
বেশী শীত পড়ছে, সারাদিন ঘরে, বের হওয়ার দরকার, সুপার মার্কেটে গেলাম; লোকজন কম, ভালো। শপিংকার্ট নিতে গেলাম, এক চাইনীজ মেয়ে কার্টগুলোকে সাজিয়ে রাখছে, আমি ধন্যবাদ দিয়ে, একটা কার্ট নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
-তুমি কেমন আছ?
-ধন্যবাদ, ভালো আছি!
-ঠিক আছে, তুমি ভালো থাকলে, আমিও ভালো থাকবো! হাঁচি-কাশি দিচ্ছ নাতো?
-ঠিক বুঝলাম না।
-তুমি শোননি চীনে করোনা ভাইরাসে ৬০০ জন মারা গেছে।
-আমি তো চীন থেকে আসিনি।
-তাতে কি, তুমি তো চীনা ভাষায় কথা বল!
সে হেসে ফেললো, বললো,
-এটা আমার জন্য সেরা জোক!
সুপার মার্কেটের ভেতরে অনেকক্ষণ হাঁটলাম; বেকারীর সামনে চীজকেক কেটে রেখেছে কাষ্টমাররা টেষ্ট করার জন্য; ২ টুকরা খেলাম, খুবই ভালো টেষ্ট। মাছ দেখলাম, বেশী দামি। সামান্য পানি টানি কিনে একটা এক্সপ্রেস ক্যাশে গেলাম, ক্যাশিয়ার দুরে দাঁড়ায়ে আছে; আশেপাশের এলাকায় ভয়ংকর দুর্গদ্ধ। মেয়ে এসে ক্যাশে দাঁড়ালো; আমি বললাম,
-তোমরা কি পারফিউম ব্যবসা শুরু করেছ?
-তোমার পেছেন দেখ! মেয়েটা বললো।
পেছন ফিরে দেখি এক হোমলেস আইলের পাশে একটা খালি প্লাষ্টিক কেইজের উপর বসে গা চুলকাচ্ছে, ভয়ংকর ময়লা, সাথে ট্রলিতে তার সংসারের জিনিষপত্র। আমি মেয়াটাকে বললাম,
-ওকে সরে বসতে বলো, তুমি নিশ্বাস নিচ্ছ কিভাবে?
-কিছু বলা নিষেধ।
-তুমি চাও, আমি ওকে দোকানের অন্য দিকে যেতে বলি?
-প্লীজ, যদি পার; তবে বিপদে পড়িও না।
আমি পয়সা দিয়ে আবার মুল দোকানে ঢুকলাম, হোমলেসের সামনে এসে বললাম,
-কি ব্যাপার শীত লাগছে?
-বলিও না, আমি বাইরে জমে যাচ্ছিলাম।
-তুমি চীজকেক পছন্দ কর?
-কি যাে বলো, ক্ষুধায় আমার পেট টনটন করছে; তুমি কিনে দিবে?
-বেকারীর সামনে বড় কেক কেটে রেখেছে, তুমি যাও; ওখানে বসার যায়গাও আছে। চাইলে সোডা, পানিও দিতে পারে।
সে আমাকে ধন্যবাদ দি্যে, তার ট্রলি ট্রুলি নিয়ে ওদিকে রওয়ানা হলো। মেয়েটা ক্যাশ থেকে দুরে দাঁড়িয়ে দেখছিলো, সে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো,
-তুমি ওকে কি বলেছ?
-আমি বলেছি যে, বেকারীর সামনে চীজকেক দিয়েছে টেষ্ট করার জন্য।
-তাই? আসলে, চীজকেক দিয়েছে?
-আমি ২ টুকরা খেয়েছি।
মেয়েটি ধন্যবাদ দিলো,
-তুমি আমার প্রান বাঁচিয়েছে, সে এলাকা গরম করে দিয়েছিলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৬:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




