somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গন্ডগোলের বিপরিতে কিছুটা সামানুপাতিক গন্ডগল করা উচিত?

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই ঘটনাটা ঘটেছিলো বেশ আগে, একটা দোকানী আমার সাথে গন্ডগোল করেছিলো, আমি সামান্য চেষ্টা করেছিলাম, সেই কাহিনী।

এক ছুটির দিনে এক বন্ধুমানুষ আমাকে ও আরো ৪ জনকে নিয়ে আড্ডা দেয়ার জন্য একটি ইটালিয়ান রেষ্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন; আমি ট্রেনে রওয়ানা হলাম; দেখি, প্রায় ২০ মিনিট আগেই পৌঁছে গেছি! ঠিক আছে, আশেপাশে হেঁটে দেখি: ইটালিয়ান-গ্রীক এলাকা, পরিস্কার, উঁচু দালান মালান নেই, ভালো; সামনে একটা কফিশপ পড়লো, বেশ সুন্দর; ঢুকলাম, একজন কাষ্টমার কফির পয়সা দিচ্ছে, আমার সামনে আরেকজন লাইনে, সামনের জন আফ্রিকান আমেরিকান মহিলা; কাপড় চোপড়ে দারিদ্রতার চাপ। তিনি মাখনসহ একটা টোষ্ট-করা ব্যাগল ( ১জনে খাবার মতো গোলাকার রুটি বিশেষ) অর্ডার করলেন। কাষ্টমার কম, একজন মাঝ বয়সী লোক ক্যাশে, সে'ই অর্ডার তৈরি করে দিচ্ছে, পয়সা নিচ্ছে; ২২/২৩ বছরের একটা মেয়ে পেষ্ট্রি মেষ্র্রি তাকে সাজিয়ে রাখছে।

আমার সামনের মহিলাটি খুচরা পয়সা দিলো, আগের থেকেই হিসেবে করে মুঠায় ধরে রেখেছিলো; ক্যাশিয়ারের মুখে সামান্য বিরক্তি, সে পয়সাগুলো গণনার শুরু করেছে, ৫/১০ পয়সার কয়েন সব; আমার পছন্দ হলো না, সামান্য ব্যাগলের মুল্য গণনা করে নিতে হবে? গণনা শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন মহিলা; ক্যাশিয়ার হ্যাঁ-সুচক মাথা নাড়লো; মহিলার সরে যাবার কথা, তিনি সরলেন না; বেশ নম্রভাবে ক্যাশিয়ারকে বললেন,
-আমি কি একটি ফ্রি কফি পেতে পারি?
-না, আমি ফ্রি'তে কিছু দিই না।

মহিলা সরে দাঁড়ালেন, আমি মহিলাকে ইশারা করলাম অপেক্ষা করতে; ক্যাশিয়ারকে বললাম,
-মহিলাকে একটা ছোট কফি দাও, পয়সা আমি দেবো!
-তুমি আবার কোন দেশী বিল গেইট? তোমার কাছে কি আমার চেয়ে বেশী টাকা? ক্যাশিয়ার রেগে বললো।
-টাকার কথা কেন আসছে, আমি মহিলাকে কফি কিনে দিচ্ছি!
-আমি কফি দিইনি, তুমি কফি কিনে দিয়ে বড়লোকি দেখাচ্ছ?
-আমি বড়লোকী দেখাচ্ছি না, আমি চাই মহিলাটি একটা কফি পাক।
-তোমার কোন অর্ডার নেবো না, যাও!

দোকানের মেয়েটা এগিয়ে এসে, লোকটাকে বললো,
-আংকেল, তুমি পেছনে যাও, আমি দেখছি।
লোকটা ক্যাশ থেকে সরে গেলো, যাবার আগে আমাকে বললো,
-আমার দোকানে তোমাকে যেন আর না দেখি।
-আমি আসবো না, আমার বন্ধুরা আসবে।

মেয়েটা আমাকে ইশারা করলো চুপ করতে; সে প্রথমে ছোট ১ কাপ কফি দিলো মহিলার জন্য; মনে হচ্ছিলো, মহিলটা বসে খেতে চেয়েছিলেন; কিন্তু অবস্হার কারণে, তিনি আমাকে ও মেয়েটাকে ধন্যবাদ দিয়ে কফি নিয়ে চলে গেলেন। আমিও ভেবেছিলাম, ঠান্ডায় বসে কফি খাবো, তা হলো না, আমি কফি নিয়ে বের হয়ে এলাম; দোকানের ঠিকানটা লিখে নিলাম।

পরের সপ্তাহে লেবার-ডে ছুটির দিন, সেই দিনটাকে সামনে রেখে, আমি সেই কফির দোকানের নামে ছোট একটা হ্যান্ড-আউট তৈরি করলাম; উহা ইংরেজী ছিলো, অনেকটা এই রকম:

"লেবার-ডে'এর সন্মানে ফ্রি কফি
বেলা ১০ টা থেকে ১২ অবধি ফ্রি কফি, জনপ্রতি ১ কাপ মাত্র

হ্যাপী লেবার-ডে।
কফিশপের ঠিকানা"

আমি সকাল ১০টার একটু আগেই কফিশপের ট্রেন ষ্টেশনে পৌঁছলাম, হ্যান্ডআউট বিলি করার জন্য লোক খুঁজতে লাগলাম। ৩/৪ জন স্পেনিশ কাজের খোঁজে দাঁড়িয়ে আছে, নিজেদের মাঝে আলাপ করছে। আমি ১ জনকে বললাম, এই হ্যান্ডআউটগুলো বিলি করতে পারবে কিনা, আমি ১ ঘন্টার জন্য ১০ ডলার দেবো। সে হাতে চাঁদ পেলো। তার হাতে ২০০ হ্যান্ডআউট দিয়ে, তাকে বুঝিয়ে দিলাম: ট্রেন থেকে বেরিয়ে আসা, শুধুমাত্র বয়স্কদের দিতে, আর ছাত্রছাত্রী ধরণের ছেলে মেয়েদের দিতে; ভালো কাপড়ছোপড়-পরা মাঝারী বয়সীদের না দিতে।

