
ইটালির খবর আপনারা পাচ্ছেন, মাত্র ১ মাসের মাঝে দেশটি ভয়ংকর সমস্যার মাঝে প্রবেশ করেছে; আজ অবধি, ইউরোপের কোন দেশ ইতালির পাশে দাঁড়ায়নি; গত সপ্তাহে চীন কিছুটা সাহায্য করেছে সরন্জাম দিয়ে।এই চরম দুর্দিনে ইতালি এভাবে একা হয়ে গেলো কেন?
ইতালি ক্যাপিটেলিষ্ট অর্থনীতির দেশ; ডাক্তার, হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিক্যাল সরন্জাম, ঔষধ উৎপাদন সবই প্রাইভেট কোম্পানীর হাতে। প্রাইভেট কোম্পানীরা যেই ব্যবসায় কম পুঁজিতে অধিক লাভ, সেই ব্যবসার দিকে যেতে থাকে; জাতির জন্য দরকারী, কিন্তু কম-লাভজনক ব্যবসায় প্রাইভেট কর্পোরেশন গুলো থাকে না; এই সমস্যা একা ইতালির নয়, এই সমস্যা আজকে সারা বিশ্বে, এবং ইহাতে বাংলাদেশও আছে।
স্বাস্হ্যগত দিক থেকে ইতালিয়ানরা ভালো: শক্ত-সামর্থ, দীর্ঘজীবি, ভালো খায়, ভালো সামাজিক জীবন; কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি যে, তারা যেই ক্যাপিটেলিজমকে ধরে চলছে, উহা করোনার মত ভয়ংকর কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলো না; এই সিষ্টেমে যে সমস্যা আছে, সেটা এখন টের পাচ্ছে।
আমেরিকায় ট্রাম্প থাকাতে আমেরিকা এখন অন্য দেশগুলোর বিপদে খুব একটা গুচ্ছে না; মধ্য ফেব্রুয়ারী অবধি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনার ভয়ংকর সংক্রমণ সম্পর্কে বিশ্বাস করতো না। ট্রাম্প করোনার ব্যাপারে ভয়ংকরভাবে দেরীতে পদক্ষেপ নিয়েছে; এবার পরাজিত হলে, এই ব্যাপার নিয়ে ট্রাম্পের বিচার হবে। ইউরোপের অন্য দেশগুলো অবস্হা ইতালির মতোই; তারপরও, সবার থেকে ভালো অবস্হায় আছে জার্মানী; কিন্তু মার্কেলকে সামনের দিনগুলোতে সরে যেতে হবে দেখে, মনে হয়, মার্কেল ইতালিকে সাহায্যের কথা ভাবেনি; কারণ, ইহা ম্যানেজ করা সম্ভব হবে না। আজকে মার্কেল কিন্তু কোয়ারেন্টিনে আছেন, মার্কেলকে নিমোনিয়ার টিকা যেই ডাক্তার দিয়েছে, সেই ডাক্তার কোরনা-পজেটিভ।
ইউরোপের মানুষ এখন থেকে বুঝতে পারবে যে, ক্যাপিটেলিজমের কিছু দিক আছে, যা মানব জাতির জন্য ভয়ংকর; জাতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাত থেকে চলে যেতে পারে, এবং জাতিকে সামান্য কিছু কর্পোরেশনের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে চলতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




