
১৯৮১ সাল থেকে ২০০৩ সাল অবধি মাহাথির মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন; এই ২৩ বছর সময়ে, তিনি মালয়েশিয়াকে একটি দরিদ্র দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত করেন। তাঁর সময়ে লাখ লাখ বেকার বাংগালী, ফিলিফাইনীজ, ইন্দোনেশিয়ান, লাওসের লোকজন মালয়েশিয়ায় কাজ করেছেন; এঁদের শ্রমের ফসল আজকের মালয়েশিয়া। উনার ২৩ বছর সময়ে, বাংলাদেশ চালায়েছেন: বিচারপতি সাত্তার, জেনারেল এরশাদ, বেগম জিয়া, শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়া।
১৯৮১ সালে মাহাথির প্রাইম মিনিষ্টার হওয়ার ২ মাস আগে, বাংলাদেশ মিলিটারী তাদের এক শক্তিশালী মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল, জেনারেল জিয়াকে হ্ত্যা করেছে, যিনি একই সাথে দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ও রাজনৈতিক দল বিএনপি'র প্রতিষ্টাতা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এই হত্যাকান্ডের ২/৪ দিনের মাঝে জাতির তৃতীয় মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল, জেনারেল মন্জুরকে হত্যা করা হয় চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে; এসব হত্যাকান্ড মিলিটারী, সরকার , প্রশাসন ও জাতিকে কি পরিমাণ অনিশ্চয়তার মাঝে নিয়ে গিয়েছিল? তখন দেশ আসলে মিলিটারীই চালাচ্ছিল।
শুধুমাত্র মিলিটারীকে স্বাভাবিক অবস্হানে ফিরে আনতে সরকারকে কি পরিমাণ সময় ও রিসোর্স ব্যয় করতে হয়েছে, জাতির মাঝে কি পরিমাণ অনৈক্যের সৃষ্টি হয়েছিল, জাতির মিলিটারী ও সরকারের মাঝে কি পরিমাণ ষড়যন্ত্রকারী কাজ করছিলো? প্রশাসন ও ব্যুরোক্রেটরা দেশ চালায়েছে নিজেদের ইচ্ছানুসারে; পার্লামেন্ট পুরোপুরি অকেজো হয়ে বসেছিল।
এই ২ হত্যাকান্ড দেশের সরকারকে ও কিন্তু মিলিটারীকে ভালোভাবেই উথাল-পাতাল করেছে সেই সময়ে। মিলিটারী কমপক্ষে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়েছিল; এটাকে রিপেয়ার মিপেয়ার করতে বেশ সময় লাগার কথা! সেটাই ঘটেছে, জিয়ার লেজ, বিচারপতি সাত্তারকে সরানোর জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে মিলিটারীর প্রায় ১ বছর লেগে গেছে। ইতিমধ্যে, অথর্ব সাত্তার ও মিলিটারীর এরশাদ ফ্রেকশান এক বছর সময় ব্যয় করেছে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে ফাঁসী দিয়ে, মিলিটারীকে মুক্তিযোদ্ধামুক্ত করতে। এখানে সরকারের ব্যয় হয় ১ বছর সময়।
অবশেষে মিলিটারীর অবতার জনতার সামনে আসেন, জেনারেল হোসেন মো: এরশাদ অথর্ব সাত্তারকে রাইফেল দেখায়ে ক্ষমতা নিয়ে নেয় । জেনারেল জিয়া যাকে ইডিয়ট ভেবে, সকল মুক্তিযোদ্ধা জেনারেলদের ডিংগায়ে সেনা-প্রধান করেছিলেন, উহা নিজকে প্রতিষ্টা করতে ১ বছরের মত সময় নিলেন; এভাবেই আমাদের সময় ও অর্থ অকাজে ব্যয় হচ্ছিল। একই সময়ে, যখন মাহাথির মালয়েশিয়া গড়ছিলেন, তখন এরশাদ মিলিটারীকে নিজের আয়ত্বে আনার কাজে ব্যস্ত ছিলো ও সরকারকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টি গঠন করছিলো।
মিলিটারীতে জিয়ার অনুসারীরা এরশাদের উপর পুরো আস্হা রাখেনি; তারা জানতো যে, জিয়ার বিরুদ্ধে ক্রমাগতভাবে ক্যু হচ্ছিল এবং জিয়া প্রাণ হারাবে জেনেও এরশাদ তা ঠেকায়নি, বরং হত্যাকারীদের পরোক্ষভাবে সাহায্য করেছে; ফলে,তারা এরশাদের সমান্তরালে জেনারেল জিয়ার বিএনপি'কে চালু রাখার দরকার অনুভব করেছে; কিন্তু বিচারপতি সাত্তার মিলিটারীকে পার্টি থেকে দুরে থাকতে উপদেশ দেন। মিলিটারী বিচারপতি সাত্তারকে ডিংগায়ে বেগম জিয়াকে বিএনপি প্রধান করে; বেগম জিয়া নিজেই চমকিত হয়ে যান, এই বাংলায় তিনিও একজন রাজনীতিবিদ!
এদিকে, জেনারেল জিয়ার মৃত্যুর মাত্র ২ সপ্তাহ আগে, প্রবাসে ৬ বছর নির্বাসনে অবস্হানের পর বাংলাদেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা; যে শেখ হাসিনা ১৯৭৫ সালে ইউরোপে স্বামীর কাছে বেড়াতে গিয়েছিলেন, এটা সেই হাসিনা ছিলো না; এই হাসিনা নিজের প্রাণকে ১ হাতে নিয়ে, অন্য হাতে খড়গ নিয়ে এসেছিলেন; উনি জানতেন যে, উনাকে বাবার মৃত্যুর বিচার করতে হবে ও দেশকে মিলিটারীর কব্জা থেকে বের করতে হবে।
(আরো যোগ করা হবে )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