আমি রাস্তার উল্টোপাশে একটি লন্ড্রীতে গিয়ে বসলাম, কফিশপ ও স্পেনিশ ছেলেটার উপর নজর রাখলাম; প্রথম ১০/১২ মিনিটের মাঝে হ্যান্ডআউট হাতে ৬/৭ জন মানুষ প্রবেশ করলেন, ২/৩ জন কফি হাতে বেরিয়ে গেলেন; এরপর, ৫/৭ মিনিটের মাঝে আরো ৭/৮ জন মানুষ ভেতরে গেলেন। একটু পরে দেখি সেই পুরুষ ক্যাশিয়ারটা একটা হ্যান্ডআউটসহ বেরিয়ে এসে, এক মিনিট এদিক ওদিক দেখে ট্রেনের দিকে গেলো; সে স্পেনিশ ছেলেটার হাত থেকে হ্যান্ডআউটগুলো কেড়ে নিয়ে পাশের গার্বেজে ফেল দিলো, পরে গিয়ে ছেলেকে ধাক্কা মারলো; লোকজন তাকে থামাচ্ছে, সে চীৎকার দিচ্ছে; বেচারা স্পেনিশ হেঁটে রাস্তা পার হয়ে উল্টো দিকে চলে গেলো। ক্যাশিয়ার রেগেমেগে দোকানে ঢুকলো, একটু পরে সব কাষ্টমারকে বের করে দিয়ে, দোকানের সাটারটা অর্ধেক নামিয়ে দিয়ে সিগারেট ধরালো।

আমি চুপ করে বসে দেখছি; একটু পরে সেলফোনে কার সাথে কথা বলার শুরু করলো, রেগেমেগে একাকার।অতপর হেঁটে আবার ট্রেনের দিকে গেলো। আগেরদিনের মেয়েটা মাথা নীচু করে দোকানের বাইরে এসে সাটারটা তুলে দিলো; কয়েকজন কাষ্টমার ভেতরে যাবার পর, আমি লন্ড্রী থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে চারিদিকে খেয়াল রাখলাম; পুরুষ ক্যাশিয়ার ট্রেন ষ্টেশন থেকে ফিরছে না অনেকক্ষণ। আমি ভাল মতে চারিদিকে খেয়াল রেখে ট্রেন ষ্টেশনে গেলাম, সে নেই! আমি কফিশপের সামনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ভেতরে গেলাম; আগের মেয়েটা কফি বানাচ্ছে, ক্যাশে অন্য একটা মেয়ে। আমি লাইনে দাঁড়ালাম।

আগের দিনের মেয়েটা একজন কাষ্টমারকে একটা কফি দেয়ার সময় আমার দিকে তাকালো; মনে হয়, সে খেয়াল করেনি, অভ্যাসবশত তাকায়েছে; আমি লাইনে আছি, দরজা থেকে অনেকদুর খেয়াল রাখছি, ক্যাশিয়ারকে দেখলে কৌশলে কেটে পড়বো; মেয়েটা আরেকটা কফি বানায়ে আমাকে ইশারায় ডাকলো, আমি তখনো লাইনের শেষজন। সে কফিটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
-এটা ফ্রি, তুমি চলে যাও।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৬
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভাবুক

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৪


ছেলেটি ভাবুক ,
তার কোন দুঃখ নেই ,মনে মনে জাগতিক যত স্বাদ তার নেওয়া হয়ে গেছে ,
ভাবুক মনের কল্পনায় ।
গাছের নতুন পাতা যেমন আলোর ছটা খেলে যায় , তেমনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১১)

লিখেছেন আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ ভোর ৬:১৩




আত্মজৈবনিক উপন্যাসঃ স্বপ্ন বাসর (পর্ব-১০)


কেহ উঁকি মারে নাই তাহাদের প্রাণে
ভাঙ্গিয়া দেখে নি কেহ, হৃদয়- গোপন-গেহ
আপন মরম তারা আপনি না জানে।

দুপুর আড়াইটার মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বায়োস্কোপ জীবন

লিখেছেন সুলতানা শিরীন সাজি, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:১৬


যেখানে রাস্তাটা উঁচু হয়ে গেছে অনেকদূর।
যেখানে উঠলেই বাড়িগুলোর ছাদ দেখা যেতো রাস্তা থেকে।
ছয় মিনিটের সেই পথটুকু শেষ হোক চাইনি কখনো!
কিছু পথ থাকে,যেখানে গেলে চেনা গন্ধর মত তুমি।
সেখানেই দেখা হয়েছিল আমাদের।
তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিয়াজ কথন

লিখেছেন জুন, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

.

একটু আগে কর্তা মশাই বাজার থেকে ফোন করলো "শোনো পিয়াজের কেজি দুইশ টাকা, দেশী পিয়াজ আধা কেজি আনবো কি"?
'না না না কোন দরকার নাই বাসায় এখনো বড় বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝলমলে সোভিয়েত শৈশব: বিপদ তারণ পাঁচন

লিখেছেন স্বপ্নবাজ সৌরভ, ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০৪



শুভ অপরাহ্ন। এই দুপুরে ঘুমঘুম চোখে খুব সহজেই কিন্তু শৈশবে ফিরে যাওয়া যায়। আমার দিব্যি মনে আছে দুপুরের খাওয়ার পর রাশিয়ান বই পড়তে পড়তেই ঘুমিয়ে যেতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×