
**** কমেন্ট ব্যানে আছি, আপনাদের পোষ্টে মতামত জানাতে পারছি না।
কৈশোর থেকে ছিঁচকাঁদুনেদের নিয়ে সমস্যায় আছি, এদের নালিশের শেষ নেই; একবার, একদিনে ২ ছিঁচকাঁদুনের পাল্লায় পড়তে হয়েছিলো, এটা সেই কাহিনী।
তৃতীয় শ্রেণী শেষ করেছি, ভাবী উনার বাপের বাড়ীতে যাচ্ছেন, সাথে গেছি আমি; এই বাড়ীতে বেড়াতে এলে আমি ২/১ রাত থাকি; উনাদের বাড়ীর পেছনে সমুদ্রের বেড়িবাঁধ; বাঁধের সাথে লাগানো মাছানের উপর উনাদের ভেঁড়ার খামার; জোয়ার এলে খামারের নীচে কোমর সমান পানি আসে, মাছানের উপর বসে দেখতে খুবই ভালো লাগে। সেদিন দুপুরের খাবার খেয়ে, উনাদের কাছারী ঘরের সামনে দল বেঁধে ফুটবল খেলছি।
খেলার আনন্দটা মাটি করে দিচ্ছিল আমার ছোট খালুর বড় ছেলেটা, বকুল; উহা বয়সে আমার থেকে বছর খানেকের বড়, থাকে চিটাগং শহরে, বাবা রেলওয়েতে চাকুরী করেন; শহরে থাকার ফলে, চেহারাটা একটু ফ্যাকাসে, মেজাজটা খিটখিটে; আমার বিপরিতে খেলছে ; আমাদের পক্ষ গোল করার সাথে সাথেই ফিফা মিফার কোন অজানা রুল খাটায়ে গোলটিকে 'বেঠিক' ঘোষনা দেয়। ২য় গোল বাদ দেয়ায় আমি প্রতিবাদ করলাম, প্রতিবাদের উত্তরে সোজাসুজি নাক বরাবর ঘুষি মেরে দিলো। আমি বললাম,
-শোন, এভাবে ঘুষি টুষি মারলে, ঘাঁড়টা মটকায়ে দেবো!
-কি বললে, তুমি আমার ঘাঁড় মটকাবে?
সে বলটাকে হাতে নিয়ে কান্নার সুরে নিজের মাকে ডাকতে ডাকতে বাড়ীর ভেতরে চলে গেলো; একটু পরে খালাম্মা ( উহার মা), উনার বোনটোন মিলে কয়েকজন এসে উপস্হিত; আমার ভাবীও এসেছেন। খালা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
-ওমা, এই কি মেহমান! বুকলকে নাকি ঘাঁড় মটকানোর কথা বলেছে মেহমান?
-হ্যাঁ বলেছি।
-বকুল, ঘরে যাও, এসব খেলা আর মারাারির দরকার নেই, এগুলো গ্রামের ছেলে, এরা নিয়ম কানুন বুঝে না; উনি রায় দিলেন।
আমার ভাবীর মুখখানা কালো হয়ে গেলো; আমি পুকুরঘাটে গিয়ে হাতমুখ ধুয়ে শার্টটা পরে, ভাবীকে বললাম,
-আমি বাড়ী যাচ্ছি, আপনি থাকেন, আমি এসে নিয়ে যাবো।
-এভাবে যেতে হয় না; বাড়ীর লোকজন কি বলবে?
ভাবী আমাকে জানতেন। আমি বাসে করে বাড়ী রওয়ান হলাম। উনাদের বাড়ী থেকে ফেরার পথে, আমাদের এলাকা থেকে ৪/৫ মাইল দক্ষিণে বিশাল এক মাঠ দেখা যায়, মাঠের পশ্চিম পারের গ্রামটা দুর থেকে কেমন রহস্যময় লাগতো; আজকে সেই গ্রাম বরাবর বাস থেকে নেমে গেলাম, গ্রামটি দেখে যাবো। গ্রমাের মাঝ দিয়ে হাঁটলাম, আসলে দরিদ্র গ্রাম; গ্রামের পশ্চিম পাশে আরেকটি মাঠ, উহা ধরে উত্তর দিকে ( আমাদের দিকে) যাচ্ছি; অনেক জমিতে টমেটো, কপি, ঢেড়স, ইত্যাদি করেছে; হঠাৎ দেখি একটি ছোট জমিতে পতেংগার তরমুজ করেছে। আমরা কখনো পতেংগার তরমুজ চাষ করিনি, আমরা অনেকটা কালছে ও গোল ধরণের এক জাতের তরমুজের চাষ করি। পতেংগার তরমুজ লম্বা, দেখতে বেশ সুন্দর। আমি জমিনে ঢুকে লতাগুলো ও তরমুজ দেখছি কাছের থেকে; এমন সময়, জমির পুর্বপাশের বাড়ী থেকে লাঠি হাতে চীৎকার দিতে দিতে এক মেয়ে বেরিয়ে এলো; বয়সে আমার থেকে একটু বড়সড় হতে পারে; কাছে এসে আমাকে বলে,
-জমি থেকে বের হও, তরমুজ চুরি করতে এসেছ, বের হও, পিটায়ে লম্বা করে দেবো!
-তরমুজ দেখছি, আমি বললাম।
-জমি থেকে বের হও, চোর!
সে আমার সামনে এসে লাঠি নাড়ছে; আমি একটানে লাঠিটা নিয়ে নিলাম। উহা হঠাৎ হাউমাউ করে, চীৎকার দিয়ে বাড়ীর দিকে ছুটলো; ভাবলাম, কি কান্ড, আজকের দিনটা ভালো নয়। আমি লাঠিটা ফেলে দিয়ে আমার পথে চললাম; ৪০০/৫০০ গজ না যেতেই পেছন থেকে চীৎকার শুনছি-
-এই ছেলে দাঁড়া, এই ছেলে দাঁড়া।
দেখি, খালি গায়ে লুংগি পরা এক লোক দৌড়াতে দৌঁড়াতে আসছে; পেছনে ঐ মেয়েটা, মেয়ের হাতে আবারো লাঠি; উহাদের পেছনে এক মহিলাও আসছেন। আমি দাঁড়ালাম, পরে ওদের দিকে রওয়ানা হলাম; লোকটা কাছে কাছে এসে বললো,
-আমাদের জমিতে কি করছিলা?
-আপনাদের পতেংগার তরমুজ দেখছিলাম!
-চুরি করতে চাইছিলা?
-না, আমরাও তরমুজ চাষ করি।
আমার কাপড়চোপড় দেখে মনে হয়, চোর মনে করেনি; কিন্তু লোকটিকে বেশ রাগান্বিত মনে হলো।
-তোমাকে আর যেন জমিতে না দেখি।
মহিলাটা কাছে এসে, আমাকে দেখে লোকটাকে বাড়ী ফিরতে বলে, নিজে চলে গেলেন বাড়ীর দিকে। আমি আমার পথ ধরলাম, মেয়েটা লোকটার পেছনে হেঁটে যারার সময় পেছনে তাকালো, আমি হাত নেড়ে দিলাম; মেয়ে আমাকে লাঠি দেখালো; এই জল্লাদ মেয়ে যার ভাগে পড়বে, উহার কর্মশেষ!
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২১ রাত ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




