
তাজুদ্দিন সাহেব পালিয়ে গেলেন; শেখ ফজলুল হক মনি, ৪ খলীফা, সিরাজুল আলম খান সবাই পালিয়ে গেলেন; রোকেয়া হলে ছাত্রীরা রয়ে গেলো কিভাবে, জগন্নাথ হলে ছাত্ররা রয়ে গেলো কিভাবে? পাকীরা প্রস্ততি নিচ্ছে, চট্টগ্রাম পোর্ট ওরা দখলে নিয়েছে, চট্টগ্রাম পোর্টের দায়িত্ব থেেকে ব্রিগেডিয়ার মজুমদারকে সরানো হলো, আওয়ামী লীগের কেহ এগুলো মনিটরিং'এর দায়িত্বে ছিলো? ৪ খলীফা পালানোর আগে ইউনিভার্সিটি হল খালি করা হয়েছিল? সন্ধ্যার পর, কেন মানুষ ব্যারিকেডে ছিলো?
এখন সবকিছু মিলিয়ে দেখলে বুঝা যাবে যে, অসহযোগ আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, জনতা ও ছাত্রদের মাঝে পুরোপুরি সমন্ময় ছিলো না; এত বড় আন্দোলনে সবকিছু কড়াগন্ডায় মিলায়ে সমন্ময় করা কঠিন; কিন্তু আন্দোলনের মুল কমান্ডকে আরো অনেক দক্ষ হওয়ার দরকার ছিলো, এবং পাকী সরকারের গতিবিধির উপর নজর রাখার জন্য একটা কমান্ড সেল থাকার দরকার ছিলো; তা'হলে ২৫শে মার্চের রাতে এত বেশী প্রাণহানী হতো না।
এর পরবর্তী আরেকটা পদক্ষেপের দরকার ছিলো, সেটা হলো, গ্রামবাসীদের থেকে রাজাকার বাহিনীতে যোগদানে নিরুৎসাহিত করার ব্যাপারে। জামাত ও ছাত্রসংঘ গ্রামের অপড়াধী ও বেকুব ধরনের লোকজনকে রাজাকার বাহিনীতে নেয়ার প্রচেস্টা চালানোর পর, আওয়ামী লীগ থেকে গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ করলে, মানুষ এই ব্যাপারে চিন্তা করার সুযোগ পেতো। রাজাকার বাহিনীতে ছাত্র সংঘের কমবুদ্ধিমান সদস্য ও গ্রামের বেকুব ও দুস্টদের নেয়া হয়েছে, এরা অস্ত্র পেয়ে হত্যা ও লুন্ঠনে মেটে উঠে; প্রথমেই যদি ধারনা দেয়া যেতো যে, পাকীরা পরাজিত হবেই হবে, এবং রাজাকাররা যুদ্ধের পর বিচারের সন্মুখীন হবে, তা'হলে তারা এভাবে নির্ভয়ে হত্যাকান্ড চালাতো না।
আরেকটা বড় পদক্ষেপ নেয়ার দরকার ছিলো, যখন শান্তি বাহিনী গঠন করা হচ্ছে; দরকার ছিলো, শান্তি বাহিনীর সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে, তাদেরকে ব্যবহার করা; যদি সম্ভব না হতো, তখন সরায়ে দেয়ার ব্যবস্হা নেয়া। কিন্তু আওয়ামী লীগের বড় নেতারা পালানোর পর, আর বর্ডার ক্রস করে কোনদিন বাংলাদেশে ঢুকেনি; গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা নিজে যা ভালো মনে করেছেন, সেই অনুযায়ী ব্যবস্হা নিয়েছেন; কিন্তু শান্তি বাহিনীকে ব্যবহার করে, প্রাণহানী কমানো সম্ভব হতো; উত্তর চট্টগ্রামে এই পলিসি কাজ করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




