
গত বছর জুলাই মাস থেকে করোনাকে আর ভয় পাচ্ছি না, ইহা ভালো কি খারাপ, ব্লগার নুরু সাহেব থেকে জানার দরকার আছে, মনে হয়। আমরা ৭ জন বাংগালী মোটামুটি আড্ডা টাড্ডা দিই মাঝে মাঝে, এর মাঝে ৬ জনের করোনা হয়ে ভালো হয়ে গেছে, বাকী আছি আমি; অবশ্য, তাদের বয়স মোটামুটি ৫৫ বছরের নীচে। গত জুলাই থেকে, আমি সব যায়গায় যাচ্ছি, বাজার করছি, ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি, করোনা যে আছে, অনেকটা কেমন যেন ভুলে গেছি।
গত বছর ফেব্রুয়ারী মাসে করোনার খবর পাবার পর, সামুতে লেখার আগেই আমার সাথীদের হুশিয়ার করেছি; পরে সামু থেকে যা জেনেছি, তাদের সবাইকে সব জানিয়েছি; কিন্তু লাভ হয়নি, সবার করোনা হয়ে গেছে; মনে হয়, আমি যা বলেছি, তাদের এক কান দিয়ে ঢুকে অন্য কান দিয়ে বের হয়ে গেছে।
৪ জন বাংগালী সমাজসেবক গত বছর মে'মাস থেকে জুনের ভেতর, বয়স্ক হিসেবে আমার খোঁজখবর নিয়েছেন; কষ্টের কথা হলো, এঁদের মাঝে ৩ জন করোনার কাছে পরাজিত হয়েছেন। আমার খোঁজ খবর নেয়ার সময়, আমি উনাদের বলছিলাম যে, এখন মানুষ থেকে দুরে থাকতে; সবাই ভুল করে আমাকে একই কথা বলেছিলেন, করোনাকে মানুষ অকারণ বেশী ভয় করছেন; এখন আমাও ভয় কেটে যাওয়াতে নিজের কাছেই যেন কেমন কেমন লাগছে; এদিকে দেখছি নুরু সাহেব 'জার্নি বাই লন্চ' করে, ইলিশ খাচ্ছেন।
আমাদের কাছাকাছি, কালো এলাকায় "ওয়াক-ইন" টিকা দিচ্ছে; এক বাংগালী বয়স্ক মানুষ ২ দিন গিয়ে ফেরত এসেছেন; উনার বয়স ৬৫ বছর হয়নি, ৬৪ বছর ৮ মাস, ৪ মাসের হেরফেরে টিকা পাচ্ছেন না; ট্যাক্সি ভাড়াগুলোও বৃথা গেছে; উনার ইংরেজী সমস্যা আছে। গত সপ্তাহে আমি উনাকে নিয়ে গেলাম, আমি ভেবেছিলাম, বুঝায়ে বললে চলবে, উনার ডায়াবেটিস আছে। সকাল খুব ভোরে গেছি, কাউয়া ডাকার আগেই; দেখি লাইন নেই; দরজায় একজন সিকিউরিটির লোক কাগজ দেখে লোক ঢুকানোর কাজ করছে, সে না করে দিলো; আমি বললাম,
-আমি কোন সুপারভাইজারকে একটু বুঝায়ে বলি লোকটার ডায়েবেটিস আছে, আরো ২ দিন এসে ফেরত গেছে।
সে আমাকে ভেতরে যেতে দেবে না। আমি অনুরোধ করলাম, সুপারভাইজারকে ডেকে দিতে; সে আমাকে বলে,
-এখন সুপারভাইজার ব্যস্ত, ৪টার পর এসো।
-তুমি দরজায় দাঁড়ায়ে আছো, তুমি কি করে দেখছ যে, সুপারভাইজার ব্যস্ত?
-আমার যা বলার আছে, বলেছি, এখন যাও।
দরজায় বড় করে লাথি মারলাম; সে চীৎকার করে আরো সিকিউরিটি ডাকলো; ২ জন এসে উপস্হিত; আমার ও ওদের চীৎকারে সুপারভাইজার টাইপের একজন বেরিয়ে আসলো। সুপারভাইজার আমাকে লক্ষ্য করে বললো,
-তুমি এই ভোরে এখানে চীৎকার দিচ্ছ কেন?
আমি ব্যাপারটা বললাম, এবং বললাম যে, সিকিউরিটি আমাকে ভেতরে গিয়ে তোমার সাথে কথা বলতে দিচ্ছে না, এবং তোমাকে ডেকেও দিচ্ছে না, তাই চীৎকার দিচ্ছি। সে বললো,
-চীৎকার দেয়ার কারণে তোমাকে টিক দেয়া হবে না।
-আমার টিকার দরকার নেই; তুমি ১০/২০টা টিকা নিয়ে বসে থাক; তারপরও করোনা তোমাকে খুঁজে বের করবে।
আরো মাইল দশেক দুরে গিয়ে, ঐ লোকটার টিকার ব্যবস্হা করলাম; লোকটা আমাকে বলেন,
-ভাই, আপনি তো মারামারি লেগে যাচ্ছিলেন।
-ইহার দরকার ছিলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ২:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


