
সম্প্রতি ব্লগে অনেকগুলো পোষ্ট এসেছে, যেখানে কান্নাকাটি হচ্ছে, বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলো কেন বিশ্ব র্যাংকিং'এ নেই; পোষ্টগুলোতে এই নিয়ে শুরু হয় ব্যাখ্যা, অপব্যাখ্যা, মন্তব্য, অপমন্তব্য, হাহাকার, আশা, নিরাশা, হতাশা, দুরাশা, প্রত্যাশা। এখন থেকে ৩/৪ বছর আগেও এই ধরণের অনেক পোষ্ট দেখেছি; তখন সেগুলো পড়ে মনে হতো, ঢাকা, জাহাংগীর নগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যানচেলরেরা ও আমাদের প্রেসিডেন্ট সাহেব এসব পোষ্ট পড়ার পর, এমন ব্যবস্হা নেবেন যে, ২/১ বছরের ভেতরেই আমাদের ইউনিভার্সিটিগুলো হার্বাড, কেম্রিজ, অক্সফোর্ডকে পেছেন ফেলে সামনের সারিতে চলে যাবে। গত কয়দিনের পোষ্ট পড়ে মনে হচ্ছে, সেটা আজো ঘটেনি; তবে, আবদুল হামিদ সাহেব চ্যানচেলর থাকাকালীন সময়ে ঘটতে পারে!
পড়ালেখা সংক্রান্ত এসব পোষ্টগুলো আমি পড়ি ও মন্তব্য করি; মন্তব্য করতে করতে এক সময় ঝগড়া লেগে যাই; ফলাফল, আমি কিছু সময়ের জন্য ব্যানেও পড়ি; ব্যান থেকে বের হলেও, ঝগড়া থামে না। অনেক ঝগড়াঝাটি করেও আমি পোষ্টদাতাদের থেকে সামান্য মৌলিক ২/১টি বিষয়ে আজো জানতে পারিনি!
যাঁরা র্যাংকিং নিয়ে এত কান্নাকাটি করে পোষ্ট দেন, আমি তাঁদেরকে ১ম প্রশ্ন করি, "আপনি কোন ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করেছেন?" ইহার উত্তর মিলে না বললেই চলে! পোষ্টের লেখক কেন এই প্রশ্নের উত্তর দেন না, সেটা তিনি জানেন; কিন্তু আমার উদ্দেশ্য হলো, লেখক কোন র্যাংকিং'এ থাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করেছেন কিনা! লেখক নিজেই যদি র্যাংকিং'এ থাকা কোন ইউনিভার্সিটি থেকে পড়ালেখা করেন, পোষ্ট একটু অন্য রকম হতো, এত আশা, নিরাশা, দুরাশা, হতাশা ও প্রত্যাশার অবতারণা ঘটতো না।
র্যাংকিং ব্যাপারটা আসলেই খুবই লজিক্যাল, সেই লজিক বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়; র্যাংকিং'এ ১ম সারির ইউনিভার্সিটিগুলোর ঐতিহাসিক সুনাম আছে: এদের ছাত্ররা বহুদেশের প্রেসিডেন্ট, প্রাইম মিনিষ্টার, অর্থমন্ত্রী, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ, ফাও'এর প্রধান হয়ে থাকেন, বড় বড় কর্পোরেশন, ষ্টক-মার্কেট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চালান; এসব স্কুলগুলো কঠিন কঠিন সাবজেক্টে পিএইচডি দেয়, এসব সাবজেক্টের থিসিসগুলো বড় বড় আবিস্কারের, অর্থনোতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে পরিণত হয়; এসব স্কুলগুলো বিশ্বের বড় বড় ফান্ড থেকে রিসার্চ ফান্ড পেয়ে থাকে, এখানে অনেক যাচাই বাচাই করে ছাত্র নেয়া হয়।
আমাদের বিশ্ববিদয়ালয়গুলোতে পিএইচডি দেয়া হয় বাংলায়, ইসলামিক ইতিহাসে, মওলানা ভাসানীর জীবনীর উপর; এগুলোর জন্য যেই ধরণের রিসার্চ হয়, সেটার জন্য ফান্ডের দরকার হয় না; ফোর্ড ফাউন্ডেশন, ইনটেল বা মাইক্রোসফট, কিংবা কুইন এলিজাবেথ এগুলোর জন্য ফান্ড দেবে না; ফলে, র্যাংকিং'এ যাবার জন্য এসব থিসিস ইউনিভার্সিটিকে সাহায্য করার কথা নয়।
আরেকটা খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয় আছে, সেটা হলো, শিক্ষকদের ও ছাত্রদের রিসার্চ পেপারগুলোর মান ও প্রকাশনার পরিমাণ; আমাদের দেশের ছাত্ররা পিএইচডি লেভেলে যেসব পেপার লেখেন, সেগুলো কোথায় প্রকাশ করেন, আমার জানা নেই; যারা র্যাংকিং নিয়ে কান্নাকাটি করে ব্লগে পোষ্ট দেন, তারা কি জানেন? আমার মনে হয়, উনাদের অবস্হা আমার মতো গড়ে হরিবোল।
আমি আরেকটা লাইন যোগ করতে চাই, সেটা হলো, ইউনিভার্সিটির র্যাংকিং নির্ভর করে স্বয়ং জাতির নিজের র্যাংক'এর উপর! সবাইকে পড়ার সুযোগ দিতে হবে, আমাদের সেই পরিমাণ সম্পদ আছে; গরীবদের পড়ালেখার ভার সরকারকে নিতে হবে; র্যাংকিং'এ থাকা বড় ব্যাপার নয়, বড় ব্যাপার হলো, সবার শিক্ষার অধিকার যেন পুর্ণ হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০১৯ রাত ৯:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



