somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকার লোকেরা কুৎসিত চোখে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে?

১৬ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি চাকুরী নিয়ে নিউইয়র্কের এক গ্রামে এসেছি; দ্বিতীয় দিনই এক বাংগালী ভদ্রলোকের টেলিফোন পেলাম; তারপর দিন, উনার সাথে দুপুরের খাবার খেলাম। উনার নাম, ড: আবদুল্লাহ, এই এলাকায় ১৫ বছরের মতো আছেন; এক সময় ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ছিলেন। এলাকায় ৩০টা'র মতো বাংগালী পরিবার আছে। খাওয়ার সময় জানতে চাইলেন, আমি তাস খেলতে পছন্দ করি কিনা! আমি হ্যাঁ-সুচক উত্তর দিলাম; উনি প্রাণ খুলে হাসলেন; বুঝলাম, তাসের প্রতি উনার বেশ দুর্বলতা আছে; শনিবারে বিকেল ৫'টায় উনার বাসায় দাওয়াত।

আমি ঠিক ৫ টা'য় উনার বাড়ীতে এলাম, কেহ নেই! ঘরের পেছন ঘুরে দেখলাম, কেহ নেই! ঘরের সামনের দরজার কাছে এসে দাঁড়ালাম; ২/৩ মিনিট পরেই ১ টি গাড়ী এসে থামলো, একজন মেয়ে নামলেন, আমাকে সালাম দিয়ে বললেন,
-কাকা কাকীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন অনেক আগেই, কিন্তু ডাক্তারের দেরীর কারণে উনাদের দেরী হচ্ছে; আমাকে ফোন করে বলেছেন, আপনাকে বসাতে।

উনি কথাগুলো বলে যাচ্ছিলেন, আমি শুনছিলাম, উনার সালামের জবাবও মনে হয়, দেয়া হয়নি; মনে হচ্চিল, আমি উনার দিকে অনেক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম; উনি দরজা খুললেন, ঘরে এলাম। হঠাৎ নিজকে নিজের কাছে অনেকটা বেকুব বলেই মনে হলো; তিনি ছিলেন স্নিগ্ধ এক পরমা সুন্দরী নারী।

-আমি আপনার জন্য চা বানাই, আপনি বসেন; এই কথা বলে উনি কিচেনে গেলেন। এক মিনিট পরে কিচেন থেকে বললেন,
-আপনি চা বানাতে পারেন?
-হ্যাঁ, পারি।
-তা'হলে, আপনিই বানান, আমি একটুখানি ক্লান্ত; আমি বসে আপনার সাথে কথা বলি।

উনি আমাকে পাতিল, চা-পাতা, দুধ, চিনি সব বের করে দিলেন। আমি ২ কাপ চা বসালাম।
-আপনার স্ত্রীও আসার কথা ছিলো, কাকা বললেন।
-হঠাৎ করে ওর ভাই এসেছে নিউইয়র্ক শহর থেকে।

তিনি আমার তৈরি চা খেয়ে উহ আহ শুরু করলেন,
-আপনি দেখি খুবই ভালো চা তৈরি করেন; আমাকে একটু দেখিয়ে দেবেন।

মেয়েটির নাম জেসমীন, আবদুল্লাহ ভাই'এর ছাত্রের স্ত্রী, ১ মাইলের ভেতরে থাকেন। আমাদের চা খাওয়ার ভেতরেই আবদুল্লাহ ভাই ও ভাবী এলেন। একটু পরেই জেসমীন বিদায় নিচ্ছিলেন; ভাবী জেসমীনকে একটি ফুলের টব দিয়েছেন, মোটামুটি ভারী; জেসমীন আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
-টবটা একটু এগিয়ে দেন।

আমি টবটা গাড়ীতে তুলে দেয়ার পর, জেসমিন বললেন,
-কাকার কথায় বুঝলাম, উনি আপনাকে উনার তাসের সাগরেদ বানাবেন; আপনাকে এখানে ঘনঘন আসতে হবে; এখানে বেশ কিছু পরিবার আসে, অনেক সুন্দরী বউ আসে, আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।
-ওকে! আমি মাথা নেড়ে বিদায় জানালাম।

এখানে লোক অনেক, কিন্তু তাস খেলার লোক নেই; আমরা ৩ জন খুবই উৎসাহী, চতুর্থজন পাওয়া বেশ কষ্টকর; চতুর্থজন একজন আছেন, উনি খেলেনও ভালো; কিন্তু উনাকে আনতে ১০ বার কল করতে হয়, ৫ টায় আসবে বললে, ৬টার আগে আসে না, আবদুল্লাহ ভাইয়ের কোম্পানীতে চাকুরী করেন; নাম ছিলো জুবায়ের; আরো সমস্যা হলো, উনি স্ত্রী ব্যতিত আসেন না; স্ত্রী যেদিন আসতে পারে না, সেদিন উনি আসবেন না। মনে হয়, এর পেছনে কারণও ছিলো, উনার স্ত্রীটি ছিলো খুবই সুব্দরী। উনার স্ত্রীকে আমি প্রথম যেদিন দেখেছি, সেদিন আমরা বেইসমেন্টে বসে তাস খেলছিলাম; জেসমিন জুবায়ের সাহবেবের স্ত্রীকে আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য বেইসযমেন্টে নিয়ে এসেছিলো। পরিচয় ছিল শর্টকার্ট, সবার মন ছিলো খেলায়; কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম, জেসমীন মিটিমিটি হাসছেন, চোখ দু'টো আমার উপর। মেয়েটির নাম শিল্পী, পেশায় ইন্জিনিয়ার; সবেমাত্র পড়ালেখা শেষ করেছেন।

