
কথাটা আসছে কারণ, তাঁরা মুসলমান। আসলে, আরো ২১ লাখ বাংগালীর নামও বাদ-পড়াদের লিষ্টে আছে, যাঁরা নিজকে আসামের বাসিন্দা বলে প্রমাণ করতে পারেননি; কিন্তু তাঁরা বাংগালী হলেও তাঁরা হিন্দু; তাঁরা ওখানে থাকতে পারবেন। এখন দেখুন, সঠিক সময়ে, সঠিক ধর্ম কতটুকু দরকারী বস্তু। আবার ভেবে দেখুন, মানুষের বাসস্হানের অধিকার কি ধর্মের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত? ধর্ম কিভাবে মানুষকে এতটুকু অন্ধ করলো যে, মানুষকে শুধু মাত্র ধর্মের কারণে, তার কষ্টার্জিত সম্পত্তি, বাড়ীঘর, জন্মস্হান সব ফেলে রিফিউজী হতে হবে?
ঠিক আছে, ধর্মই যদি আসামে বসবাসের মাপকাঠি হয়ে থাকে,তা'হলে সঠিক ও সত্য ধর্মের লোকেরাই থাকুক; ভুল ধর্মের লোকদের বাদ দেয়া হোক। কোনটা সঠিক ধর্ম, ইসলাম, নাকি সনাতন হিন্দু ধর্ম? সেটা কি বিজেপি ঠিক করবেন, নাকি বাংলাদেশের মুসলমানরা ঠিক করে দেবেন ? আদালতই ঠিক করুক, কোন ধর্মটা সঠিক; আদালত যেটাকে সঠিক বলবে, সেই ধর্মের লোকেরা আসামে থাকবে; আন্দাজে ধরে নেয়ার থেকে আইনীভাবে উহা নির্ধারণ করা হোক!
ধর্মীয় দিক থেকে ভাবতে হলে, সত্য ধর্মের চেয়ে, ভুল ধর্মের লোকদের অধিকার কম হওয়া হবে লজিক্যাল; আসামীরা কিসের ভিত্তিতে বলছে যে, সনাতন ধর্মের লোকেরাই সেখানে থাকবে? তাদেরকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে, সনাতন ধর্মই সত্য, অন্যেরা ভুল!
ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা বলছে, দেশ চালনায় ও নাগরিক অধিকারের মাঝে ধর্মের কোন ভুমিকা থাকতে পারবে না; ধর্মের জন্য কাউকে কোনভাবে বন্চিত করা যাবে না।
বাংলাদেশের মানুষ এখন রোহিংগাদের নিয়ে কঠিন অবস্হায় আছেন, তাঁরা অনুভব করতে পারছেন যে, ধর্মীয় কারণে কতটুকু নির্যাতিত হতে পারেন মানব সম্প্রদায়। এখন আসমাের ১৯ লাখও বাংলাদেশের মানুষকে চিন্তিত করছেন; আশাকরি, এবার আরো ভাবার সময় পাবেন। তবে, এটা সঠিক যে, সত্য ধর্মের লোকদের সব ব্যাপারে বেশী অধিকার থাকা দরকার, ভুল ধর্মের লোকেরা কেন বেশী অধিকার ভোগ করবে?
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




