
নিউইয়র্ক রাজ্য লকড-ডাউন, লাখ লাখ গ্রোসারী, ফার্মেসীর সাপ্লাই চেইন কিভাবে চলছে; ঘরে ঘরে খাবার ডেলিভারী কারা করছে? সবই করছে দক্ষিণ আমেরিকার দু:খী আমেরিকানরা। নিউইয়র্কে দ: আমেরিকার যারা কাজ করে, তাদের শতকরা ৯০ ভাগের বেশী মানুষ মেক্সিকো থেকে, এবং বেশীর ভাগেরই এই দেশে থাকার ও কাজ করার পারমিশন নেই; এখন পুরো আমেরিকায় এদের সংখ্যা ১৫ মিলিয়নের কাছাকাছি হবে।
এরা অনেকটা ইউরোপে লিগ্যাল কাগজপত্র হীন বাংগালীদের মতো; এরা পরিবারের জন্য আয় করতে আসে, টাকা পয়সা পাঠায়, ২/৪ বছরে সুযোগ পেলে দেশে যায়; আমেরিকায় এরা স্পেনিশ হিসেবে পরিচিত; কিন্তু এরা আসল স্পেনিশ নন, এরা আমেরিকার আদিবাসী ও রেড ইন্ডিয়ানদের বংশধর। এরা লম্বায় গড় বাংগালীদের মতোই, একাংশ আরেকটু খাট; তবে চওড়া ও শারীরিকভাবে শক্ত।
দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় দেশের সরকার হলো সাদা ইউরোপিয়ান স্পেনিশ; এগুলো বজ্জাতের হাড্ডি; মেক্সিকোর সম্পদের অভাব নেই: কৃষি, খনি ও ম্যানুফেকচারিং আছে, টুরিষ্ট এলাকা ভর্তি; কিন্তু আদিবাসী এই লোকগুলোকে স্কুলে যেতে দেয় না, কাজ দেয় না; একটু বয়স হলে, বজ্জাতেরা সাহায্য করে, বিনা কাগজে আমেরিকা পাঠায়ে দেয়। এরা চাষবাসের সব কাজও করে, চাষেরগুলো আবার সাময়িক কাজ করার জন্য ভিসা পায়, সেগুলো যাওয়া আসায় থাকে, আয়ও ভালো করে।
এদের মাঝে শতকরা ২/৩ ভাগ অপরাধী আছে: মাদক ব্যবসা, চুরিদারী, ডাকাতী, হত্যা করে থেকে; ফলে, এরা সবাই সেই অপবাদ ঘাঁড়ে নিয়ে আমেরিকায় থাকে, আমেরিকানরা এদেরকে এড়িয়ে চলে, খুব একটা সাহায্য টাহায্য করে না। এই দেশে জন্মনেয়া মেক্সিকানদের কিছু ছেলেমেয়ে পড়ালেখা করে না, অপরাধ করে বেড়ায়, সুযোগ পেলে চুরি ও চিনতাইও করে। দু:খের বিষয়, নিউইয়র্ক শহরের এদের টিনএজ গেং'এর হাতে কিছু বাংগালীও প্রাণ হারায়েছেন।
কিন্তু জাতি হিসেবে ওরা খুব বেশী নির্যাতীত, এরা কখনো সংগঠিত নয়, এদের নিজ দেশের সরকারই এদের চাহে না; কিন্তু এরাই আদি আমেরিকান।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই এপ্রিল, ২০২০ ভোর ৫:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




