
মোগলদের বড় বড় কীর্তির মাঝে আছে অনেক বড় বড় মসজিদ, কবরের উপর সুন্দর সুন্দর ইমারত; উনাদের নামে কোন স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি নেই। ইংরজরা ভারতে বাণিজ্য করতে এসে যেসব মন্দির দেখেছিল, তারা ভেবেছিল ভারতের বাতাসে সোনার কণা উড়ছে; কিছুদিনের মাঝে তাদের টনক নড়ে, তারা দেখলো, এসব মন্দিরে যারা প্রার্থনা করতে আসে, তাদের পরনে এক টুকরা পরিস্কার কাপড়ই নেই, এদের ঘরবাড়ী খড়কুটার তৈরি, পড়ালেখাও জানে না; হয়তো তখনই এরা বুঝতে পেরেছিল যে, এদের দখল করতে বেশী শক্তির দরকার হবে না।
গত ৩০ বছরে, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, উজবেকিস্তানে হাজার হাজার নতুন মসজিদ উঠেছে; এগুলো ভালো বিল্ডিং, অনেকস্হানে এয়ার কন্ডিশানিং করা; কিন্তু হিসেব করে দেখলে দেখা যাবে যে, এগুলো স্হানীয় মুসলমানদের ভালোবাসার জমার টাকা থেকে হয়নি; এগুলোর ৬০% খরচ এসেছে সোদি, কুয়েত, লিবিয়া বা অন্য আরবদেশ থেকে, এমন কি ইরান থেকেও। এগুলোতে যারা নামাজ পড়তে আসেন, তাদের নিজেরদের থাকার ঘর এতো উন্নত নয়, অনেকের নিজের ঘরই নেই; নামাজীদের বেশীর ভাগই এতো সুন্দর স্কুলে পড়ালেখার সুযোগ পাননি; আসলে,এসব দেশের বেশীর ভাগ নামাজী জীবনে একবার স্কুলে যাবার সুযোগও পাননি; যাক, কমপক্ষে ভালো যায়গায় নামাজটা পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন; সামান্য শাত্বনা!
বাংলাদেশে আজও হাজার হাজার প্রাইমারী স্কুল আছে, যেখানে বাচ্ছাদের বসার মত প্রয়োজনীয় টুল, বেন্চও নেই; অনেক এলাকায় নৌকাতেও ক্লাশ হচ্ছে! বার্থরুম মার্থরুম কিছুই নেই। মানুষ গড়ে ১৫ মিনিটের প্রার্থনার জন্য ভিক্ষা করে টাকা এনে ইমারত গড়ছেন; এদিকে জাতির বাচ্ছারা গড়ে ৬ ঘন্টা থাকার যায়গাটা বিশ্রী কুশ্রী! এভাবে হলে কেমনে লেখাপড়া চলবে? আসলে চলছে না, সেদিন এক উজবেক নিউইয়র্ক শহরে সাইকেল চালকদের উপর গাড়ী তুলে দিয়ে ৮ জনকে হত্যা করলেো, ২২ জনকে পংগু করে দিলো; নিজে থাকতো নিউজার্সির এক কুঠুরী রুমে, নামজ পড়তেন ইমারতে।
আমাদের মোগল বাদশাহেরা আজও অনেক প্রিয় মানুষ, অটোম্যানরা তো খলিফা; এরা টাকা খরচ করে বড় বড় মসজিদ বানাতেন, ইউনিভার্সিটি বানাতেন না। আমেরিকার পুরাতন ইউনিভার্সিটিগুলো তাদের ধর্মীয় স্হান থেকে বেশী বড় ইমারত ছিল সব সময়। বাংগালী, পাকিস্তানীরা ভিক্ষা করে এনে ইমারত গড়ছে, নিজের শ্রমের টাকা দিয়ে সন্তানদের জন্য ইমার্ত গড়ার কথা ভাবছেন না আজো!
-ছবির স্বত্বাধিকারী, Sumon Yusuf/Majority World/Lineair'এর প্রতি সন্মান জানিয়ে, ছবিটি ব্যবহার করছি
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


