somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কালী, মানুষকে খেতে দে, দরিদ্রদের খেতে দে

২০ শে নভেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই ঘটনাটি ঘটেছিলো আমার দশম শ্রেণীর শুরুর দিকে: আমার ঘনিষ্ঠ ক্লাশমেট, মেশকাত ইলেকটিভ ম্যাথে একটু কাঁচা ছিলো; সে আমার দলে ফুটবল খেলতো; তাই, তাকে অংকে সাহায্য করতে হতো মাঝে মাঝে। আমি ফুটবল খেলে, সন্ধ্যার পর বাড়ীতে ফিরতাম, খেয়েদেয়ে পড়তে বসলে ঘুম এসে যেতো, আমি ঘুমিয়ে পড়তাম; রাত ১০টা, ১১টার দিকে ঘুম ভাংতো, উঠে ঘন্টা'খানেক পড়ে আবার ঘুম। সপ্তাহে দু'এক রাতে মেশকাতকে পড়াতে যেতাম; আমাদের বাড়ী থেকে দেড় মাইল দুরে ওদের বাড়ী; রাত ১১টার দিকে রওয়ানা হতাম, এক দৌড়ে দেড় মাইল, ১৫ মিনিটের মত সময় লাগতো; রাত বারোটার দিকে আরেকবার দৌড় দিতাম আমাদের বাড়ীর দিকে। সারা গ্রাম ঘুমে, পথে মোটামুটি মানুষজন থাকতো না, শিয়াল মিয়াল সামনে পড়তো।

ওদের গ্রাম ও আমাদের পাড়ার মাঝখানে একটি হিন্দুপাড়া ছিল; রাস্তাটি একটি কালী মন্দিরের সামনে দিয়ে গিয়েছে; কালী মন্দিরটি একটি আদি বটগাছের নীচে, চাঁদনী রাতেও যায়গাটা কিছুটা অন্ধকার হয়ে থাকতো। দক্ষিণ দিকের বাড়ীগুলো মন্দির থেকে একটু দুরে ছিলো; মন্দিরের উত্তর পাশে একটি দরিদ্র বাড়ী ছিল, মন্ডল বাড়ী।

এক রাতে মেশকাতকে পড়ায়ে বাড়ী ফিরছি, তখন কালবোশেখীর সময়, পথে বের হওয়ার পর ঝড় শুরু হলো, বিদ্যূত চমকাচ্ছে ঘনঘন; আমি দৌড়াচ্ছি; আমি কালীঘরের কাছাকাছি আসতে বৃষ্টি শুরু হলো; কালীঘরের বারান্দায় উঠার জন্য বেগ বাড়িয়ে দিলাম। কালীঘরের কাছে আসতে, বিজলীর আলোতে আমি কালীঘরের বারান্দায় ১ জন মানুষকে দেখলাম; আমি বারান্দায় উঠার সময় মানুষটি মুল ঘরের ভেতরে চলে গেলো, এলাকাটি বেশ অন্ধকার। আমি প্রশ্ন করলাম,
-ঘরে কে?
-বাবা, আমি গোপালের মা।

গোপাল হলো মন্দিরের উত্তর পাশের বাড়ী, মন্ডল বাড়ীর ছেলে, ৮/৯ বছর বয়স হবে; বছর খানেক আগে ওর বাবা, দুলাল মন্ডলের মৃত্যু হয়েছে; ওরা খুবই গরীব; গোপাল জেঠাদের গরু ছাগল দেখে, স্কুলে যায় না। গোপালের মা বিধবা হওয়ার পর রাস্তাঘাটে তেমন বের হন না আর; আগে মাঝেমাঝে গ্রামের রাস্তা দিয়ে অন্য বাড়ীতে যেতে দেখতাম। সামনাসামনি পড়লে নমস্কার বলতাম।

-কাকিমা তুমি পুজা দিতে এসেছ?
-না, বাবা আমরা গরীব মানুষ, কেহ কালীভোগ দিয়েছে কিনা, দেখতে এসেছি!

