
মালয়েশিয়া, সিংগাপুর, তাইওয়ান, কানাডা, আমেরিকা, চিলি, সুইডেন, নরওয়ে ইত্যাদিরা বিদেশী মানুষ এনেও তাদের প্রয়োজনীয় শ্রমের চাহিদা মেটাতে পারছে না; অপরদিকে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আফ্রিকা, মেক্সিকো, হন্দুরাস কিছুতেই নিজের মানুষকে কাজ দিতে পারছে না, মানুষ বছরের পর বছর বেকার বসে থাকছে, বা নিজের শিক্ষা ও দক্ষতা থেকে কম আ্য়ের কাজ করে, পরিবার নিয়ে ভীষণ কষ্টের মাঝে আছে; ব্যাপরটা কি? মালয়েশিয়া সরকারের লোকদের মাঝে আর বাংলাদেশ সরকারের লোকদের মাঝে দক্ষতার কি পার্থক্য? নাকি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিশর, আফগানিস্তানের কাছে সম্পদ নেই?
বর্তমান বিশ্বে সবার কাছে সম্পদ আছে; আসলে, বেকার মানুষগুলোও বিশাল সম্পদ; সেই দিক থেকে হিসেব করলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মেক্ষিকো, ফিলিপাইনের কাছে অনেক সম্পদ আছে, যা তারা কাজে লাগাতে পারছে না। বিল্ডিং তৈরিতে কাঁচা মাটির তেমন মুল্য নেই; কিন্তু ইটের মুল্য আছে; সেই ক্ষেত্রে মাটি থেকে ইট বানিয়ে নিলে, মুল্যহীন মাটি দরকারী উপাদানে পরিণত হচ্ছে বিল্ডিং'এর জন্য।
আজকে আমাদের দেশে যেই পরিমণ বেকার মানুষ আছেন, এরা গতকাল থেকে বেকার হননি; এদের শুরু ছিলো ১৯৭২ সালে, এবং সর্বশেষ এদের পরিমাণ বিশালভাবে বেড়ে চলছে ২০০৯ সাল থেকে। ধরুন, আজকে দিনের কথা, আজকে বেকার লোকদের নিয়ে শেখ হাসিনা সকালে মিটিং করেনি, সেজন্য আগামী বছর ও তারপরের বছরও বেকারের হার বাড়বে।
শেখ হাসিনা যদি ২০০৯ সাল থেকে, প্রতি বৃহস্পতিবার ও প্রতি রবিবার বেকারের সংখ্যা ও উহার সমাধান নিয়ে মিটিং করতেন, আজকে বাংলাদেশকে বার্মা ও ভারত থেকে শ্রমিক আনতে হতো। শেখ হাসিনা যে, এসব ব্যপারে মিটিং করছেন না, তা নয়; উনি মিটিং করছেন মৃত-মগজের মানুষদের সাথে: মুহিত, ক্রিকেট কামাল, নাহিদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, এগুলো ভাবনাচিন্তার দিক থেকে মৃত মানুষ; এরা সঠিক ভাষায় কিছু বলতে পারে না, সঠিকভাবে কিছু লিখতে পারে না, পড়লে বা শুনলে বুঝতে পারে না, দেখলে এনালাইসিস করতে পারে না।
শেখ হাসিনার দরকার ছিলো, চোর হোক আর ধোর হোক, সব ব্যাংকের সিইও'দের সাথে কথা বলা, বড় বড় শিল্পের সিইও'দের সাথে কথা বলা, ট্রাক ও বাস মালিকদের সাথে কথা বলা, কনষ্ট্রাকশান কোম্পানীদের সাথে কথা বলা, সিমেন্ট তৈরির কারখানার সিইও'দের সাথে কথা বলা, বড় বড় চাষী ও মাছ চাষীদের সাথে কথা বলা, ইউনিভা্রসিটির শিক্ষকদের সাথে কথা বলা, ষ্টক-মার্কেটের লোকদের সাথে কথা বলা; উনি বরাবরই কথা বলে আসছেন বেকুব ব্যুরোক্রেট ও অদক্ষ মন্ত্রীদের সাথে; এতে করে উনি বরাবরই বেকুদের মাঝে থেকে যাচ্ছেন।
ভেবেচিন্তে আপনারা কিছু একটা বের করুন, না'হয় আপনাদের মতো তরুণেরা কবিতা টবিতা লিখে, প্রেম করার পরও বিয়ে করতে পারবে না, টং'এর দোকানের চা খাবে। বেগম জিয়াও একবার কিসব ফর্মুলার কথা ঘোষণা করেছিলেন: ২০১৪ সালের ভোটের আগে, ঢাকায় ১ সভায় তিনি বলেছিলেন, উনি বেকারত্ব সমাধানের ফর্মুলা জানেন, ও দেশে বিদ্যু্ত ঘাটতি পুরণের ফর্মুলা জানেন, এখন জানাবেন না, ভোটের পরে জানাবেন। দেশের অবস্হা নিশ্চয় বুঝতেছেন, বেগম জিয়ার মতো ভোট নিয়ে আপনাকে মাথা ঘামাতে হবে না; সুতরাং, এখন থেকে ভাবতে শুরু করুন; মাথায় কিছু এলে, উহা বলুন; হয় কাজ হবে, না হয় হবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০১৯ ভোর ৬:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



