somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিশরের বহিস্কৃত প্রেসিডেন্ট ড: মোরসীর মৃত্যু নিয়ে বাংগালীরা বিভক্ত?

১৮ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মিশরের বহিস্কৃত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসীর(১৯৫১-২০১৯) মৃত্যু নিয়ে বাংগালীরা বিভক্ত কেন? এই ব্যাপারটা নিয়ে বাংগালীরা একমত পোষণ করলে কেমন হতো? মিশরীয়রা অনেকটা বাংগালীদের মতো ঐক্যহীন জাতি, তাদের মাঝে বড় ৩টি ভাগ আছে: (১) আরব জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয়রা, এরা আরব ব্রাদারহুড ও কয়েকটি দলে আছে (২) আমেরিকানপন্হী, সৈন্যবাহিনী ও ধনীক শ্রেণী, এরা শিক্ষিত, ব্যবসা বাণিজ্য এদের হাতে (৩) সন্মিলিত আরব ঐক্যের পক্ষের সাধারণ মানুষ: এরা জামাল নাসেরের ( প্রেসিডেন্ট, ১৯৫৬ -১৯৭০) আদর্শে বিশ্বাসী, সন্মিলিত আরব ঐক্যে বিশ্বাসী; এদেরকে অনেকে 'বাম' বলে; আসলে, এরা বাম নয়, জামাল নাসেরের সময়, প্রাক্তন সোভিয়েট ইউনিয়ন মিশরকে বড় আকারে সাহায্য করে: নীল নদীতে বাঁধ দেয়, উহার নাম "আসোয়ান বাঁধ"; এই বাঁধের ফলে মিশরে সেঁচ ও বিদ্যূৎ উদপাদনের ব্যবস্হা হয়; এই সময়ে মিশরের বড় অংশ জনতা জামাল নাসের ও সোভিয়েতের নীতিকে পছন্দ করে। কিন্তু ধর্মীয়রা সোভিয়েতের এই সাহায্য পছন্দ করেনি; কারণ, সোভিয়েতের লোকজন ধর্ম মানতো না। জামাল নাসের অনেকটা শেখ মুজিবের মতো জনপ্রিয় ছিলেন। নাসের ইসরায়েল বিরোধী ছিলেন ও ইসরায়েলের বিপক্ষে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছিলেন।

নাসের একেতো ইসরায়েল বিরোধী যুদ্ধে পরাজিত, আবার সোভিয়েতকে নিয়ে দেশ গড়ছে, আমেরিকা এটি পছন্দ করেনি; আমেরিকা নাসেরকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মিশরের সামরিক বাহিনীকে ও ধর্মীয়দের ব্যবহার করে। এই সময় ব্রাদাহুড জাতীয় আরবেরা আমেরিকার পক্ষে ছিলো। নাসেরের পর মিসর আসলে সৈন্য বাহিনীর হাতে চলে যায়; সৈন্য বাহিনীর মুখপাত্র হিসেবে আনোয়ার সা'দাত(প্রেসিডেন্ট, ১৯৭০-১৯৮১) ক্ষমতায় আসেন। তিনি বুঝলেন যে, আরবেরা ইসরায়েল ও আমেরিকার মিলিত শক্তির সাথে পেরে উঠবেন না। মিশরের কিছু অংশ ইসরায়েল দখল করে রেখেছিলো, উহার মাঝে ছিল সুয়েজ খাল; সুয়েজ খাল ছিলো মিশরের আয়ের সবচেয়ে বড় পথ। আনোয়ার সা'দাত আমেরিকান নেতৃত্বে ইসরায়েল'এর সাথে চুক্তি করেন; তিনি সুয়েজ খাল ফেরত পান ও আমেরিকান ক্যাশ পেতে থাকেন।

সেনাবাহিনীতে অবস্হিত ধর্মীয় ও ইসরায়েল বিরোধীরা আনোয়ার সা'দাতের আমেরিকা ও ইসরায়েল প্রীতি পছন্দ করেনি, তারা উনাকে হত্যা করে; উনার উত্তরসুরী হয়ে আসেন হোসনী মোবারক(প্রেসিডেন্ট, ১৯৮১-২০১১)। আনোয়ার সা'দাত কিন্তু জামাল নাসেরের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন; এতে করে, কিছুটা দেশ প্রেম ছিলো উনার মাঝে; কিন্তু হোসনী মোবারক আসলে মিলিটারী শাসনের লোক ছিলেন ও আমেরিকার গৃহপালিত রাজনীতিবিদ ছিলেন। ২০১১ সালে, তিউনিশয়া থেকে উদ্ভুত "আরব বসন্তে" উনি কুপোকাত হন। হোসনী মোবারকের সাথে সেনাবাহিনীও পরাজিত হয়। বিপ্লবে মিশরের সাধরণ মানুষই বেশী ছিলেন, নাসের পন্হীরা বড় ভুমিকা পালন করেছিলো; বিপ্লবে প্রচুর মানুষ প্রাণ হারান, ইহাতে মোরসীর লোকজন বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তারা সেনা বাহিনীর বিপক্ষ অস্ত্র নিয়ে লড়ে; সাধারণ মানুষের হাতে অস্ত্র ছিলো না; এদের হাতে অস্ত্র ছিলো; বিপ্লব পরবর্তী ভোটে এরাই জয়ী হয়ে যায়।

