
রোহিংগাদের ফিরে যাওয়া নিয়ে আলোচনার সময়, অনেকেই কমেন্ট করেন যে, বাংলাদেশের উচিত, ১৯৭১ সালে বাংগালীরা যেভাবে যুদ্ধ করে দেশে স্বাধীন করেছিলেন, রোহিংগাদের সেই ধরণের ট্রেনিং ও অস্ত্র দিয়ে আরাকান পাঠাতে, ওরা বাংগালীদের মতো যুদ্ধ করে আরাকান মুক্ত করবে। যারা এসব বলে, তারা অবশ্যই গেরিলাযু্দ্ধ, মুক্তিযু্দ্ধ ইত্যাদি বিষয়ে কিছু জানেন বলে মনে হয় না; এসব ব্যাপারে তাদের সাধারণ জ্ঞানের ঘাটতি আছে, এবং অবশ্যই সামরিক ব্যাপারে তেমন সঠিক ধারণা নেই; এবং তারা হয়তো, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেও সঠিকভাবে বুঝেতে ও অনুধাবন করতে পারেনি; এবং এরা হয়তো জানে না যে, ২০১৭ সালে ৮ লাখ রোহিংগা "আরসা" নামের অপদার্থ মগজহীন রোহিংগা অস্ত্রধারীদের কারণেই বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
গেরিলাযুদ্ধের জন্য, যুদ্ধান্চলের শতকরা ৮০ ভাগের বেশী মানুষের সমর্থন থাকতে হয়: গেরিলারা যেন সাধারণ মানুষের সাথে মিশে থাকতে পারেন, শত্রুরা যাতে তাদের চিহ্নিত করতে না পারে, তাদের খাবার ও থাকার ব্যবস্হা সাধারণ মানুষের সহায়তায় হতে হবে, তারা অপরেশনের পর লুকিয়ে থাকার যায়গা থাকতে হবে, মানুষই তদের লুকিয়ে রাখবে, আহত হলে দেশের চিকিৎসকের কাছে নেবে ও নিরাপদ স্হানে সেবাযত্ন করবে; বাংলাদেশের বেলায় সেটা ঘটেছে। বাংলাদেশের গেরিলাদের মাঝে ইপিআর ও বেংগল রেজিমেন্টের নিয়মিত সৈনিকেরা ছিলেন কমান্ডে।
বাংলাদেশ হলো, ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা; এখানে যুদ্ধ চলাকালে, ১৯৭১ সালে , পুরো দেশে পাকী বাহিনীতে গড়ে ৯০ হাজারের কম সৈনিক ছিলো; কমপক্ষে ১০০/২০০ জন সৈন্য ব্যতিত তারা গ্রামে নামতে পারতো না; গ্রামে কেহই তাদের পক্ষে ছিলো না, যারা তাদের পক্ষে ছিলো, তাদের হাতে অস্ত্র ছিলো না; গ্রামের মানুষ পালিয়ে যেতো; পাকী সৈন্যরা এই পরিস্হিতির মাঝেও আক্রান্ত হয়েছে। পাকী বাহিনীর লোকেরা বেসামরিক পোাশাকে থাকলেও সহজে চিহ্নিত করা যেতো।
রাখাইন ৩৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারের মতো যায়গা, সেখানে এখন রোহিংগা আছে ২ লাখের কম, রাখাইনরা আছে ২০ লাখের মতো; রোহিংগারা দেখতে রাখাইনদের চেয়ে আলাদা, দুর থেকেই চেনা যায়; গেরিলাদের উপস্হিতি টের পেলে, স্হানীয়রাই তাদের ঘেরাও করে হত্যা করবে; বার্মা মিলিটারী স্হানীয়দের অস্ত্র দিয়েছে অতীতে। স্হানীয়রা অবশ্যই সেখানে অবস্হিত ২ লাখ রোহিংগাদেরও হত্যা করবে ২/৩ সপ্তাহের মাঝেই। বার্মার মিলিটারী শক্ত ও বিশাল, প্রায় ৭ লাখের মতো জনবল, এবং ভয়ংকর জল্লাদ এরা; এরা প্রথমে হত্যা করে, পরে জানতে চাইবে ইহার কাছে কোন অস্ত্র ছিলো কিনা। ওরা ড্রোন ও হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ করে, রোহিংগাদের মশার মতো মেরে ফেলবে ২/১ সপ্তাহের মাঝে।
রাখাইনরা ও পুরো বার্মার লোকজন রোহিংগাদের চাহে না; মিলিটারী সেই সুযোগ নিয়েছে। ২০১৭ সালে, রোহিংগা হত্যা ও বিতাড়নে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা মিলিটারীর সাথে মিলে হত্যাকান্ড চালায়েছে; ফলে, রোহিংগা গেরিলাদের পক্ষে ওখানে টিকে থাকার কোন সম্ভাবনা মোটেই নেই।
২০১৭ সালে, রোহিংগা অস্ত্রধারীদের মাঝে মুলত: পাকী রোহিংগারা ও কিছু পাকী জংগী ছিলো; বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র দিলে, ট্রেনিং দিলে, বার্মা জানতে পারবে কয়েক ঘন্টার মাঝে; এরপর, ওরা আর কোন আলোচনায় আসবে না; সম্ভব হলে, বাংলাদেশ আক্রমণ করবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