কয়েক সপ্তাহ তাস খেলার পর বুঝলাম, জুবায়ের খুব একটা উদার নন, উনার মেজাজও খুব একটা ভালো নয়; আমি উনার সাথে খেলাতে উৎসাহ হারাচ্ছিলাম। শীতকাল ছিলো, আবদুল্লাহ ভাই'এর মেয়ের জন্মদিন; ছেলেমেয়েরা সেটার আয়োজন করেছিলো রেষ্টুরেন্টে, তারপর বাসায়ও আড্ডার ব্যবস্হা ছিলো; আমরা তাস খেলার সুযোগ খুঁজছিলাম, জুবায়ের আসবে আসবে বলে চলেছে ঘন্টা দেড়েক; আবদুল্লাহ ভাই ১০/১৫ মিনিট পরপর ফোন করে যাচ্ছেন। অবশেষে, জুবায়েরেরা এলেন, খাবার দেয়া হয়েছে, লোকজন নিজেরা নিয়ে খাচ্ছেন; খাওয়ার মাঝখানে, হঠাৎ জুবায়ের প্লেট রেখে তার স্ত্রীকে বললেন,
-শিল্পি, হাত ধুয়ে নাও, আমাদের যেতে হবে!

শিল্পি খেতেছিলেন, উনি কেমন বিমর্ষ হয়ে গেলেন। আবদুল্লাহ ভাই জুবায়েরকে জিজ্ঞাসা করলেন,
-জুবায়ের কোন ইমারজেন্সী?
-হ্যাঁ, ইমারজেন্সী, পরে জানাবো। আপনারা চিন্তিত হবে না, কোন মৃত্যূ, বা এ্যাকসিডেন্ট নয়।

ওরা চলে গেলো। সবাই চিন্তিত, এমন কি ইমারজেন্সী যা বলতে পারলেন না; আবদুল্লাহ ভাই খুবই উদ্ভিগ্ন। আমি কেন যেন তেমন উদ্ভিগ্ন হলাম না; লোকটার আচরণ আমার কাছে কিছুটা আজগুবি মনে হতো। আমাদের তাস খেলা হচ্ছে না; রাজনীতি ফাজনীতি নিয়ে বকবক চলছে। জেসমীন চা নিয়ে এলেন। আবদুল্লাহ ভাই জেসমীনকে বললেন,
-জেসমীন, ফোন করে শিল্পী থেকে জেনে নাও তো কি হয়েছে, আমি খুবই উদ্ভিগ্ন।

কয়েক মিনিট পর, জেসমীন ফিরে এসে আবদুল্লাহ ভাইকে কানে কানে কি একটা বললেন; আবদুল্লাহ ভাই হো হো করে হাসলেন, তারপর বললেন,
-জুবায়ের একটা বড় ইডিয়ট।
সবাই আবদুল্লাহ ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে! সবাই জানতে চান কি হয়েছে। আমি লক্ষ্য করলাম জেসমীন আমার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছেন।

অবশেষে আবদুল্লাহ ভাই মুখ খুললেন, "কে একজন নাকি শিল্পির দিকে কুৎসিতভাবে তাকায়েছে, সেইজন্য জুবায়ের চলে গেছে; কি ধরণের ইডিয়ট সে!"

সবাই ২/১ মিনিট সেটা নিয়ে হাসাহাসি করে রাজনীতিতে মন দিলেন। জেসমীন বললেন ,
-কারো চা লাগবে?

আমি আমার খালি কাপটা নিয়ে জেসমীনের পেছনে পেছনে কিচেনে গেলাম। জেসমীন বললেন,
-চা শেষ হয়ে গেছে, চা বসাচ্ছি, আমি নিয়ে আসবো; আপনি আড্ডায় যোগ দেন, চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, সেটা আপনি নন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৫
৪৫টি মন্তব্য ৪৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাদীস সংগ্রাহক

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৬



হাদীস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মুসলমানদের জন্য।
যদিও দুষ্টলোকজন হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে থাকেন। তাতে সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে হয় মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুড ওল্ড নাইন্টিজ

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৭ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:৪২



আমরা গল্প করছিলাম সাত্তার মিয়ার চায়ের দোকানে বসে। সাত্তার মিয়া জঘন্য চা বানায়। আমার বন্ধু সোবহানের মতে এই চা ঘোড়ার মুতের সমতূল্য। সাত্তার মিয়ার সামনেই এসব আলোচনা করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাহায্যও নাকি আবার বেআইনী হয়? দুনিয়ার ম্যাঁওপ্যাঁও

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



আমি কুইন্স বরোর সীমানার সাথে লাগানো, লংআইল্যান্ডের একটা এলাকায় বেশ কিছু সময় চাকুরী করেছিলাম; এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে এক সাদা রমনীকে সাহায্য করে, ধন্যবাদের বদলে হুশিয়ারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি নিয়ে আসলে রাজনীতি করেছে কারা, ছবির জন্য নামাজ পড়িয়েছে কারা

লিখেছেন গুরুভাঈ, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৮:২৪



ছবি দেখুন। আমাদের যে ছবিটা দেখানোর জন্য এই নামাজের আয়োজন করা হয়েছে আমরা শুধু সেই ছবিটাই দেখেছি এবং অনেকে দ্বিদ্ধানিত আছি এই ভেবে যে হয়ত আসলেই শুকনা জায়গা ছিলোনা বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন কাটালাম এবারের ঈদ!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৯:১৩

(পোস্টটা গতকালের লেখা)

গতকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর গত হয়ে গেল! মনের মাঝে আনন্দ বিষাদের বিচিত্র সব অনুভূতি খেলা করে চলছিল সেই সকাল থেকেই। এবারের রোযার মাসটা আল্লাহতা’লার অশেষ রহমতে খুব ভাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×