somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যেভাবে দেশ চলছে, দেশে ঘাটতি বাজেটের দরকার নেই!

১৫ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৯:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



** ঘাটতি বাজেটের দরকার হয়: আইনীভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারী খরচের (পেনশন, ওয়েলফেয়ার, স্কুল-কলজের খরচ, সরকারী স্হাপনার মেরামত) জন্য, উন্নয়ন ও ভর্তুকি দেয়ার জন্য; বাংলাদেশ সরকার এই ধরণের খরচ সঠিকভাবে করে না, উন্নয়নের অর্থনীতির কোন বৈশিষ্ঠ্য বাজেটে নেই। **

সরকার বিশালভাবে প্রচারমুখী হয়ে গেছে, এবারের বাজেটের জন্য তারা একটি শ্লোগানও বের করেছ; শ্লোগানটি হলো, "সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের"; সরকারের শ্লোগানের শেষাংশটা সঠিক আছে, "সময় এখন সরকারের"। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা (৫২৩১৯০,০০০০০০০ টাকা, নুরু সাহেবের মাথা ঘুরবে অনেকক্ষণ); এই সময়ে সরকারের আয় হবে, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ; আয় থেকে ব্যয় বেশী, বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ, ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা; এই ঘাটতি পুরণের জন্য বিদেশী ব্যাংক ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হবে!

সরকারের আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, বাজেটও যদি ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকার মাঝে করা হয়, তা'হলে সরকারকে ঋণ নিয়ে হচ্ছে না; জনগণের টাকায় জনগণের দেশ চলবে, ঋণ কেন? জনগণ কি সরকারকে ঋণ নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন? বাংলাদেশ সরকার কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, সেটা কি আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নাকি অর্থমন্ত্রী চাইলেই ঋণ নিতে পারবেন? ঋণের পরিমাণ পুর্বের থেকে নির্ধারিত থাকলে, ঘাটতির ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা কি সেই নির্ধারিত পরিমাণের ভেতরে, নাকি বেশী? বেশী হলে, পার্লামেন্টে তা পাশ করানো হবে কিনা? সরকারকে ঋণ নিতে হলে, পারলামেন্টে যে তা পাশ করাতে হয়, সেটা সরকার জানে কিনা?

আপনি যদি কোন বড় কর্পোরেশনের সিইও হয়ে থাকেন, আপনার কর্পোরেশন যদি ফাইন্যান্সিয়েলি সবল হয়ে থাকে, এবং আপনার কর্পো: যদি ব্যাংকের কাছে পরিচিত হয়ে থাকে, তখন আপনি যদি ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চান, চাইলে ব্যাংক ঋণ দিতে পারবে না; ব্যাংককে, আপনি কাগজপত্রে দেখাতে হবে যে, ঋণের টাকা বিনিয়োগের প্ল্যান আছে ( প্রজেক্ট প্ল্যান ), ফাইন্যান্সিয়েলি সেই বিনিয়োগ লাভবান হবে, সেই বিনিয়োগ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হবে, এবং তা নিদ্দিষ্ট সময়ের ভেতরে। দেশের বেলায় নিয়মটি ১০০ ভাগ প্রয়োজ্য। আমাদের অর্থমন্ত্রীর ভাষণে, কিংবা বাজেট ঘোষনায় কোন কোন খাতে ব্যয়ের জন্য ঋণ নেয়ার প্ল্যান করা হয়েছে? সেই সব খাত কতদিনে, সেই ঋণ শোধ করিবে, তার কোন প্ল্যান আছে কিনা? আমি শতভাগ নিশ্চিত যে, ক্রিকেট কামাল সাহবের বাজেটে এই রকম কিছু নেই!

আমাদের মতো দেশে, ঘাটতি রেখে বাজেট করতে হয়, শুধু মাত্র খাদ্য কেনা, চাকুরী সৃষ্টির জন্য কলকারখানা করতে, কিংবা কৃষিতে ঋণ, কিংবা ভর্তুকি দেয়ার জন্য; খাদ্য কেনার জন্য বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ কম সুদে ঋণ দেয়; কৃষি বা কোন ভর্তুকির জন্য বিদেশী ব্যাংক ঋণ দেবে না; সেটা নেয়া যায়, দেশী ব্যাংক থেকে; তখন সরকারকে যথা সময়ে ঋণ শোধ করার নিশ্চয়তা দিতে হয়।

ক্রিকেট কামাল সাহেব, কিংবা শেখ হাসিনা বাজেটের ঘাটতি অংশ নিয়ে কথা বলেনি; কারণ, তারা বাজেটকে ব্যালেন্স করতে জানেন না; কোন কোন সেক্টরের কারণে ঘাততি হচ্ছে, সেটা সঠিভাবে নির্ণয় করতে পারেন না; ঘাটতির সেক্টরগুলোকে লাভজনক করার মতো দক্ষতা তাদের নেই। আসলে, যেই পরিমাণ আয় হবে( ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি ), সেই পরিমাণ টাকা ব্যয় করার মতো সংস্হা, বা জনবল কোনটাই তাদের নেই। আপনি নিজেই ভাবুন, আপনাকে যদি পরিকল্পনামন্ত্রী করা হয়, আপনার অধীনে যদি ১ বছরে, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়, যত পরিমাণ দক্ষ জনবল (সব মিনিষ্ট্রি মিলে) দরকার, তা'কি বাংলাদেশ সরকারের আছে? মোটেই নেই!

সরকার যদি দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, দেশে বেসরকারী ঋনের জন্য টাকা থাকে না, ব্যবসায়ীরা ঋণ নিতে পারে না; কিন্তু বাংলাদেশে সেই অবস্হা বিরাজ করছে না; মনে হয়, অনেক ব্যাংক 'অলস টাকা' নিয়ে বসে আছে, তারাই লবিং করে সরকারকে ঘাটতি বাজেট করাচ্ছে; ক্রিকেট কামাল সাহেব বাজেট করছেন না, আসলে ক্রিকেট খেলছেন! উনি চাপের মুখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ড থেকে রিজাইন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৪
১৪টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই বিপ্লব নাকি জুলাই CDI?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২৯



আমি মনে করি জুলাই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণ। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম, মায়-মমতা আছে, যারা অন্যায়-অবিচার দেখলে প্রতিবাদ করেন, তারাই এই আন্দোলনের মূল শক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলমানের সন্তানের নাম জিকো কীভাবে হতে পারে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫৫


ছোটো মামার মুখে একটা নাম প্রায়ই শুনতাম, জিকো। তখন বুঝতাম না এটা কে, শুধু জানতাম এই মানুষটা নাকি ফুটবল মাঠে জাদু দেখাতেন। পরে জেনেছি তার আসল নাম আর্থার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×