somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

চাঁদগাজী
সম্পদহীনদের জন্য শিক্ষাই সম্পদ

মেয়েটির ডাক নাম ছিলো পাগলী

১১ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এইটি আমাদের পাশের গ্রামের ছোট একটি মেয়ের জীবনের ছোট একটি কাহিনী। বর্ষাকালে স্কুলে ও খামারে আসতে যেতে আমাকে ওদের বাড়ীর সামনে দিয়ে আসতে যেতে হতো; মেয়েটাকে ওর ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি, সে পরিবারের একটা ছাগল চরায়, গাভীটাকেও দেখে; আমি যখই ওকে দেখছি, প্রতিবারই গরুঘরের মাঝে, না'হয় গরুঘরের সামনে, কিংবা মাঠে ছাগল চরাচ্ছে। সে ছোটকাল থেকে নাকি কারো সাথে তেমন কথা বলে না, মাথার চুলগুলো বাঁধে না; তার আসল নাম আমি জানতাম না, সবাই পাগলী নামে ডাকে।

আসতে যেতে, আমার সামনে পড়লে, আমি হাত নেড়ে দিই, জিজ্ঞাসা করি, "কেমন আছ"; সে একটু ম্লান-হাসি হাসে সব সময়, কোনদিনও উত্তর দেয়নি। সেবার কালবৈশাখীর ঝড়বৃষ্টিতে দুই দিনের মাঝে মাঠে আধা হাঁটু পানি জমে গিয়েছিল। আমি বেলা ডুবার সামান্য আগে খামারে এসেছি; দেখি, পশ্চিম ভিটার ভেঁড়ির (এক ধরণের ডাল) জমিতে অন্যদের একটি ছাগল ভেঁড়ির লতা খাচ্ছে। পাকা ভেঁড়ির ডাল তোলা হয়ে গেছে, গাছগুলো গাভীকে ও ছাগলগুলোকে খাওয়ানো হচ্ছে। এই ছাগলটা আমার চেনা, পাগলীর ছাগল; তবে এতদুর এলো কিভাবে, মাঠে পানি! আমি একটা ছোট ঢেলা ছুঁড়ে মারলাম ছাগলটার দিকে, চলে যাক; ছাগল নড়লোও না। দেখি, আমাদের পুকুর পাড়ের কলাগাছের আড়াল থেকে পাগলী বেরিয়ে এলো, বললো,
-এই, তুমি ছাগলের দিকে ঢেলা মারছো কেন? ছাগলের গায়ে পড়বে, সে বাচ্চা দিবে দুই একদিনের মাঝে।

আমি এই প্রথম মেয়েটিকে কথা বলতে শুনলাম। সে ছাগল নিয়ে চলে যাবার কথা; কিন্তু সে গেলো না, হেঁটে আমার কাছে এসে, খামারের ছোট ঘরটা দেখায়ে আমাকে বললো,
-তুমি নাকি এখানে একা থাক?
-আমি মাঝে মাঝে থাকি!
-একা একা ভয় লাগে না? আমিও আমাদের পাকঘরে একা থাকি; আমার খুব ভয় লাগে একা একা!
-পাক ঘরে কেন, বড় ঘরে যায়গা নেই?
-না, আমার জন্য যায়গা নেই; আমাদের পেছনে ধানের জমিতে রাতে শিয়াল ডাকে; ওখানে পানি জমলে ভুতেরা বাতি জ্বালায়!
-ওগুলো ভুত নয়, পানিতে ধানের নারা (ঘাস) পঁচে গ্যাস বের হয়, উহা জ্বলে।
-হ্যেঁ, তোমাকে বলছে।

সে আমার পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে, ঘরের দরজার উপরের শেকল খুলে ঘরে প্রবেশ করলো; আমি ওর পেছনে পেছনে আসলাম; এই ঘরটি খুবই মজবুত করে তৈরি করা হয়েছিলো; ছোট ২টি রুম: একটা আমার, অন্যটা বুড়ামিয়ার; এখানে অন্য কেহ ভয়ে থাকে না। আমার রুমে একটা ছোট টিনে খই ছিলো, সে এক মুঠো নিয়ে খেতে লাগলো, সে বললো,
-এই ঘরটা খুবই সুন্দর, রাতে তোমার কেমন লাগে?
-তোমার নাম কি?
-পাগলী।
-ভালো নাম আছে?
-আনু।

সে আমার দুই একটা বই উল্টায়ে দেখলো, এই রুম থেকে ঐ রুমে যাচ্ছে, উপরে নীচে দেখছে। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছিলো, আমি বললাম,
-আনু, বেলা ডুবে গেছে, তুমি ছাগল নিয়ে বাড়ী চলে যাও।
-আমি আরেকটু থাকি?
-ঠিক আছে, থাক।
-আমি যদি রাতে এখানে তোমার পাশের কামরায় থাকতাম, আমার ভয় লাগতো না; আমি জানালা দিয়ে রাতে মাঠ দেখতাম।

ওর চোখে মুখে কেমন একটা আনন্দ! আমি বললাম,
- অন্ধকার হয়ে আসছে, তুমি বাড়ী চলে যাও।
তার মুখের আনন্দটা কোথায় যেন মিশে গেলো, সে ধীর পায়ে বেরিয়ে ছাগলটা নিয়ে চলে গেলো।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৮:৫১
২৬টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×