অনেক কষ্ট পেলাম মনে; কালীভোগ মানে, মানুষ কিছু মানত করে, সাদা ভাত ও পুরো একটি গজার মাছকে ভাজি করে, কালী মায়ে'র উদ্দেশ্যে মাঝরাতে এখানে রেখে যায়; আগে, মানুষ বটের মুলে রেখে যেতো; শিয়াল কুকুর খেয়ে ফেলতো; আজকাল, কালীঘরের বারান্দায় একটা তাকের মতো করে দিয়েছে, ওখানে রেখে যায়; কেহ চাইলে খেতে পারে, অনেকে ভয়ে খেতো না, হাজার হলেও কালীভোগ!

মনে এত কষ্ট পেলাম যে, ইচ্ছে হলো ভিজে ভিজে রওয়ানা দিতে; আমি বললাম,
-কাকিমা, আমি চলে যাচ্ছি; আগামীকাল পুকুর থেকে একটা বড় মাছ ধরে, গোপালের জন্য পাঠাবো; তুমি ওকে রান্না করে দিয়ো।
-না বাবা, পাঠাইও না; গোপালের জেঠা পছন্দ করবেন না, উনি মনে করবেন যে, আমি ভিক্ষা করছি!
-কাকীমা, জগৎ কাকু (গোপালের জেঠা ) আমাদের ঘরের কাজ করেন প্রতি বছর; আমার মা পাঠালে উনি কিছু মনে করবেন না; আমাদের বুড়ো মিয়া এসে দিয়ে যাবেন; বুড়োমিয়ার সাথে জগৎ কাকুর সদ্ভাব আছে; জগৎ কাকুর জন্যও পাঠাবো।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:১৬
৪৭টি মন্তব্য ৪৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভারত কোন ভাবেই স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে সৈন্য পাঠায়নি!!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৬


ভারত কোন ভাবেই বাংলাদেশ স্বাধীন করার জন্য সৈন্য পাঠায়নি! সৈন্য পাঠিয়েছিল পাকিস্তানকে বিভক্ত করতে ও তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানকে লুটপাট করার উদ্দেশ্যে। প্রতিবেশি দূর্বল হলে দাদাগিরি করতে পারবে এটাই ছিল ইন্দ্রিরাগান্ধির ভিষন... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপপোকায় খাওয়াচ্ছ

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮


তোমার ফসলী মাঠের ফসল.
কেন উইপোকায় খাওয়াচ্ছ
কিছুদিন পর করবেটা কি
পাগল পাগল হবেই. শুনি!
পড়ালেখা করে একদিন বড় হবে
এটাই তো স্বপ্ন দেখি ওগো সোনাধন
তোমার সুনাম ভরে যাবে পাড়ায় পাড়ায়
গর্বে ভরে ওঠবে বাবা মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২

মূল্যটা খুব কম দিইনি...

দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত- এই বিশ্বাসকে নিজের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে রেখেছি সারাজীবন। কতবার ব্যক্তিগত ইচ্ছা, সুযোগ, এমনকি ন্যায্য অভিমানও গিলে ফেলেছি। কতবার চুপ থেকেছি, শুধু এই বিশ্বাসে যে ব্যক্তির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকাল বিবাহযোগ্য নারী-পুরুষ যে কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পায়

লিখেছেন এমএলজি, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৪

বছর দশেক আগের কথা। আমি তখন কানাডায় ব্যবসারত অস্ট্রেলিয়ান এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মে সিনিয়র স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করি। আমার এক সহকর্মী ছিলেন যার বয়স কমবেশি ৪৫ বছর। বেশ ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

গভীর রাতের যে আহ্বান পাল্টে দেয় জীবন

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা: এক ফাঁকা রাতের গল্প

রাত গভীর হয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তিনটার ঘরে। ঘরের সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×