
বিশ্বের কোন যুদ্ধে, ১ দিনে ৫৭ জন অফিসারের প্রাণহানী ঘটেনি, যা ঘটেছে আমাদের পিলখানায়, এটা বিশ্বের রেকর্ড; ১ বিচারে বিশ্বে কখনো ১৫৪ জনের ফাঁসীর ও ১৫৯ জনের যাবজ্জীবনের আদেশ হয়নি, এটি বিশ্ব রেকর্ড। এই বিচারের রায় কত পাতার ছিলো? সেটিও বিশ্ব রেকর্ড হওয়ার কথা!
আপনাকে অভিনন্দন, আপনি এমন সব বিশ্বরেকর্ড-সৃষ্টিকারী দেশে বাস করছেন! যেখানে একদিনে ৫৭ অফিসার প্রাণ হারায়েছেন, সেখানে আপনি টিকে আছেন, এটা গৌরবের ব্যাপার; আরো গৌরবের ব্যাপার যে, ১৫৪ জনের ভেতর আপনার নাম নেই! নাকি আছে?
প্রথমত: কোন এক বিচারে যদি ১৫৪ জনকে ফাঁসি দেয়া হয়, ১৫৯ জনকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়, লজিক্যালী উহা কোনভাবেই বিচার হতে পারে না; কারণ, ১ জনকে ফাঁসী দিতে কমপক্ষে ২/৪ জন আইনবিদের দরকার হয়, ১ জন বিচারকের দরকার হয়; ১ জনকে ফাঁসী দেয়ার পর, অনেক বিচারক মানসিকভাবে ভোগেন, ১৫৪ জনকে ফাঁসী দিলো কতজন বিচারক, এরা কি বিচারক, নাকি জল্লাদ?
বিডিআর'এর লোকগুলো দরিদ্র পরিবারের কমশিক্ষিত মানুষ, বিচারকের নামে এদেরকে জল্লাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে; এদের পক্ষে নিশ্চয় কোন গুণী আইনবিদ নিযুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি; এদেরকে কষাইখানায় পাঠানো হয়েছে মাত্র।
আজকে, ২০০ বিডিআর'এর হাতে অস্ত্র দেন, ও ৫৭ জন অফিসারকে পিলখানায় ছেড়ে দেন; অস্ত্রধারীরা অফিসারদের হত্যা করার চেষ্টা করুক: দেখবেন ৫/১০ জনের বেশী অফিসার প্রাণ হারাবেন না, অফিসারেরা খালি হাতে নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পারবেন; যদি ৫৭ জনের সবাই প্রাণ হারায়, বুঝতে হবে যে, এরা প্রফেশানেল ছিলো না, এরা সঠিক ট্রেনিং পায়নি, এরা আসলে সৈনিক নন।
যারা প্রাণ হারায়েছেন, যাদের বিচার হয়েছে, এরা সবাই এসেছিলেন দেশ রক্ষার চাকরীতে; অফিসারদের পরিবার ক্ষতিপুরণ পেয়েছে; ১৫৪ ফাঁসীর আসমাী, ও ১৫৯ জন যাবজ্জীবনের আসমাীদের পরিবার তো চাহেনী যে, তাদের পরিবার-প্রধানরা চাকুরীতে গিয়ে নিজের অফিসারদের মারুক; এসব পরিবার এখন চলবে কি করে, এদের আয়ের উপায় কি?
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



