
News Link
আপনি বাংলাদেশের সাধরণ নাগরিক, আপনি যে এলাকায় থাকেন, সেখানে ভিক্ষুকেরা ভিক্ষা করতে পারবে, টোকাইরা রাস্তায় ঘুমাতে পারবে, পায়খানা প্রস্রাব করতে পারবে, ছেড়া-কাপড় পরিধান করে দরিদ্র মানুষ চলাচল করতে পারবে, ফেরিওয়ালা আসতে পারবে, হয়রাণ হয়ে গেলে গাছে নীচে ঘুমিয়ে থাকতে পারবে, কষ্ট লাগলে মনে দু:খে গান গাইতে পারবে।
রাজধানীর একটা এলাকায়, নীল রক্তের বিশুদ্ধ শ্রেণীর বাংগালীরা বসবাস করেন, সেখানে ভিক্ষুকেরা যেতে পারবে না, মরে যান কিন্তু সাহায্য চাইতে পারবেন না, টোকাইরা ঘুমাতে পারবে না, আপনার পেশাবের চাপ আসলও পেশাব করতে পারবেন না, পায়খানার কথা তো উঠতেই পারে না।
এই বিশুদ্ধ এলাকা চালু করেছিল পাকিস্তান সরকার; ততকালীন সময়ে, ঐ বিশুদ্ধ পাকী এলাকায় উপরোক্ত কাজগুলো করলে, ততকালীন সময়ে জমিমানা করা হতো ১ টাকা। আসলে, ১ টাকা জরিমানা কখনো ওরা নিতো না, ওরা বেত দিয়ে পেটাতো ও বুটের লাথি মারতো। পাকিস্তান আমলে, আইয়ুব খান ছিলেন 'মাষ্টার', আর উনার অফিসারেরা ছিলেন প্রিন্স।
পাকিস্তান আমলের চেয়ে উনাদের শিষ্যদের আমল অনেক কড়া, এখন জরিমানার পরিমাণ বেড়ে ২০ হাজার টাকা অবধি উপরে উঠেছে; ভিক্ষা করে ১০০ টাকা আয় করে, ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, সাথে বোনাস হিসেবে বুটের লাথি ও বেতের পেটা তো আছেই।
পাকিস্তানের রেখে যাওয়া পুত-পবিত্র এলাকার আইনগুলো আমাদের পার্লামেন্ট নতুন করে পাশ করে, উহাদের নতুন স্তরে নেয়া হয়েছে।
মাতৃভুমিকে নিজের বাড়ীঘরের মতো পরিস্কার রাখা সকল নাগরিকের দায়িত্ব; কিন্তু মাত্বভুমিতে যদি ভিক্ষুক থাকে, তার ভিক্ষার স্হান কেন হবে শুধু আমাদের এলাকায়? মাতৃভুমিতে যদি টোকাই থাকে, তাদের পায়খানা কোথায় হবে, শুধু আমাদের ঘরের পাশে? গৃহহীন যদি থাকে তার ঘুমানোর যায়গা শুধু আমাদের এলাকায়?
গরীব দেশের রাজধানী সবার জন্য; রাজধানীতে এসব বিশুদ্ধ বাংগালী কি আমাদের আসলে দরকার আছে? মোটেই দরকার নেই! জরুরী অবস্হা মোকাবেলায় জন্য আমাদের দরকার শক্ত-সমর্থ ৩০/৪০ হাজার জোয়ান ভালো বাংগালী; বাকীদের পবিত্রতা রক্ষার জন্য তাদেরকে মক্কা বা মদীনা পাঠিয়ে দেয়ার দরকার! এই পুত-পবিত্র এলাকাটি জাতীয় পার্ক ও ইউনিভার্সিটির জন্য ব্যবহার করার দরকার; উহাতে হাজার টোকাই পেশাব করলে ইহা অপবিত্র হয়ে যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




