somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের বিশুদ্ধ শ্রেণী ও তাদের পুত-পবিত্র এলাকা

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


News Link

আপনি বাংলাদেশের সাধরণ নাগরিক, আপনি যে এলাকায় থাকেন, সেখানে ভিক্ষুকেরা ভিক্ষা করতে পারবে, টোকাইরা রাস্তায় ঘুমাতে পারবে, পায়খানা প্রস্রাব করতে পারবে, ছেড়া-কাপড় পরিধান করে দরিদ্র মানুষ চলাচল করতে পারবে, ফেরিওয়ালা আসতে পারবে, হয়রাণ হয়ে গেলে গাছে নীচে ঘুমিয়ে থাকতে পারবে, কষ্ট লাগলে মনে দু:খে গান গাইতে পারবে।

রাজধানীর একটা এলাকায়, নীল রক্তের বিশুদ্ধ শ্রেণীর বাংগালীরা বসবাস করেন, সেখানে ভিক্ষুকেরা যেতে পারবে না, মরে যান কিন্তু সাহায্য চাইতে পারবেন না, টোকাইরা ঘুমাতে পারবে না, আপনার পেশাবের চাপ আসলও পেশাব করতে পারবেন না, পায়খানার কথা তো উঠতেই পারে না।

এই বিশুদ্ধ এলাকা চালু করেছিল পাকিস্তান সরকার; ততকালীন সময়ে, ঐ বিশুদ্ধ পাকী এলাকায় উপরোক্ত কাজগুলো করলে, ততকালীন সময়ে জমিমানা করা হতো ১ টাকা। আসলে, ১ টাকা জরিমানা কখনো ওরা নিতো না, ওরা বেত দিয়ে পেটাতো ও বুটের লাথি মারতো। পাকিস্তান আমলে, আইয়ুব খান ছিলেন 'মাষ্টার', আর উনার অফিসারেরা ছিলেন প্রিন্স।

পাকিস্তান আমলের চেয়ে উনাদের শিষ্যদের আমল অনেক কড়া, এখন জরিমানার পরিমাণ বেড়ে ২০ হাজার টাকা অবধি উপরে উঠেছে; ভিক্ষা করে ১০০ টাকা আয় করে, ২০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, সাথে বোনাস হিসেবে বুটের লাথি ও বেতের পেটা তো আছেই।

পাকিস্তানের রেখে যাওয়া পুত-পবিত্র এলাকার আইনগুলো আমাদের পার্লামেন্ট নতুন করে পাশ করে, উহাদের নতুন স্তরে নেয়া হয়েছে।

মাতৃভুমিকে নিজের বাড়ীঘরের মতো পরিস্কার রাখা সকল নাগরিকের দায়িত্ব; কিন্তু মাত্বভুমিতে যদি ভিক্ষুক থাকে, তার ভিক্ষার স্হান কেন হবে শুধু আমাদের এলাকায়? মাতৃভুমিতে যদি টোকাই থাকে, তাদের পায়খানা কোথায় হবে, শুধু আমাদের ঘরের পাশে? গৃহহীন যদি থাকে তার ঘুমানোর যায়গা শুধু আমাদের এলাকায়?

গরীব দেশের রাজধানী সবার জন্য; রাজধানীতে এসব বিশুদ্ধ বাংগালী কি আমাদের আসলে দরকার আছে? মোটেই দরকার নেই! জরুরী অবস্হা মোকাবেলায় জন্য আমাদের দরকার শক্ত-সমর্থ ৩০/৪০ হাজার জোয়ান ভালো বাংগালী; বাকীদের পবিত্রতা রক্ষার জন্য তাদেরকে মক্কা বা মদীনা পাঠিয়ে দেয়ার দরকার! এই পুত-পবিত্র এলাকাটি জাতীয় পার্ক ও ইউনিভার্সিটির জন্য ব্যবহার করার দরকার; উহাতে হাজার টোকাই পেশাব করলে ইহা অপবিত্র হয়ে যাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৫৫
৪০টি মন্তব্য ৩৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চেয়ারের আত্মকথা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩০


চেয়ারের আত্মকথা

চেয়ারটি নাকি একদিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল, "মানুষ আমাকে যতটা ভালোবাসে, আমাকে বানানো কাঠটাকেও যদি ততটা ভালোবাসত, তবে পৃথিবীতে এত অহংকার জন্মাত না।"

আমি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"

চেয়ারটি বলল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"ধর্ষক ও চরিত্রহীনদের বাঁচাতেই কি ওয়াজের মঞ্চ? সাধারণ মানুষকে আর কত অন্ধ বানিয়ে রাখবেন!"

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্ষক ও ব্যভিচারীদের পাপ ঢাকা এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে অন্ধ বানিয়ে রাখার এই ভণ্ডামি আর কতকাল সহ্য করবেন?
পবিত্র ইসলাম আর সাহাবিদের ত্যাগকে কতখানি নামালে এই ভণ্ড মোল্লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×