
বেগম জিয়া সবচেয়ে কম-শিক্ষিত ও কম-বুদ্ধিমান মানুষ, যিনি আধুনিক যুগে, মুক্তিযুদ্ধে-জয়ী একটি জাতিকে অনেকটা একজন রাণীর মতো চালায়েছেন প্রায় ৩৫ বছর; এটা রূপকথার রাণীদের চেয়েও বড় ধরণের মীথ হয়ে ইতিহাসে প্রবেশ করবে। কিন্তু সেই মীথের শেষ অধ্যায়টি অনেক পাঠকের জন্য হবে খুবই কষ্টকর; অবশ্যই এসব পাঠকেরা আমার চেয়ে অনেক অনেক বেশী সংবেদনশীল মানুষ হওয়ার কথা।
বেগম জিয়ার পক্ষে করা সর্বশেষ আপীলে উনার জামিন হয়নি; জামিন না হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে; তবে, সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে: এজলাসের ভেতরে উনার পক্ষে ২০০/৩০০ আইনজীবির অপ্রয়োজনীয় উপস্হিতি, বিশৃংখল, উত্তাল প্রতিবাদ ও হাইকোর্টের সেশন পরিচালনায় অচল অবস্হার সৃষ্টি করা।
হাইকোর্টের ভেতরে, হাইকোর্টের আইনজীবিরা যদি বিশৃংখলা সৃষ্টি করে, সরকার হয়তো তাদেরকে পুলিশ দিয়ে পিটাবে না; কিন্তু তাদের দাবী কখনো মানবে না, তাদের চাওয়া কখনো পুরণ করবে না; বেগম জিয়া বেলায় প্রতিবারেই এটা ঘটে আসছে; বেগম জিয়া নিজেই এই সমস্যার ভিকটিম হয়েও ব্যাপরটি বুঝতে পারেননি; আসলে, বেগম জিয়া কোন কিছুই সঠিকভাবে বুঝেন না; সেই জন্যই তিনি জেলে আছেন; এমন কি কখন কেক খেতে হয়, কার সাথে হজ্বে যেতে হয়, সেটাও তিনি বুঝতেন না।
বেগম জিয়ার আপীল শুনানীতে ১ জন থেকে ৩ জন আইনজীবির উপস্হিত থাকার দরকার; এবং এদের হতে হবে দল-নিরপেক্ষ, এবং সরকারের সাথে যাদের সম্পর্ক ভালো, বিচারকদের সাথে যাদের সম্পর্ক ভালো। যারা বিচারকদের 'সরকারের দালাল' বলে শ্লোগান দেয়, যারা বিচারকদের সামনে টেবিল পিটায়, যারা আদালতের সেশন বন্ধ করে দেয়, তারা কি বেগম জিয়ার জামিন করাতে পারবে?
বেগম জিয়ার জামিন সেশনের শুরু থেকে শেষ অবধি, সবকিছু সরকারের লোকেরা পর্যবেক্ষণ করে থাকে; এদের সাথে বিচারকদের সরাসরি সম্পর্ক আছে; বিচারকেরা নিশ্চয় ২০০/৩০০ আইনজীবির উপস্হিতি পছন্দ করে না এজলাসে।
আমি নিজেই বেগম জিয়ার জামিনের বিপক্ষে ছিলাম সব সময়; যতবারই উনার জামিন হয়নি, ততবারই আমার মনে হয়েছে যে, বিচারকেরা সঠিক আছেন। বেগম জিয়ার বিচারটা পুরো জাতির জন্য একটা ইউনিক সিম্বল: এর আগে বাংলাদেশে এত শক্তিশালী কোন দুর্নীতিবাজের জেল হয়নি, হলেও বেরিয়ে গেছে, এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের বিচার হবে না; জাতি লাখের মাঝে মাত্র ১টি বিচার পেয়েছেন, উহা কোটী বেকুবদের পক্ষে কষ্টকর হলেও জাতির জন্য একটি সিম্বল; ইহা এভাবেই থেকে যাক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

