
ভোটে জয়ী হওয়ার পর, বেগম জিয়াকে মুক্ত করাই ছিল বিএনপি'র ১ম উদ্দেশ্য, তাদের ২য় উদ্দেশ্য ছিলো, জামাতকে সাথে নিয়ে জয়ী হওয়া; এই ২টি উ্দ্দেশ্য তাদেরকে নাকাল করে পরাজিত করার জন্য যথেষ্ট ছিলো; তারা ৫টি সীট পেয়েছেন; রাজনীতি জানলে ১ সীট থেকেও রাজনীতি করা সম্ভব; কিন্তু উনারা রাজনীতির বদলে বিএনপি-নীতি শুরু করেছেন, যা উনাদেরকে ও জাতিকে কোনদিকে নিবে বলা মুশকিল; উনারা শপথে অংশ না নিয়ে, ড: কামাল সাহেবের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেবেন; নির্বাচন কমিশন উনাদের প্রেমপত্রের জন্য পথ চেয়ে বসে আছেন।
আমার ধারণা, আওয়ামী লীগ বসে থাকবে না, তারা হয়তো ব্যবস্হা নেবে, পরে যেন নির্বাচিত এই ৭ জন শপথ নিতে না পারে; এবং সেটা করাই সঠিক হবে; তখন এই ৭ জন ঝুলতে থাকবে।
বাংগালীরা এখন অপরাজনীতি করছে, তাদের কাছে অপরাজনীতিকে রাজনীতি মনে হচ্ছে; বিএনপি'র শুরুতে, জেনারেল জিয়া ততকালীন অপরাজনীতিবিদদেরই বেকার-রাজনীতিবিদ হিসেবে পেয়েছিলেন; ১৯৭০ সালের ভোটে পরাজিত, ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করে যারা অপরাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছিলো, জিয়া তাদেরকে ২য় জীবন, ৩য় জীবন দিয়েছিলেন; তবে, তারা অপরাজনীতিবিদ হিসেবেই বিএনপি'তে ছিলেন, সেটার ধারাভিকতা চলে এসেছে আজ অবধি; আজকে এমপি'দের শপথের সময়ে তারা স্মারকলিপি নিয়ে ব্যস্ত, ৭ পদ আপনা থেকেই হারিয়ে যাবে।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ইতিহাস হলো, বিরোধীদলে থাকলে তারা সংসদে যায় না; তারা যেতো, সংসদ বর্জন করতে; কারণ, সংসদে সরকারী দলও কিছু করে না; বসে বসে বিপক্ষকে গালি দেয়, বিরোধীদল সেখানে কি করবে, সরকারী দলকে গালি দেবে? সরকারী দল লাঠিপেটা করে ছেড়ে দেবে!
বিএনপি যে জয়ী হতে পারবে না, সেটা পরিস্কার ছিলো; অপরাজনীতি এমন লেভেলে এসেছে, যেখানে সরকারে না থাকলে জয়ী হওয়া মোটামুটি অসম্ভব। অপরাজনীতিবিদদের মাঝে কে কি কারণে জয়ী হবে, তার কোন সঠিক প্যাটার্ণ নেই; কি কারণে বদি'র বউ জয়ী হচ্ছে, আর কি কারণে ড: মইন খান পরাজিত হচ্ছে, সেটার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নেই, আছে অপরাজনৈতিক ব্যাখ্যা।
মনে হয়, বিএনপি তাদের মতে সঠিক নীতিতে আছেন, স্মারণলিপি দেয়াই সঠিক কাজ; আওয়ামী লীগের সঠিক কাজ হবে, এই ৭ জনের জন্য শপথটা ঝুলিয়ে দেয়া; পার্লেমেন্ট ভবনে ফ্রি খাওয়ার মতো লোকের অভাব নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




