
এক সময়, গাজা মোটামুটি একটি পরিত্যক্ত ভুমি ছিলো; উহা আনুমানিক ২২ মাইল লম্বা ও গড়ে ৭ মাইল চওড়া; এখন, সেখানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস ;ইহা প্যালেষ্টাইনীদের জন্য কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করা একটা বিশাল রিফিউজী ক্যাম্প; এখানকার অধিবাসীদের আয়ের মুল উৎস হলো ইসরেয়েলের ভেতরে গিয়ে দৈনিক মুজুর হিসেবে কাজ করা। বর্তমানে, যাদের বয়স, ৩৫'এর আশেপাশে, তাদের অনেকেই লেখাপড়া করেছে; হামাসের কার্যকলাপে এরা গাজা থেকে পালিয়ে যেতে চায়; ইসরায়েলও চায় যে, তরুণরা পালিয়ে যাক।
হামাসের গত ১২ বছরের কর্মকান্ডের ফলে, গাজার লোকজন কোনভাবে উপকৃত হচ্ছে না, প্যালেষ্টাইনের স্বাধীনতার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে; আসলে, তাদের সংগ্রাম বা জিহাদের ফলে ইসরায়েল উপকৃত হচ্ছে! হামাসের কর্মকান্ড থেকে রেহাই পেতে, এই রিফিউজী ক্যাম্প থেকে প্যালেস্টাইনীরা একদিন পালিয়ে যাবে; ইসরায়েল চাচ্ছে যে, প্যালেষ্টাইনীরা গাজা ছেড়ে পালিয়ে যাক।
হামাস ২ দিক থেকে উগ্রপন্হী: প্যালেষ্টাইনের স্বাধীনতার জন্য হামাস উগ্র-পন্হায় বিশ্বাস করে: তারা বিশ্বাস করে যে, ইসরায়েলকে পরাজিত করতে না পারলে, প্যালেষ্টাইনকে স্বাধীন করা সম্ভব নয়; তারা আবার ইসলামিক দিক থেকেও উগ্রপন্হী; পিএলও ও তাদের সমর্থকেরা মডারেট মুসলিম হিসেবে পরিচিত; হামাস ও তাদের সমর্থকেরা ব্রাদারহুড ও হেজবুল্লার মত জিহাদী মুসলিম, যা ইসরায়েল ও পশ্চিমের দেশগুলো পছন্দ করে না।
ইসরায়েলকে পরাজিত করা সম্ভব হলে, ইসরায়েল রাষ্ট্রও থাকবে না; যেখানে বর্তমান ইসরায়েল অবস্হিত উহা ইহুদীমুক্ত হবে; সেখানে স্বাধীন প্যালেস্টাইন হবে একদিন; এটাকে সামনে রেখে হামাসের সংগ্রাম শুরু হয়েছিলো। কিন্তু ইহা যে অসম্ভব বিষয়, তা হামাসের মগজে ঢুকে না।
হামাস ইসরায়েলকে আক্রমণের আগে, আক্রমণ করেছিলো পিএলও'কে; ২০০৭ সালে, হামাস পিএলও'কে গাজা থেকে বের করে দেয়; পিএলও'র লোকেরা দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলো; তারা আরবদের দেয়া টাকা পয়সা লুকিয়ে ফেলতো, ও সেগুলো খরচ করে, ভালো জীবনই যাপন করতো। প্যালেষ্টাইনের লোকেরা পিএলও'র দুর্নীতিতে বিরক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু তাদের নেতৃত্বে আস্হা হারায়নি কোনদিন। কিন্তু গাজার মুসলমানেরা হামাসের উস্কানীতে উগ্রপন্হীতে পরিণত হয়; হামাস সিভিলিয়ান ইসরায়েলী নাগরিকদের উপর আক্রমণ চালালে গাজার লোকেরা সেটার সমর্থন দেয়ার শুরু করে; গাজার লোকেরা ওয়েষ্ট ব্যাংকের প্যালেষ্টাইনীদের থেকে অনেকটা আলাদা হয়ে গেছে আজকাল।
হামাসের আতসবাজীর রকেট আক্রমণ ঠেকাতে ইসরায়েল ভয়ংকর বোমা আক্রমণ চালায় বরাবরই; হামাসের ভুলের জন্য, গত ১২ বছরে কয়েক হাজার প্যালেষ্টাইনী প্রাণ হারায়েছে; কয়েক হাজার লোক পংগু হয়ে গেছে; এই আতসবাজী রকেট আক্রমণ কোনদিন শেষ হবে না, প্যালেষ্টাইনও স্বাধীন হবে না। ইসরায়েল অনেকভাবে চেয়েছিলো যে, গাজার লোকেরা পালিয়ে যাক; তারা পালায়নি। এখন গাজার তরুণরা হামাসের হাত থেকে পালানোর পথ খুঁজছে, তারা জানে যে, হামাসের আতসবাজীর ফলে সাধরণ মানুষ প্রাণ হরাবে, এখানে কারো কোন ভবিষ্যত নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৯ রাত ৯:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



