
আজকে, মুসলিম বিশ্ব ভয়ংকর সামাজিক বিশৃংখলার মাঝ দিয়ে যাচ্ছে; এর অনেক কারণ আছে: সবচেয়ে বড় কারণ হলো শিক্ষার অভাব, মুসলিম দেশের সরকারগুলো মানুষকে কৌশলে শিক্ষা থেকে দুরে রাখছে, নীচু মানের শিক্ষা, অপ্রয়োজনীয় শিক্ষা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রশাসনিক বৈষম্য, বেকারত্ব ও ধর্মীয় ব্যাপারে তরুণদের হস্তক্ষেপ; এই সমস্যাগুলো একটা অপরটার সাথে জড়িত, একটা অপরটার সৃষ্টি করছে।
১৯৭০ সাল থেকে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক বিশৃংখলা দেখা দেয়; ১৯৭৩ সালে, দেশের মিলিটারী ততকালীন সম্রাটকে ক্ষমতাচ্যুত করে, দেশকে রিপাবলিকে পরিণত করে; আবার ক্যু' হয় ১৯৭৮ সালে; ১৯৭৯ সালে, ততকালীন ক্ষমতাসীন আফগান সরকার, ততকালীন সোভিয়েত সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়ে সোভিয়েত সেনাবাহিনীকে দেশে নিয়ে আসে। শুরুতে সোভিয়েত বাহিনী সরকার বিরোধীদের স্তব্ধ করে দিতে সমর্থ হয়; কিন্তু অল্প সময়ের মাঝে আফগান তরুণরা সোভিয়েত হস্তক্ষেপকে ইসলামের উপর আক্রমণ হিসেবে প্রচারণা চালায় ও আফগানী গোত্রদের ও মুসলিম দেশসমুহ থেকে ভলনটিয়ার যোদ্ধাদের সমর্থন পায়; পাকিস্তান, কাশ্মীর, চেসনিয়া, দাকিস্তান, আরব, বাংলাদেশ থেকে প্রচুর তরুণ মুসলিম ভলনটিয়ার হিসেবে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর (নাস্তিকদের) বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়, এই আন্তর্জাতিক বাহিনী নিজদের ইসলামিক মুজাহিদ হিসেবে পরিচয় দেয়; আমেরিকা ও আরবের টাকা, অস্ত্র মুজাহিদদের শক্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। মুজাহিদদের সোভাগ্য যে, সেই সময়ে সোভিয়েতে আভ্যন্তরীণ সমস্যা প্রকট হয়ে সোভিয়েত ভাংগার দিকে; সোভিয়েতের এই করুণ অবস্হাকে মুজাহিদেরা আল্লাহের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সাহায্য হিসেবে বিশ্বাস করে, কিংবা প্রচার হলেও চালায়।
১৯৮৯ সালে, মুজাহিদেরা সোভিয়েত বাহিনীকে পুরোপুরিভাবে পরাজিত করে, সোভিয়েত বাহিনী চলে যায়; দেশ মুজাহিদদের হাতে; এটা ছিল তরুণ মুসলমানদের বিরাট বিজয়, এরাই তখন নতুন এক আফগানিস্তানের মালিক। কিন্তু এদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণ আফগানিস্তানের জন্য যথেষ্ঠ ছিলো না, এদের থেকেও সাচ্চা মুসলিম তরুণরা সংগঠিত হচ্ছিল আফগানিস্তানেে সঠিক ইসলাম কায়েম করার জন্য: মোল্লা ওমরের নেতৃত্বে মুলত: মক্তব, মাদ্রাসা ও অশিক্ষিত তরুণরা সংগঠিত হয়; তারা ১৯৯৬ সালে মুজাহিদদের থেকে দেশের ক্ষমতা দখল করে নেয়, তারা নিজেদের ইসলামের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেয়; তারা ২০০১ সালের অক্টোবর অবধি আফগানিস্তান চালায়েছে; সারা বিশ্ব, বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকা তাদের আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছে; তালেবানরা সেই সময়ে বলেছে যে, তরুণ মুসলিমদের বিজয়ে পশ্চিম ভীত হয়ে গেছে। যাক, ২০০১ সালে, আমেরিকান সৈন্যরা আফগানিস্তান দখল করে নেয়, ও তাদের তাবেদারদের হাতে দেশের ক্ষমতা তুলে দেয়। তালেবান সদস্যদের বয়স এখন ২২ বছর বেড়েছে, এরা সবাই এখন তরুণ নয়, কিন্তু এদের দলে তরুণদর অভাব নেই, এরা এখনো আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়ার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




