
বিএনপি বন্ধ করার দরকার ছিলো জেনারেল জিয়ার মৃত্যুর সাথে সাথেই; তা'হলে, গত ৩৮ বছরে জাতি একটি সন্মানজনক অবস্হানে আসতে পারতেন; জেনারেল জিয়ার মৃত্যুর পর, বিএনপি'র চাবি কাঠি ছিল কেন্টনমেন্টে, এবং কেন্টনমেন্ট ২ ভাগে বিভক্ত ছিলো: জিয়াপন্হী ও এরশাদ পন্হী। তখন এরশাদ মিলিটারী অফিসারদের দ্বন্দ্বকে সামনে আনতে সাহস করেনি, সে সময়ের সাথে কিনে নেয়ার প্ল্যানে ছিলো।
৩০ তারিখের ভোটের কথাই উদাহরণ হিসেবে নিন; কোন দল এত সহজে ৩০০ সীটের মাঝে ২৫৭ এককভাবে, ও কোয়ালিশন হিসেবে ২৮৮ ভোট পেতে পারে? আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা মানুষের সাথে কথাও বলেনি, কোন প্রতিশ্রুতি দেয়নি, কোন ভোট কিনেওনি; বর্তমান বিশ্বে কোথায়ও এত সহজে ভোট হয়? শুধু শেখ সাহেব ও শেখ হাসিনার ছবি ঝুলায়ে দিয়ে পার্লামেন্টে জয়ী হয়ে যাওয়া! সবকিছুর মুলে ছিল অপরাজনীতির বিষবৃক্ষ বিএনপি-জামাতের সার্বিক অদক্ষতা।
বিএনপি আসলে বাংগালীদের রাজনৈতিক দল ছিলো না, ইহা ছিল: সিআইএ'র ডিজাইনে, বাংলাদেশ মিলিটারী ও পাকিস্তান মিলিটারীর যৌথ উদ্যোগ; সিআইএ কিছু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ভুল সিদ্ধান্ত উপনীত হয়েছিল যে, শেখ সাহেব ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্লাটফরম তৈরি করে, ততকালীন সোভিয়েত ব্লকে যোগদান করছেন। আসলে, শেখ সাহেব জন্ম তেকে সোস্যালিজম বিরোধী মানুষ ছিলেন; তিনি আমেরিকান পদ্ধতির সাগরেদ ছিলেন। উনি নিজে যেমন প্রতিবাদী নেতা ছিলেন, উনার অনুসারীদের মাঝেও অনেক প্রতিবাদী নেতা ছিলেন, যারা প্রতিবাদ করা ছাড়া অন্য কিছু জানতেন না; এসব প্রতিবাদীরা ১৯৭২/'৭৩ সালে দেশটিকে বধ্যভুমিতে পরিণত করেছিলো। এসব উদ্দেশ্যহীন প্রতিবাদীদের এক ছাদের নীচে আনার জন্য তিনি বাকশাল গঠন করতে চেয়েছিলেন; প্রতিবাদীদের বেশীরভাগই তরুণ ছিলেন, সমাজতন্ত্রের উপর ১ পয়সা পরিমাণ ধারণা না থাকলেও, এরা সবাই সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা ছিলেন; এইসব দেখে মার্শাল টিটো ও ফিদেল কাষ্ট্রো শেখ সাহেবকে সীমিত সমাজতন্ত্র কায়েমের উপদেশ দিয়েছিলেন; সেটাকে সিআইএ মনে করেছিলো যে, শেখ সাহেব সোভিয়েত ব্লকে চলে যাচ্ছে; ওরা উনাকে খুন করার পরিকল্পনা নেয়, ও আইয়ুব খানের আদলে একটি সরকার ও দল গঠনের প্ল্যান করে; তারা জানতো যে, মুসলিম লীগ যদিও শেখ সাহেবের কাছে পরাজিত হয়েছে, এদের লোকজন সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশকে আগের মতো পুর্ব পাকিস্তান বানায়ে দেবে; এখানেই জেনারেল জিয়া ও বিএনপি'র সৃষ্টি।
জেনারেল জিয়া ও উনার সমকালীন মিলিটারী অফিসারেরা নিজদের সব সময় পাকিস্তান মিলিটারী বাহিনীর সন্মানিত সদস্য হিসেবে ভাবতে ভালোবাসতো; ওদের ভুল একটা ধারণা ছিল, তারা ১৯৬৫ সালে ভারতের বাহিনীকে পরাজিত করে, বিশ্বের সেরা সৈনিকে পরিণত হয়েছে। বাংলার সাধারণ মানুষকে ওরা বস্তির মানুষের সমান ভাবতো, সাধারণ বাংগালীর কোন অধিকার থাকতে পারে, এই ধরণের কোন ভাবনাচিন্তা এসব অফিসারদের মাথায় ছিলো না।
পাকিস্তানের আইয়ুব খানের একই মডেলে জেনারেল জিয়া "হ্যাঁ/না" ভোট করেন; এই ভোটের সময়, ১৯৭৭ সালে, শতে ৯৮.৯ জন ভোটার জিয়াকে ভোট দেন; সাড়ে ৩ কোটী ভোটার ভোটে উপস্হিত ছিলেন। দেশে তখন ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটী থেকে সামান্য বেশী ও তৃণমুলে শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ আওয়ামী লীগের; এই ভোট প্রথমবার বাংগালীর রাজনীতিকে চরমভাবে "কলুষিত" করেছিল, ও আজকের অপরাজনীতির জন্ম দিয়েছিলো।
১৯৭৭ সালের ভয়ংকর জালিয়াতীকে আর থামানো সম্ভব হয়নি; কারণ, সবকিছু ছিলো মিলিটারীর হাতে; প্রশাসন থেকে শুরু করে বিএনপি'র তলানীর সিভিলিয়নরা জেনারেল জিয়ার ভয়ে প্যান্টে প্রস্রাব করতো নিয়মিত; ওদের সেই ভয়ের অবসান হয়েছে জিয়ার মৃত্যু সংবাদ শোনার পর; বিএনপি'র সিভিলিয়ানরা জীবনে মুক্তির স্বাদ পেয়েছিলো জিয়ার মৃত্যুর পর; তারা মৃত জিয়াকে ভালোবাসে, জেলের বেগম জিয়াকে ভালোবাসে, জিয়ার নির্বাসিত সন্তানকে ভালোবাসে; বিএনপি আসলে রাজনৈতিক থেকে ভালোবাসার দল।
এবারের ভোটে প্রমাণ হয়েছে যে, কেন্টনমেন্টের লোকেরা এখন বিএনপি'কে আর সাহায্য করতে পারছে না; কিংবা ইহার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে। ইহা এখন আওয়ামী লীগের জন্য সার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




