somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাকুরীর ইন্টারভিউর অভিজ্ঞতা মভিজ্ঞতা থাকলে বলেন!

২৩ শে জুন, ২০১৭ রাত ৩:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাকে আমার সমসাময়িকদের থেকে একটু বেশী চাকুরী খুঁজতে হয়েছে, ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে গড়ে কিছুটা বেশী; এক সময় ইন্টারভিউ দেয়া অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল, বেশ ভালো লেগেছে! আর, কাজে থাকা অবস্হায় ইন্টারভিউ দেয়া খুবই আনন্দের ব্যাপার: ভয় ডর, শংকা আশংকা কিছুই থাকে না, সবকিছু নিজের কন্ট্রোলে, হাসিখুশী, মনে মনে আনন্দ; ইন্টারভিউ'র সময় যারা অকারণ প্রশ্ন করে, তাদেরকে উল্টো ঠেংগানো যায়!


চাকুরী নেই, ২/৩ টা ইন্টারভিউ দিলাম, খবর নেই; একটা লোভনীয় কোম্পানী থেকে ইন্টারভিউতে ডেকেছে; অনেক সময় হাতে নিয়ে কোম্পানীর অফিসের এলাকায় চলে গেলাম; দিনটিও ভালো, কয়েক লাইন কবিতা পড়ে মনটাকে সতেজ করলাম; আশেপাশে যাকে দেখছি সালাম দিচ্ছি; সব ভালো। সময় মতো অফিসে গেলাম; সেক্রেটারী কনফারেন্স রুমের দরজা অবধি এগিয়ে দিলো; গ্রাউন্ড ফ্লোরে; দরজা খোলা। ঢুকে আমি যাকে দেখলাম, হতবাক হওয়ার মতো কথা, আমার ক্লাশমেট। আমি দৌড়ে গিয়ে বললাম,
-কি খবর শ্রীনি, তুমি কেমন আছে? কি রকম সৌভাগ্যের দিন!
শ্রীনি মোটেই কোন ইমোশান দেখালো না, হ্যান্ডশেক করে বসতে বললো ইশারায়; মুখে বললো,
-আমরা কি কোনভাবে পরিচিত?
আমি ইউনিভার্সিটির নাম বলে বললাম,
-তোমার মনে নেই, আমরা অনেকগুলো কোর্সেই একই সেকশনে ছিলাম।
- ইউনিভার্সিটি ঠিক আছে, তোমাকে দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না!
-কি বল? মনে আছে, তুমি অংকে "এ" না পাওয়ায় ড: ফ্রাংকের সাথে ২০ মিনিট তর্ক করেছিলে?
-তর্ক করেছিলাম, মনে আছে; তবে, তোমাকে মনে পড়ছে না! যাক, চল ইন্টারভিউ শুরু করি!
-শ্রীনি, তোমার হার্ডডিস্ক ছোট; তুমি তোমার ক্লাশমেটকে মনে রাখতে পারনি, তুমি কিসের ইন্টারভিউ নেবে? আমি যাচ্ছি।
রুমের পেছনে একটা দরজা ছিল, উহা যে 'ফায়ার ডোর' আমি খেয়াল করিনি; সেটা খুলে বের হয়ে গেলাম; চারিদিকে ফায়ার এলার্ম বাজছে। আমি পেছন থেকে অফিসের সামনে এলাম; সেক্রেটারী দৌড়ে এসে বললো,
-কি হয়েছে?
-অনেক গরম গরম প্রশ্ন করেছে আমাকে!
আমি আমার পথ ধরলাম; সেক্রেটারী গিয়ে এলার্ম থামালো।


এক কোম্পানীতে কাজ করছিলাম, সেই কোম্পানীর সাবসিডিয়ারীতে আমার চাকুরীর সম-মানের লোক নেয়ার জন্য ইন্টারভিউ চলছে; ফোন করলাম ইন্টারভিউ দেয়া যাবে কিনা! ওপাশ থেকে থেকে সেক্রেটারী বললো, কোয়ালিফিকেশনে মিললে একখানা রেজুমে নিয়ে চলে যেতে। লান্চের সময় গেলাম; সেক্রেটারী আমাকে একটা কফি ধরায়ে দিয়ে বললো, "ফোন করে দেখি কোন ম্যানেজার ফ্রি আছে, কথা বলতে পারবে"; সে ফোন হাতে নেয়ার সময় দেখলাম পাশে এক কনফারেন্স রুমে লোকজন খাচ্ছে। সেক্রেটারীকে প্রশ্ন করলাম, "ওখানে কি হচ্ছে"?
-ক্যানডিডেটদের জন্য লান্চের ব্যবস্হা আছে; ইন্টারভিউ'এর পর, আপনিও খেয়ে যাবেন!
-আগে খাওয়া যায় না?
-অবশ্যই খাওয়া যায়, আপনি খেয়ে নেন, পরে আমি ইন্টারভিউ'এর ব্যবস্হা করবো।

ভালো করে খেলাম, সেক্রেটারীও খেতে গেলো কনফারেন্স রুমে; আমি এসে ভিজিটর রুমে সোফায় বসে রেস্ট নিচ্ছি; কখন ঘুমিয়ে গেছি কে জানে! কে একজন নাম ধরে ডাক দিলো, উঠলাম; উনি আমার ইন্টারভিউ নেবেন; ঘুম থেকে ডেকে তোলাতে উনাকে আমার পছন্দ হয়নি; আমি বললাম, "ইন্টারভিউ কালকে দেয়া যাবে? আমার কাঁচা ঘুন ভাংলে, আমি কিছু মনে করতে পারি না"।
উনি বললেন, "ঠিক আছে"। আর যাওয়া হয়নি।


চাকুরী করছিলাম, বাজারের অবস্হা বুঝার জন্য ইন্টারভিউ দিতে গেলাম; প্রথম ৩ জনের সাথে ভালোই আলাপ হলো; চতুর্থজন আসে না, আধাঘন্টা কেটে গেলো, উনিই প্রজেক্ট-লীড, হয়তো ব্যস্ত, চা খেলাম, গান গাইলাম, খবর নেই। ৪০ মিনিট পরে, দৌড়ে এসে উপস্হিত; তেমন কোন আলোচনা না করেই সোজাসুজি টেকনিক্যাল প্রশ্ন, একটা, দুইটা, উত্তর দিলাম; ৩ নং প্রশ্ন, উত্তর দিলাম, কমন পড়েই চলছে। উনি প্রশ্ন করছেন একটা কাগজ দেখে। আমি বললাম, "আপনার ৪ নম্বর প্রশ্নটি কি হবে আমি অনুমানে জানি"। তিনি বললেন, "বলুন"; আমি প্রশ্নটা বলে, উহার উত্তর বললাম, মিলে গেছে। উনি বললেন যে, উনি ব্যস্ততার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেননি, ইন্টারনেট থেকে প্রশ্ন প্রিন্ট করে নিয়েছেন। আমি বললাম যে, সকালে বের হওয়ার আগে আমিও ইন্টারনেট দেখে এসেছি; ভালো। আমার চাকুরী হয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১:৫৯
১৪টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×