somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ, ও মুক্তিযুদ্ধকে খাট করার প্রচেষ্টা

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



২৫শে মার্চ পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বাংগালী জাতিকে আক্রমণ করেছে; ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন ৫/৬ ঘন্টা যু্দ্ধ করে পাকীদের কিছুটা সময় প্রতিহত করেছিলো; তারপর পাকীরা ঢাকা দখল করে নিয়েছিলো; ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের আগে ঢাকা আর আমাদের দখলে আসেনি; ২৫শে মার্চে তারা চট্টগ্রাম দখল করতে পারেনি, চট্টগ্রামে অবস্হিত বেগংল রেজিমেন্ট, ইপিআর ও জনতা উল্টা পাকী বাহিনীকে অবরুদ্ধ করে রাখে কেন্টনমেন্টে ও চট্টগ্রাম পোর্টে; এপ্রিলের ২/৩ তারিক অবধি চট্টগ্রাম বাংগালীদের হাতে ছিল; পাকীরা পরে কুমিল্লা থেকে সৈন্য এনে কেন্টনমেন্ট ও চট্টগ্রাম শহর দখল করে; কিন্তু বিনা যুদ্ধে নয়। এরপর, শুরু হয় পাকীদের বিপক্ষে পুরোদমে যুদ্ধ; এই যুদ্ধের শুরু থেকে অস্ত্র দিয়েছে ভারত। আমাদের ১১টা সেক্টর থেকে যুদ্ধ চালনা করা হয়েছে, সাধারণ বাংগালীদের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে ভারতের ভেতরে; ট্রেনিং সেন্টার ও সেক্টরগুলো হেড-কোয়ার্টারগুলো ছিলো ভারতের অভ্যন্তরে, বর্ডারের কাছাকাছি।

আমাদেরকে অস্ত্র দেয়া, ট্রেনিং দেয়া, যায়গা দেয়া ও ভারতের উপর দিয়ে প্লেইন চলতে না দেয়াকে নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের মাঝে একটা যুদ্ধ আসন্ন হয়ে গিয়েছিল; পুর্ব পাকিস্তান বর্ডার বরাবর অনেক ছোটখাট আক্রমন করেছে পাকিস্তান, গুলি বিনিময় হয়েছে, আর্টিলারী বিনিময় হয়েছে; ক্রমেই উহা যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সাথে সেই পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়নি; ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে যখন পাকী বাহিনী কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছে, তখন তারা ভারতের পশ্চিম সীমান্ত আক্রমণের প্ল্যান করে; ভারতের পাকিস্তান আক্রমণের কোন দরকার ছিলো না। তারা দেখছিলো যে, পুর্ব পাকিস্তানের পতন অনিবার্য; তারা অকারণ একটি যুদ্ধ করার পক্ষে ছিলো না।

এদিকে ১১টি সেক্টর থেকে ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহে সব সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে একযোগে যুদ্ধ করে প্রবেশের প্ল্যান করা হয়।পাকিস্তানীরা এই আক্রমণের কথা শুনে ধৈয্য হারিয়ে যুদ্ধে নেমে যায়; কিন্তু মুক্তিবাহিনীকে আক্রমণ করার মত কোন অবস্হান টার্গেট ছিলো না; পাকীরা তখন পশ্চিম সীমান্তে ভারতীয় বিমানঘাঁটিগুলো আক্রমণ করে ৩রা ডিসেম্বর; এটাই পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের শুরু।

আমাদের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ ছিল পুরো বাংলাদেশ জুড়ে ও পাকিস্তানের জন্য সেটা পুর্ব পাকিস্তান সেক্টর, এটা আলাদা যুদ্ধ; এদিকে ভারত ডিসেম্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে একই সাথে পুর্ব পাকিস্তানে আক্রমণ চালাতে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকারের সাথে; ৭ই ডিসেম্বর থেকে ১৬ই ডিসেম্বের অবধি এটা যৌথ যু্দ্ধ।

বর্তমানে বাংলাদেশের পরাজিত শক্তি, পাকিস্তানের কিছু মিলিটারী লেখক ও কিছু ভারতীয় লেখক পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে মিশায়ে ফেলে। বেশীরবভাগ বাংগালী লেখক ও পাকিস্তানী লেখকেরা বাংগালীদের ছোট করার জন্য ও ভারতীয় অনেক মিলিটারী লেখক পশ্চিম সীমান্তে যুদ্ধ করায়, তারা সেটাকে নিয়ে লিখে।

যাক, বাংগালীরা উর্দু, হিন্দি, ইংরেজী লেখা পড়তে পারে না; তারা বাংলাদেশের ভেতরে, বাহিরে লেখা বাংলা লেখাগুলো পড়ে; এসব লেখা আসে জামাত, রাজাকার, আলবদর, শিবির ও অন্য পরাজিত মনোভাবে লোকদের থেকে; তারা আমাদের বিজয়কে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে খাট করে নিজকে একটু চাংগা করতে চায়।

ভারতীয় বাহিনী পাকীদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র নিয়ে গেছে। জেনেভা চুক্তি অনুসারে, এক বাহিনীর অস্ত্র অন্য বাহিনী ব্যবহার করতে পারে না; ভারত আমাদের পুরো যুদ্ধের অস্ত্র দিয়েছে ফ্রি, ও পরে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী গঠনের পর, পুরো অস্ত্র দিয়েছে ফ্রি।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৬
২৯টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

একদিন আমরা ক’জনা মিলে …….

লিখেছেন আহমেদ জী এস, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১২



ব্লগের একাধারে নম্র ও প্রাজ্ঞ এবং গবেষক সহ-ব্লগার শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর “ব্লগের সুদিন ফিরিয়ে আনতে ব্লগ টিমের প্রতি বিনীত আবেদন”... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে-----

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪



জুলাই আগস্ট সেপ্টেম্বর কোন মাসেই নয় ..।

দুর্নীতি সেদিনই বন্ধ হবে
যেদিন মানুষ নিজের কাছে
মিথ্যে বলা বন্ধ করবে
অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে
সত্যের পথে দৃঢ় পায়ে চলবে।

যেদিন বিবেক জাগবে মনে
লোভ হারাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার কি ইউনূস সাহেবকে ভয় পাচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩


ব্যাপারটা এখন আর কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে না। বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, আওয়ামী লীগ হোক কিংবা বর্তমান সরকার, সবাই যেন একজন কমন করফাঁকিদাতা খুঁজে পেয়েছে। সেই করফাঁকিদাতার নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×