররা যুদ্ধের পর বিচারের সন্মুখীন হবে, তা'হলে তারা এভাবে নির্ভয়ে হত্যাকান্ড চালাতো না।

আরেকটা বড় পদক্ষেপ নেয়ার দরকার ছিলো, যখন শান্তি বাহিনী গঠন করা হচ্ছে; দরকার ছিলো, শান্তি বাহিনীর সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে, তাদেরকে ব্যবহার করা; যদি সম্ভব না হতো, তখন সরায়ে দেয়ার ব্যবস্হা নেয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগের বড় নেতারা পালানোর পর, আর বর্ডার ক্রস করে কোনদিন বাংলাদেশে ঢুকেনি; গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা নিজে যা ভালো মনে করেছেন, সেই অনুযায়ী ব্যবস্হা নিয়েছেন; কিন্তু শান্তি বাহিনীকে ব্যবহার করে, প্রাণহানী কমানো সম্ভব হতো; উত্তর চট্টগ্রামে এই পলিসি কাজ করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ২:১৫
১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×