ড: মোরসী প্রেসিডেন্ট(জুন, ২০১২- জুলাই, ২০১৩) নির্বাচিত হয়; সেনা বাহিনী এতে খুশী ছিলো না; মিশরের সেনাবাহিনী মোটামুটি দেশের ভেতরে আরেকটি দেশ: তাদের শিল্প কারখানা আছে, ব্যবসা বাণিজ্য আছে, স্কুল কলেজ আছে, আবাসিক এলাকা আছে, জায়গা জমি আছে। তারা ড: মোরসীকে সরানোর সুযোগ খুঁজছিলো ; সুযোগটা মোরসীই করে দিলো। নির্বাচনের পর, মানুষ 'নতুন সংবিধান' চাচ্চিল; মোরসী নতুন সংবিধান রচনার দাবী মেনে নেন, ১ বছর লাগবে সংবিধান তৈরি করতে। তিনি ও মানুষ জানতেন যে, ব্রাদারহুডের এমপি'রা নতুন কি ধরণের সংবিধান রচনা করবেন। এই মধ্যকালীন ১ বছর দেশ কিভাবে চলবে? দেশ চলবে 'প্রেসিডেন্ট ডিক্রিতে'; মোরসী এই ১ বছর ইসলামী শরীয়াহ অনুসারে দেশ চালনা করার অভিপ্রায় প্রকাশ করেন; নাসের পন্হীরা মোরসীর বিপক্ষে ফেটে পড়েন; সেনাবাহিনী এই সুযোগ খুঁজছিলো; তারা ক্ষমতা দখল করে নেয়।

এরপর, মোরসীর লোকেরা মিলিটারীর বিপক্ষে অস্ত্রহাতে নেমে পড়ে; প্রচুর মানুষ প্রাণ হারায়; বিপুল পরিমাণ মানুষ গ্রেফতার হয়; মোরসীর বিচার চলছিলো; আদালতে হার্ট এ্যটাকে উনার মৃত্যু হয়েছে গতকাল; ৩/৪ টা পোষ্ট এসেছে ব্লগে, ব্লগারেরা উনার ভুমিকা নিয়ে বিভক্ত: কেহ বলছেন যে, ফেরাউনদের হাতে উনার মৃত্যু হয়েছে; অন্যেরা বলছেন, ফেরাউনের মৃত্যু হয়েছে!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৯ রাত ১১:০৭
৩০টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১১১

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:২২



দুটি হাঁসের পিছনে একটি হাঁস, দুটি হাঁসের সামনে একটি হাঁস, এবং দুটি হাঁসের মাঝখানে একটি হাঁস। মোট ক’টি হাঁস রয়েছে?

১। লোকে যে কেন বসন্তের গুনগান করে বুঝতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোয়াবিয়া ছিল সত্যদ্রোহী, হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণীত

লিখেছেন রাসেল সরকার, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৩৩




عن أَبِي سَعِيدٍ الخدري ، قَالَ: " كُنَّا نَحْمِلُ لَبِنَةً لَبِنَةً وَعَمَّارٌ لَبِنَتَيْنِ لَبِنَتَيْنِ ، فَرَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَنْفُضُ التُّرَابَ عَنْهُ ، وَيَقُولُ: وَيْحَ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাড়ীর সবকিছু এক নম্বর শুধু ব্রেকটা একটু নড়বড়ে!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০২




দলের ভিতর শেখ হাসিনার চলমান শুদ্ধি অভিযান দেখে উপরের শিরোনামটি মনে পড়ল, ভাল কিছু করতে হলে আগে নৈতিক স্বচ্ছতা থাকতে হয় তাহলে মানুষ মন থেকে নিবে।
ছাত্রলীগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি রক্তাক্ত লাল পদ্ম

লিখেছেন ইসিয়াক, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪


সেল ফোনটা বেজেই চলেছে ।বিরক্ত হয়ে ফোনটা তুললাম। রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে বলে নাম্বারটা না দেখেই চেঁচিয়ে বললাম ।
-এই কে ?
- আমি ।
মিষ্টি একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সবাই যদি দেশকে ভালোবাসে, এত ভালোবাসা যায় কোথায়?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:১৮



সবাই ভালোবাসা চায়, সবাই ভালোবাসতে চায়, নারীরা হয়তো একটু বেশী চান, এটাই প্রকৃতির নিয়ম! কোন দেশ তার নাগরিকের কাছে কোনদিন ভালোবাসা চাইতে আমি শুনিনি; বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×